সিজারের পর পেটে গজ থাকার অভিযোগ, অসুস্থ নার্সের বাড়িতে ইউএনও
সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠা ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ নার্স বিথী আক্তারের বাড়িতে গিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল হুদা। এ সময় তিনি বিথীর চার মাসের শিশুকে কোলে নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তার চিকিৎসায় সরকারি পর্যায় থেকে সম্ভবপর সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তমিজ উদ্দিন মৃধাপাড়া গ্রামে বিথীর স্বামীর বাড়িতে যান ইউএনও। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খানও উপস্থিত ছিলেন।
বিথীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে ইউএনও তার চিকিৎসার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চান। পাশাপাশি বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা এবং চিকিৎসার জন্য পরিবারের কী ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন, সে বিষয়েও খোঁজখবর নেন।
.png)
প্রশাসনের এই উদ্যোগে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিথীর স্বামী মো. রাকিবুল ইসলাম ও পরিবারের সদস্যরা। স্থানীয়রাও অসুস্থ নার্সের পাশে উপজেলা প্রশাসনের এভাবে দাঁড়ানোর বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিথী আক্তারের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার হয়। পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকদের অবহেলায় তার পেটের ভেতর গজ থেকে যায় এবং সেটি রেখেই সেলাই করে দেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর থেকেই তিনি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগতে শুরু করেন।
পরিবারের দাবি, শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথম অস্ত্রোপচারের প্রায় দুই মাস পর বিথীকে আবারও বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করাতে হয়। পরবর্তীতে তার পেটের নাড়িতে জটিলতা দেখা দেয়। একপর্যায়ে তাকে আইসিইউতে চিকিৎসা নিতে হয়। বাইপাস সার্জারিসহ একাধিক জটিল চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বর্তমানে বিথী গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পরিবার জানিয়েছে। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার কারণে তার শারীরিক ওজনও ব্যাপকভাবে কমে গেছে। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, একসময় তার ওজন ছিল ৬১ কেজি; বর্তমানে তা কমে ৩৯ কেজিতে দাঁড়িয়েছে।
চার মাস বয়সী সন্তান জন্মের পর থেকেই মায়ের শারীরিক অসুস্থতার কারণে স্বাভাবিকভাবে মায়ের সান্নিধ্য পাচ্ছে না। বিথী নিজেও সন্তানকে কোলে নেওয়া কিংবা তাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর মতো অবস্থায় নেই বলে জানিয়েছে পরিবার।
ইউএনও মো. সাইফুল হুদা বলেন, ‘বিথীর অসুস্থতার বিষয়টি আগে আমার জানা ছিল না। সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। খবর পাওয়ার পরই তার চার মাসের শিশুসন্তান ও পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি।’
তিনি বলেন, ‘বিথীর মতো একজন নার্সের সঙ্গে যদি চিকিৎসা নিয়ে এমন অভিযোগ ওঠে, তাহলে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে কী পরিস্থিতি হতে পারে, সেটিও ভাবার বিষয়। আমরা বিষয়টি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করছি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি যথাযথভাবে দেখবে।’
ইউএনও আরও বলেন, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিথীর পরিবারকে নগদ অর্থ এবং তার শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় কিছু সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। তার পরিবারের পাশে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন থাকবে এবং নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হবে। সরকারি পর্যায় থেকে যতটা সম্ভব সহযোগিতা করারও চেষ্টা করা হবে।
এদিকে স্থানীয়রা বিথীর উন্নত চিকিৎসার পাশাপাশি অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।