এদের মধ্যে রুট ও হেড আগেও সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পেলেও বর্ষসেরা হতে পারেননি। বুমরাহ ও ব্রুক স্যার গারফিল্ড সোবার্স ট্রফির সংক্ষিপ্ত তালিকায় এবারই প্রথম জায়গা পেলেন।
হ্যারি ব্রুক (ইংল্যান্ড):
.png)
১২ টেস্টে ১১০০ রান, গড় ৫৫.০০, সর্বোচ্চ রান ৩১৭
হ্যারি ব্রুক এ বছর টেস্টে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পারফর্মার ছিলেন। ২২ বর্ষী এই ব্যাটার শুধুমাত্র রান করার দিক থেকেই এগিয়ে ছিলেন না, ইংলিশদের দ্রুততম ব্র্যান্ড অব ক্রিকেটের একজন পতাকাবাহকও ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলংকার বিপক্ষে হোম সিরিজ জয়ে ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। বিদেশের মাটিতেও নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য এক উচ্চতায়।
ডানহাতি এই ব্যাটার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পরপর দুই টেস্টে সেঞ্চুরি করেন। ২০০৮ সালের পর নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ইংল্যান্ড প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব অর্জনে তার ছিল বড় ভূমিকা। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে জো রুটকে টপকে আইসিসি টেস্ট ব্যাটিং র্যাংকিংয়ে শীর্ষস্থানও দখল করেছিলেন ব্রুক।
স্মরণীয় পারফরম্যান্স:
ব্রুকের সেরা ইনিংসটি এসেছে উপমহাদেশের মাটিতে। পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ে যা দলের জন্য অবদান রাখে। মুলতানে ব্রুক ক্যারিয়ারের প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরি হাঁকান। ৩২২ বলে তার ৩১৭ রানের ইনিংসটি অনেক দিন সকলের মনে গেঁথে থাকবে। জো রুটকে সাথে নিয়ে ৪৫৩ রানে জুটি গড়ে তুলেছিলেন।
এই জুটির উপর ভর করে ইংল্যান্ড টেস্ট ক্রিকেটে তৃতীয় সর্বোচ্চ দলীয় রান সংগ্রহ করে। ইনিংস ও ৪৭ রানে জয়ী হয়। দুর্দান্ত ইনিংসের কারণে ব্রুক হয়েছিলেন ম্যাচসেরা।
জাসপ্রিত বুমরাহ (ভারত):
১৩ টেস্টে ৭১ উইকেট, গড় ১৪.৯২, সেরা বোলিং ৬/৪৫
৮ টি-২০তে ১৫ উইকেট, গড় ৮.২৬, ইকোনোমি ৪.১৭
ভারতীয় এই পেসার সব ফরম্যাটেই নিজেকে প্রমাণের প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছিলেন। তার দূরন্ত পারফরম্যান্সে টি-২০ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তোলে ভারত। আট ম্যাচে বুমরাহ নিয়েছেন ১৫ উইকেট। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ফাইনালে দখল করেন ২ উইকেট। অপরাজিত থেকে ভারত ২০২৪ সালে টি-২০ বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে।
ডানহাতি এই পেসার এ বছর টেস্টেও সমানভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৩ টেস্টে নিয়েছেন ৭১ উইকেট। হোম ও অ্যাওয়ে সিরিজে ছিলেন সমান উজ্জ্বল। বিশেষত চলতি অস্ট্রেলিয়া সফরে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে চলেছেন।
স্মরণীয় পারফরম্যান্স:
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পার্থ টেস্টে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরে সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বুমরাহ। সফরকারী ভারত যখন ১৫০ রানে গুটিয়ে যায়, তিনি বল হাতে অস্ট্রেলিয়ার পাঁচ উইকেট দখল করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ফলে প্রথম ইনিংসে ভারত লিড পায়। দ্বিতীয় ইনিংসে তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় মনোনীত হয়েছেন। টিম ইন্ডিয়া প্রথম ম্যাচ জিতে পাঁচ ম্যাচ সিরিজ শুরু করে।
জো রুট (ইংল্যান্ড):
১৭ টেস্টে ১৫৫৬ রান, গড় ৫৫.৬৭, সর্বোচ্চ রান ২৬২
টেস্ট ব্যাটার হিসেবে নিজেকে দারুণভাবে প্রতিষ্ঠিত করা জো রুট ২০২৪ সালে নতুন উচ্চতায় আসীন হয়েছেন। ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ এই ব্যাটার এক পঞ্জিকা বর্ষে ক্যারিয়ারে পঞ্চমবারের মতো এক হাজার রানের বেশি সংগ্রহ করেন।
সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক ভারতের রাহুল দ্রাবিড়ের সঙ্গে সমান ৩৬ শতক হাঁকিয়ে টেস্টে পঞ্চম সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক হন। একই সঙ্গে আইসিসি টেস্ট ব্যাটিং র্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থান দখল করেছেন। তার নামের পাশে এ বছর যোগ হয়েছে ছয়টি সেঞ্চুরি ও পাঁচটি হাফ সেঞ্চুরি।
স্মরণীয় পারফরম্যান্স:
মুলতানে পাকিস্তানি বোলিং আক্রমণকে পাত্তা না দিয়ে ষষ্ঠ টেস্ট ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নেন। এর মাধ্যমে রিকি পন্টিং ও শচীন টেন্ডুলকারের সমান ২০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ব্রুকের সাথে জুটির কল্যাণে ঘরের বাইরেও ইংল্যান্ডের স্মরণীয় এক জয় নিশ্চিত হয়।
ট্রাভিস হেড (অস্ট্রেলিয়া):
৯ টেস্টে ৬০৮ রান, গড় ৪০.৫৩, সর্বোচ্চ স্কোর ১৫২
১৫ টি-২০তে ৫৩৯ রান, স্ট্রাইক রেট ১৭৮.৪৭
ব্যাট হাতে অস্ট্রেলিয়ার ট্রাম্প কার্ড ও ২০২৩ সালের বড় ম্যাচের পারফর্মার হিসেবে পরিচিত হেড এ বছরও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে তিনি মিডল অর্ডারে ভিন্ন এক ব্র্যান্ডিং স্থাপন করেছেন। ছোট ফরম্যাটেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন। টি-২০ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন। টেস্ট অঙ্গনে আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে অস্ট্রেলিয়ার শিরোপা ধরে রাখার মিশনে হেড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।
বাঁহাতি এই ব্যাটার ভারতের বিপক্ষে চলমান পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে বছর শেষ করতে যাচ্ছেন।
স্মরণীয় পারফরম্যান্স:
বোর্ডার-গাভাস্কার সিরিজে ১-০তে পিছিয়ে থাকার পর দ্বিতীয় টেস্টে অ্যাডিলেডে কাউন্টার অ্যাটাক নক খেলেন হেড। ১৪১ বলে ১৪০ রানের ইনিংস খেলার পথে হেড ভারতীয় বোলারদের উপর গোলাপি বলের টেস্টে দাপট দেখান। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ১৫৭ রানে এগিয়ে ছিল। ১৭টি চার ও চারটি বাউন্ডারির সহায়তায় হেড যে ইনিংস খেলেছেন, তাতে স্বাগতিকরা সিরিজে সমতায় ফিরে। শেষ পর্যন্ত তিনিই হন ম্যাচসেরা খেলোয়াড়।