একদিনের ভ্রমণে স্বর্গরাজ্য রাতারগুল
বনের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া লেকে চলে পাখির ‘ডুবো খেলা’। বনজুড়ে চড়ে বেড়ায় নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণী। হাওর আর নদী বেষ্টিত অপূর্ব সুন্দরবনের দক্ষিণ পাশে সবুজের চাদরে আচ্ছাদিত জালি ও মূর্তা বেত বাগান। এর পেছনেই মাথা উঁচু করে আছে সারি সারি জারুল-হিজল-কড়চ। বনের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া লেকগুলো আলাদা সৌন্দর্য এনে দিয়েছে জলার বনটিকে। বলছিলাম ‘রাতারগুল’-এর কথা।
এপ্রিলের শুরু থেকেই বৃষ্টির মৌসুম শুরু হলো। এর আগে পুরো জায়গাটুকু ছিল পানি শূন্য। শুকনো মৌসুমের রাতারগুল বর্ষা থেকে কোনো অংশে কম নয়! শুকনো মৌসুমে বনের ভেতরে গেলে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি আপনাকে উড়ে সরে গিয়ে পথ করে দেয় এই সময়টায়। এ দৃশ্য আসলেই দুর্লভ! বর্ষায় পাল্টে যায় এর সৌন্দর্য, চিরায়িত রূপ নেয় বনটি। দেখা যায়, বেশিরভাগ গাছ হাঁটু পর্যন্ত ডুবে আছে পানিতে। একটু ছোট যেগুলো, সেগুলো শরীরের অর্ধেকই ডুবে আছে জলে। কোথাও চোখে পড়বে মাছ ধরার জাল পেতেছে জেলেরা। মাঝেমধ্যেই গাছের ডালপালা আটকে দিবে পথ।

বর্ষায় প্রচুর পর্যটকের সমাগম ঘটে এই হাওরে। পানি স্বচ্ছ হওয়ায় ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে এটা বেশ জনপ্রিয় গন্তব্য। গোয়াইন নদী দিয়ে রাতারগুল যাওয়ার অসাধারণ সুন্দর পথের কথাও না বললে নয়, বিশেষ করে বর্ষায়। নদীর চারপাশের দৃশ্যের সঙ্গে উপরি হিসেবে দেখবেন দূরে ভারতের উঁচু উঁচু সব পাহাড়। বন এভাবে জলে ডুবে থাকে বছরে চার থেকে সাত মাস। বর্ষা কাটলেই দেখা যাবে অন্য চেহারা।
সিলেট থেকে দুই ভাবে রাতারগুল আসা যায়। সিলেট শহরের পাশের খাদিম চা বাগান ও খাদিমনগর জাতীয় উদ্যানের ভেতরের রাস্তা দিয়ে খুব অল্প সময়ে রাতারগুল পৌঁছানো যায়। এই পথে সিএনজি অটোরিকশা কিংবা জিপ নিয়ে শ্রীঙ্গি ব্রিজ যেতে হয়। সিলেট থেকে সকালে রাতারগুল গিয়ে বিকেলের মধ্যেই ফিরে আসা যায়।
লালা বাজার এলাকায় ও দরগা রোডে কম ভাড়ায় অনেক মানসম্মত রেস্ট হাউস আছে৷ যেখানে ৪০০ থেকে ১০০০ টাকায় বিভিন্ন ধরণের রুম পাবেন। এছাড়াও হোটেল হিল টাউন, গুলশান, দরগা গেইট, সুরমা,কায়কোবাদ ইত্যাদি হোটেলে আপনার প্রয়োজন ও সামর্থ অনুযায়ী থাকতে পারবেন।
ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে