‘মৃত্যুপুরী’ শাহ আরেফিন টিলায় পাথর তোলা নিষেধ
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ‘মৃত্যুপুরী’ শাহ আরেফিন টিলায় পাথর তোলা নিষিদ্ধ করেছে প্রশাসন। মঙ্গলবার বিকেলে মাইকিং করে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
এ সময় টাস্কফোর্সের অভিযানে কোয়ারি এলাকার ৩০টি ছাউনিঘর গুঁড়িয়ে দিয়ে আগুনে পুড়ানো হয়েছে। হাইকোর্টে করা রিট আদেশ স্থগিত করায় সব পন্থায় পাথর তোলা স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউএনও সুমন আচার্য্য।
তিনি বলেন, বশির অ্যান্ড কোং এর পক্ষে মোহাম্মদ আলী ২০০৪ সালে উচ্চ আদালতে রিট করেন। রিটের মাধ্যমে সময় বাড়িয়ে দীর্ঘদিন থেকে পাথর তুলে আসছিলেন। গত ২১ জানুয়ারি রিট আদেশের আদেশের শুনানিতে আগামী এপ্রিল পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। এর বিপরীতে সোমবার সরকার পক্ষ উচ্চ আদালতে গেলে মোহাম্মদ আলীর করা রিট আদেশ স্থগিত করা হয়। এর ফলে কোনো পন্থাই শাহ আরেফিন টিলা থেকে পাথর উত্তোলন করা যাবে না।
.png)

ইউএনও সুমন আচার্য্য আরো বলেন, রিট আদেশ স্থগিত হওয়ায় মঙ্গলবার পুলিশ ও বিজিবির সহায়তায় টাস্কফোর্সের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে মাইকিং করে সব প্রক্রিয়ায় পাথর তোলা নিষিদ্ধের বিষয়টি জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
এ সময় ৩০ ছাউনিঘর গুঁড়িয়ে দিয়ে আগুনে পুড়ানো হয়েছে।
অবৈধভাবে পাথর তোলার ফলে সিলেটের পাথর কোয়ারিগুলো যেন হয়ে উঠছে মৃত্যুপুরী। ঝুঁকিপূর্ণ গর্ত থেকে পাথর তুলতে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে প্রাণহানির ঘটনা। মাটিচাপা পড়ে একের পর এক ঘটনায় বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। গত এক মাসে সিলেটের বিভিন্ন পাথর কোয়ারিতে অন্তত সাতজনের প্রাণহানি হয়েছে। আর গত তিন বছরে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৮০ জন।
এদিকে টানা কয়েক দিনে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় কৌশলী অভিযানে নামে উপজেলা প্রশাসন। বিভিন্ন কোয়ারিতে অভিযান চালিয়ে পাথরের গর্ত পানি ভর্তি করে ও বাসস্থান ভেঙে শ্রমিকদের ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে বাড়িতে। এরই মধ্যে উপজেলার ভোলাগঞ্জ, কালাইরাগ ও শাহ আরেফিন টিলা কোয়ারি থেকে তিন হাজারের বেশি শ্রমিককে বাড়ি পাঠানো হয়েছে।