শিমুল-পলাশে ছেয়েছে প্রকৃতি
বাহারি শিমুল-পলাশ ফুলে ছেয়ে গেছে নাটোর শহর। রাশি রাশি ফুল যেন প্রকৃতিতে মধুর বসন্তের বার্তা দিচ্ছে। পলাশের রূপে মুগ্ধ হয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন, ‘রাঙ্গা হাসি রাশি রাশি অশোক পলাশে।’ বসন্তের বার্তা বাহক বলা হয় পলাশ ফুলকে। পলাশ ছাড়া বসন্ত যেন পূর্ণতা পায় না।
বসন্তের আগমনী বার্তা দেয় নাটোর শহরের প্রাণকেন্দ্রে পুরোনো স্টেডিয়াম সংলগ্ন জেলা আনসার কার্যালয়ের পলাশ গাছটি। শত বছরের পুরোনো এ গাছে প্রতিবছর শীতের শেষে কমলা রঙের ফুল ফুটতে শুরু করে। এখন গাছটি ফুলে ফুলে পূর্ণ যৌবনা। শুধু গাছেই নয়, ঝরে পড়া ফুলের কমলা কার্পেট বিছিয়ে আছে গাছের নিচেও।
বাবার সঙ্গে পলাশ ফুল দেখতে এসেছেন নাটোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিদরাতুল মুনতাহা। তিনি বলেন, প্রতিবছর এ সময় স্টেডিয়ামে পলাশ ফুল দেখতে আসি, হাত ভরে ফুল কুড়াই। অন্যরকম একটা ভালোলাগা কাজ করে।
.png)
পলাশ গাছের উপস্থিতি চোখে পড়ে রাণী ভবানী রাজবাড়ি চত্বরে। রাজবাড়ির সহকারী ভূমি কমিশনারের অফিসের পেছনে আর সরকারি কর্মকর্তাদের বাসভবনের সামনে শোভা পাচ্ছে পলাশ গাছ।
পলাশ ফুলের হারিয়ে যাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নাটোর দিঘাপতিয়া এমকে অনার্স কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, শিমুল আর পলাশ ফুল ছাড়া বসন্ত পূর্ণ হয় না। আমাদের কলেজ প্রাঙ্গণে পরিকল্পনা করে কয়েকটি পলাশ গাছ লাগানো হবে। কামিনী, ভেটিসহ অন্যান্য ফুলের কারণেও বসন্ত সমৃদ্ধ।
সংগীতশিল্পী মাসুমা সুলতানা রূপার মতে, বসন্তের সৌন্দর্যকে বুঝতে হলে শুক্লা নবমীর দিন থেকে পূর্ণিমা পর্যন্ত প্রকৃতির মাঝে অবগাহন করতে হবে। এসব রাতে জোছনা অবগাহনের সুযোগ পেলে বসন্তের মহিমা আরো ভালোভাবে উপভোগ করা যাবে।
এবারের বসন্তে ফাগুনের পয়লা দিনে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহরে বসন্ত বরণ শোভাযাত্রা ও রাণী ভবানী রাজবাড়ির মুক্ত মঞ্চে সাংস্কৃতিক আয়োজন করা হয়।
নাটোরের ডিসি ও রাণী ভবানী উদ্যান ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. শাহরিয়াজ বলেন, রাজবাড়ির চত্বরের হ্রদে হেলে পড়া পলাশ গাছটি সংরক্ষণে ব্যবস্থা নেয়া হবে। নতুন করে কিছু পলাশ গাছও রোপণ করা যেতে পারে। আমরা ঐতিহ্যবাহী এ শহরকে ফুল-পাখির শহরে রূপান্তরিত করতে চাই।