চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর থানা এলাকায় এমন ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ জানায়, ফেসবুকের মাধ্যমে যশোরের কাঠমিস্ত্রি তরিকুল ইসলামের সঙ্গে ওই শিক্ষিকার পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে বন্ধুত্ব থেকে গভীর প্রেমে চলে যান তারা। ৩০ বছর বয়সী ওই শিক্ষিকা হঠাৎ বাসা থেকে উধাও হন। তাৎক্ষণিক শিক্ষিকার স্বামী গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে বিষয়টি অবগত করেন। এরপর শুরু হয় ওই শিক্ষিকার অবস্থান শনাক্তের অভিযান। অভিযানের প্রথমে প্রযুক্তির সহায়তায় জানা যায়, ওই শিক্ষিকা চট্টগ্রাম ত্যাগ করেছেন। আর ত্যাগ করার আগে ব্যাংক অ্যাকাউন্ড থেকে সব টাকা উত্তোলন করেন।
.png)
পরে গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা ওই শিক্ষিকার অবস্থান যশোরে শনাক্তের পর সেখানে অভিযান চালানো হয়। পরে জেলার একটি আবাসিক হোটেল থেকে ওই শিক্ষিকাকে উদ্ধার করা হয়। পরে গোয়েন্দারা জানতে পারেন যে, কথিত প্রেমিক তরিকুল ওই শিক্ষিকাকে ভারতে পাচার করার পরিকল্পনা করছিল। পরে তরিকুলকে আটক করা হয়।
পুলিশ আরো জানায়, ওই শিক্ষিকা কাঠমিস্ত্রির প্রেমে এতোটাই মজেছিলেন যে, যখনই তরিকুল তার কাছে টাকা চাইতো, তখনই টাকা পাঠিয়ে দিতেন। এমনকি প্রেমের টানে বখাটে তরিকুলের কাছে তিনি ছুটে যান।
চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (বন্দর) আসিফ মহিউদ্দীন বলেন, যশোর পৌঁছার পর ওই শিক্ষিকা ফাঁদে পড়ার বিষয়টি টের পান। কারণ সেখানে পৌঁছে ফেসবুকে দেখা তরুণ আর বাস্তবের তরুণের মধ্যে মিল খোঁজে পাননি তিনি।
তিনি আরো বলেন, ওই শিক্ষিকাকে উদ্ধার করতে কিছুটা বিলম্ব হলেই ভারতে পাচার করা হতো। কারণ পাচারের সব ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ভাগ্যগুণে রক্ষা পেয়েছেন তিনি।
চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (বন্দর) আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ভার্চুয়াল জগতে কারো সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে সতর্কতা অবলম্বন প্রয়োজন। কারণ সুযোগ সন্ধানীরা স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে নানা ফাঁদ পেতে রাখে। এতে জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠতে পারে। তাই আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।