ঢাকা,  শনিবার   ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ ক্যাম্পাস ]

নবীন শিক্ষার্থীদেরকে বরণ করে নিলো রাবি ছাত্রশিবির

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যায় প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:২৮, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নবীন শিক্ষার্থীদেরকে বরণ  করে নিলো রাবি ছাত্রশিবির

রাবি প্রতিনিধি 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়ে নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় ৩৮০০ নবীন শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন।

Advertisement

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেয় সংগঠনটি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় হুইপ ও ইসলামি ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি  মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি বলেন বৈষম্য, অন্যায়, অসত্য ও দলীয়করণের বিরুদ্ধে আন্দোলনের পরও রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দলীয়করণ চলছে। আমরা চাই গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হোক এবং রাষ্ট্র কাঠামোয় ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা হোক। গুম-খুনের মতো ঘটনাগুলোর তদন্তের ক্ষেত্রেও বিতর্কিত আইন করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের পথ তৈরি করতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার জনগণের। প্রয়োজন হলে জনগণ আবারও আন্দোলনে নামবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা কাম্য নয়। শিক্ষকদের মূল দায়িত্ব হচ্ছে শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক ও ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা।

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরাই ভবিষ্যতে দেশের নেতৃত্ব দেবে। তাই এখন থেকেই নিজেদের যোগ্য, সৎ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে এবং দেশের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম নবীন শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, আমি যখন এখানে ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসেছিলাম তখন কেউ তাদের রাজনৈতিক পরিচয় বহন করতে পারতো না। এখানে শিক্ষার্থীরা সর্বজনীন জ্ঞান অর্জন করবে। আমরা এখানে আসি ক্যারিয়ার তৈরি করতে কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে এখানের‌ই শিক্ষক হিসেবে যোগ দিতে হলেও রাজনৈতিক হাই-হ্যালোর প্রয়োজন হয়। অযোগ্যরা সুপারিশে যোগ্যদের স্থান দখল করে। পরবর্তীতে ঐ শিক্ষক ক্লাস রুমে শিক্ষার্থীদের বিরক্তের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।  

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, বাইরের দেশগুলোতে কোনো প্রতিষ্ঠানে একটি বিষয় শুরু করার  সরকারকে আগে তার ক্ষেত্র দেখাতে হয়। কিন্তু আমাদের এমন কোনো নিয়মাবলী নেই। আমাদের শিক্ষক মূল্যায়ণ পদ্ধতি ও নাই। 

তিনি বলেন, ৪ বছর পড়ার পরে শিক্ষার্থীরা জানে পূর্বের কোনো পড়ালেখা তাদের চাকরি ক্ষেত্রে কাজে লাগছে না। এই অব্যবস্থাপনার জন্য শিক্ষার্থীরা মানসিক দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। একটি বড় অংশ আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। কিন্তু এটাতো বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন হ‌ওয়ার কথা নয়। এটা আরো পরিকল্পিত হ‌ওয়া উচিত ছিল।
শিক্ষক ও সরকার এবং রাষ্ট্রকে তরুণদের নিয়ে ভাবার কথা ছিল। কিন্তু আমরা তার ব্যাতিক্রম দেখছি। 

রাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, আমরা বড় বড় মনীষীদের কথাগুলো পড়ি, তাঁদের অনুসরণ করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু অনেক সময় তাঁদের কথার সঙ্গে তাঁদের বাস্তব জীবনের কর্মকাণ্ডের মিল খুঁজে পাই না। ফলে আমরা বিভ্রান্ত হয়ে যাই। আমাদের বুঝতে হবে, শুধু শারীরিকভাবে বড় হওয়া নয়, গুণ ও নৈতিকতার দিক থেকে বড় হওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, আমাদের যাঁরা শেখান, তাঁদের জীবন ও বক্তব্যের মধ্যে যদি অসঙ্গতি থাকে, তাহলে সেখান থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়ার জায়গাটিও প্রশ্নের মুখে পড়ে। কোনো ব্যক্তি মানুষকে যে আদর্শ বা সফলতার পথ দেখাচ্ছেন, তিনি নিজে সেই আদর্শ কতটা অনুসরণ করছেন—সেটিও আমাদের বিবেচনা করা উচিত।

নবীন শিক্ষার্থী রাজিন ইশতিয়াক বলেন, ছাত্রশিবিরের এত বড় ও সুশৃঙ্খল আয়োজন অন্যান্য সংগঠনের জন্যও আদর্শ হতে পারে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি ডিগ্রি অর্জনের জায়গা না হয়ে আমাদের দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার সুন্দর পরিবেশ তৈরি করুক।

অপর এক নবীন শিক্ষার্থী মারজিয়া সুলতানা মিথি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পা রাখার অনুভূতিটা সত্যিই অন্যরকম। নতুন স্বপ্ন, নতুন মানুষ ও নতুন পরিবেশ—সবকিছু মিলিয়ে মনে হচ্ছে জীবনের একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। ছাত্রশিবিরের প্রতি আমার প্রত্যাশা, তারা সবসময় শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি তাদের যে দায়িত্ব রয়েছে, সেটি আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করবে।

অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুতে সঠিক দিক নির্দেশনা, ক্যারিয়ার গাইডলাইন এবং শিক্ষামূলক নানা বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়াও নবীন শিক্ষার্থীদের বই, চাবির রিং, কলম দানি, ফুল ও কুরআন উপহার দেয়া হয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এম ইউ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!