ছাতা মেরামতে চলে না জীবন
ছাতার ব্যবহার এক দিনেই হয়ে উঠেনি। মানব সৃষ্টির শুরুর সময় থেকে মানুষ কচু শাকের পাতা আর কলা গাছের পাতা দিয়ে বৃষ্টির পানি প্রতিরোধের মাধ্যমে ছাতার কাজ চালাতো।
বৃষ্টি আর প্রচণ্ড রোদ হলেই প্রয়োজন হয় ছাতার। ঝমঝম আর টিপটিপ বৃষ্টি যেটাই বলেন, বৃষ্টিতে ছাতার কোনো বিকল্প নেই।
এক সময় দেখা যেতো গ্রামে গ্রামে বিভিন্ন এলাকার ফেরি করে ছাতা মেরামত করতে আসতো কারিগররা। আষাঢ় মাসের এই বর্ষা মৌসুমে অস্থায়ী ফুটপাতের এই দোকানগুলোতে থাকতো উপচে পড়া ভিড়। এই পেশার মাধ্যমে পদ্মাপাড় এলাকার অনেকেই জীবিকা নির্বাহ করত।
কিন্ত আধুনিক সভ্যতার বিকাশের মাধ্যমে আজ আর চোখেই পড়ে না ছাতা মেরামত কারিগরদের। পূর্বের চেয়ে এখন দিন দিন পেশাটি দেশে বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছে।
আগে এক সময় বরিশাল নগরীর জেলা পরিষদ পুকুরপাড়, চকবাজার মোড়, (সাবেক) চামারপট্রি, চকেরপুল জুড়ে বসতো ছাতা মেরামতের কারিগররা। শুধু জেলা পরিষদ পুকুর পাড়েই নয় বরিশাল নগরীর বিভিন্ন স্থানে দেখা যেত ছাতা মেরামত কারিগরদের। বর্ষা আসলেই ছাতা মেরামত কারিগরদের মুখে হাসি ফুটে উঠতো কিন্তু এখন নেই সেই ছাতা মেরামত কারিগর।
আলাপ হয় ছাতা মেরামতকারী কাঞ্চন আলীর সঙ্গে। তিনি বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ছাতা মেরামত করেন। হরেকরকমের ভাঙা ছাতা মেরামত করেন তিনি। আর কাজ বুঝে বেশ দামও নিচ্ছেন।
ছাতা মেরামত করতে আসা রফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছোটবেলায় দেখতাম মোড়ে মোড়ে ছাতা মেরামতের মিস্ত্রি পাওয়া যেতো। কিন্তু এখন আর ছাতা মিস্ত্রিদের চোখেই পড়ে না। তাছাড়া, ছাতা মেরামত করতে যে টাকা লাগে, তার সঙ্গে কিছু টাকা দিয়ে নতুন ছাতা কেনা যায়।
যেখানে আগে বরিশাল নগরীর মোড়ে মোড়ে ছাতা মেরামত করার কারিগর পাওয়া যেত, সেখানে বিভিন্ন এলাকা ঘুরলেও একজন ছাতা মেরামত করার কারিগর পাওয়া যায়। দিন যত যাচ্ছে ততই বিলুপ্তির পথে চলে যাচ্ছে ছাতা কারিগরদের এই পেশা।