ঢাকা,  শনিবার   ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ স্বাস্থ্যকথা ]

গরম কিছু খেতে গিয়ে জিহ্বা পুড়েছে?

কানিছ সুলতানা কেয়া
প্রকাশিত: ১৩:৪৮, ২৭ নভেম্বর ২০১৯
গরম কিছু খেতে গিয়ে জিহ্বা পুড়েছে?
ছবি: সংগৃহীত

ধোয়া ওঠা গরম কফি বা পিজ্জা সামনে আসলেই লোভ সামলে রাখা কঠিন। হয়তো কফির মগে চুমুক দিয়েই ফেলেন, অতঃপর পুড়ে যায় জিহ্বা! অনেক সময় আচমকা গরম কিছু খেলে জিহ্বা পুড়ে যায়। পরবর্তীতে আপনার পক্ষে কিছু খাওয়া কঠিন হয়ে যায় এবং কথা বলার সময় অস্বস্তিও বোধ হতে পারে।  

আমাদের মুখের ভেতরের টিস্যুগুলো খুব সূক্ষ্ম হয়ে থাকে। ফলে গরম খাবার এবং পানীয় দ্বারা সহজেই পুড়ে যায়। চর্বিযুক্ত তেল এবং অন্যান্য পানীয়গুলো দীর্ঘ সময় তাপ ধরে রাখে। ঠান্ডা হওয়ার আগে এগুলো খেলে আপনার মুখের ভেতরের ত্বক পুড়ে জ্বলতে পারে। বাড়িতেই করতে পারেন এর প্রাথমিক চিকিৎসা। তাহলে জেনে নিন কোন উপাদানগুলো আপনাকে আরাম দেবে পোড়ার জ্বালা থেকে-

ঠান্ডা পানি 
আপনি যদি দুর্ঘটনাক্রমে আপনার মুখ পুড়িয়ে ফেলেন তবে আপনার প্রথমেই করণীয় হল ঠান্ডা পানি পান করা। আমেরিকান ডার্মাটোলজি একাডেমি অনুসারে, যদি কোনো ব্যক্তির মুখের ভেতর পুড়ে যায় তবে তাদের সঙ্গে সঙ্গে ১০ মিনিটের জন্য এই জায়গাটি ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। অথবা বরফ লাগাতে হবে।        

Advertisement

মধু  
মুখ পুড়ে গেলে মধুর চেয়ে উপকারী আর কিছুই হতে পারে না। মধু পোড়া জায়গাটিকে আর্দ্র রাখে। মিষ্টি জাতীয় খাবারে অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা ক্ষতিকারক অণুজীবকে দূর করে পোড়া নিরাময় করে। 
 
দই বা দুধ

দই খাওয়া বা ঠান্ডা দুধ পান করলেও মুখের অস্বস্তি কমে যায়। দই বা দুধ পুড়ে যাওয়া ত্বকে একটি আবরণ তৈরি করে। যা জ্বালা এবং চুলকানি রোধ করে। ক্ষতকে আর্দ্র রাখতে এবং নিরাময় করতে সহায়তা করে।  
  
পুদিনা   
পুদিনায় রয়েছে মিথানল। যা আপনার মুখের জ্বলনভাব কমিয়ে দেয়। অ্যান্টি-ব্যাকটিরিয়াল বৈশিষ্ট্যযুক্ত পুদিনা সংক্রমণের ঝুঁকিও কমায়। আপনি আপনার জিহ্বায় পুদিনা টুথপেস্ট ব্যবহার করতে পারেন বা স্বস্তির জন্য পুদিনা পাতাও চিবিয়ে খেতে পারেন।  
 
ভিটামিন ই তেল
ভিটামিন ই জ্বলন্ত জিহ্বাকে প্রশান্ত করে এবং নিরাময় প্রক্রিয়াতে সহায়তা করে। একটি ভিটামিন ই ক্যাপসুল এর ভেতরের তেল বের করে নিন। পুড়ে যাওয়া জায়গায় তেলটি ব্যবহার করুন। এটি আপনাকে তাৎক্ষণিক আরাম দেবে।  

এছাড়াও এ সাধারণ ঘরোয়া প্রতিকারগুলো অনুসরণ করা ছাড়াও আপনার কিছু খাবার এড়িয়ে চলুন। যেমন:    

> গরম, নোনতা এবং কাঁচা জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।  
> অ্যালকোহল এবং তামাকজাতীয় পণ্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন।    
> প্রচুর পরিমাণে তরল পান করুন। 
> অ্যাসিড জাতীয় খাবার যেমন- টমেটো এবং কমলার রস খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

এক সপ্তাহের মধ্যে ভালো না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এছাড়াও, পরের বার গরম খাবার খাওয়ার সময় সাবধানতা অবলম্বন করুন।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া 

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!