তোপের মুখে পর্দা কেলেঙ্কারি মামলার আসামি!
আলোচিত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পর্দা কেলেঙ্কারি মামলার আসামি উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এএইচএম নুরুল ইসলাম খান এলাকাবাসীর বাধার মুখে কার্যালয়ে বসতে পারেননি।
এক পর্যায়ে স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে অফিসের অন্যান্যদের সহায়তায় ফরিদপুরে ফিরে যেতে বাধ্য হন তিনি। শনিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, মেডিকেল এসিসটেন্ট ট্রেনিং স্কুলের প্রভাষক এএইচএম নুরুল ইসলাম গত ১৮ নভেম্বর নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মক্ষেত্রে যোগ দেন।
.png)
তিনি বহুল আলোচিত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পর্দা কেলেঙ্কারি মামলার আসামি। ওই মামলায় গত ১২ জানুয়ারি হাইকোর্টের জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনিসহ তিন চিকিৎসক ফরিদপুরের জেলা অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-১ এ উপস্থিত হয়ে জামিনের আবেদন জানালে আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠিয়ে দেন। পরে ওই তিন চিকিৎসক হাইকোর্ট থেকে জামিন নেন।
হাইকোর্ট থেকে জামিন নেয়ার পর শনিবার এএইচএম নুরুল ইসলাম খান তার নতুন কর্মক্ষেত্রে দ্বিতীয় দিনের মত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জনতার বাধার মুখে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শনিবার নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নুরুল ইসলামের আসার খবর জানতে পেরে সেখানে সমবেত হন প্রায় শতাধিক স্থানীয় জনতা। তারা নুরুল ইসলামকে তার অফিসে ঢুকতে বাধা প্রদান করে। তারা এ সময় বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বলতে থাকেন, নগরকান্দায় কোনো দুর্নীতিবাজকে চাকরি করতে দেয়া হবে না।
এ সময় নগরকান্দা পৌরসভার প্যানেল মেয়র শেখ মোহাম্মদ ইউনুস উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে বলেন, মানুষের মৌলিক চাহিদার অন্যতম হচ্ছে চিকিৎসা। তাই এই খাতে দুর্নীতির তালিকায় যার নাম এসেছে তাকে আমাদের এলাকায় কাজ করতে দিতে পারি না। কারণ এখানেও তিনি সব ক্ষেত্রে দুর্নীতির মহোৎসব গড়ে তুলবেন বলে আমাদের আশঙ্কা।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে কর্মস্থল থেকে ফরিদপুরে ফিরে যান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ইখতেখার আজাদ বলেন, নূরুল ইসলাম শনিবার তার অফিস কক্ষে ছিলেন। এ সময় প্রতিরোধকারীরা তার কক্ষে এসে তাকে নগরকান্দা থেকে অন্যত্র বদলি হয়ে যাওয়ার দাবি জানান। এক পর্যায়ে তাদের সঙ্গে নূরুল ইসলামের বাদানুবাদ হয়। পরে তিনি তাকে গাড়িতে করে ফরিদপুর পৌঁছে দেন।
এ বিষয়ে নূরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তার মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি ধরেন নি। খুদে বার্তা দিয়েও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহুল আলোচিত ‘পর্দা কেলেঙ্কারি’ ঘটনায় সরকারের ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগে দুদকের মামলায় তিন চিকিৎসকসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়।