শুক্রবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে নারী ফুটবলারদের আকুতির কথাই যেন সানজিদা তুলে ধরলেন। দেশে ফিরে আবারো ছাদখোলা বাসে সংবর্ধনা নিয়েও নিজের মনোভাব তুলে ধরেন।
ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী ধোবাউড়া উপজেলার কলসিন্দুর থেকে উঠে আসা এই তারকা ফুটবলার লিখেছেন, ‘আমরা সারাবছর মাঠে থাকতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি, আমরা আরো ভালো খেলতে জানি। আমাদের সারা সিজন মাঠে থাকার কারনে যদি দর্শক আবারো গ্যালারিতে আসে দিনশেষে সেটি দেশের ফুটবলের লাভ। কারন আমরা যাই কিছু করি, সবটুকু দর্শকদের জন্য। আমরা মাঠে থাকতে চাই এদেশের সকল ফুটবলপ্রেমী মানুষদের জন্য। রোদকে উপেক্ষা করে যেসকল ছোট্য বাচ্চারা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল আমাদের একনজর দেখার জন্য, সেই সকল নিষ্পাপ চেহারাগুলোর জন্য।’
.png)
হিমালয়ের দেশে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে আয়োজিত হয় মেয়েদের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। তারপর ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির ১৩ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে ফিফা উইন্ডোতে ফুটবল কন্যাদের দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের সূচি ছিল। লাল-সবুজ জার্সিতে সাবিনা-মারিয়াদের সেসময় মাঠে নামাই হয়নি। বছরের প্রথম উইন্ডোতেই খেলার সুযোগটা হাতছাড়া করেছিল বাফুফে। এপ্রিলে প্যারিস অলিম্পিকের জন্য মেয়েদের এশিয়া অঞ্চলের বাছাইপর্বে খেলার কথা ছিল। আর্থিক সংকটের কারণ দেখিয়ে বাফুফে দল পাঠায়নি।
দীর্ঘ ১০ মাস পর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা দেশের মাটিতে নেপালের সঙ্গে খেলতে নেমে ড্র করে। পরেরটিতে টাইব্রেকারে হেরে বসে। এশিয়ান গেমসে জাপান ও ভিয়েতনামের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলে বড় ব্যবধানে হারে। নেপালের সঙ্গে আবারো ফলাফল ছিল ড্র। কমলাপুরে সিঙ্গাপুরের সঙ্গে দুই প্রীতি ম্যাচে বড় জয়ের পর আবারো লম্বা বিরতির ফাঁদে সাবিনার দল।
চলতি বছরের ১-৯ এপ্রিল নারী ফিফা উইন্ডোতে বাফুফে মিয়ানমারে গিয়ে খেলার পরিকল্পনা করেছিল। দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি রোহিঙ্গা ও সীমান্ত ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যকার পরিস্থিতির কারণে সফরটি বাতিল হয়। এরপর ঘরের মাঠে শক্তিশালী চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে ২৯ মে ও ৩ জুন খেলেছিল সাবিনা-সানজিদারা। এরপর চার মাসেরও বেশি সময় তারা আন্তর্জাতিক ফুটবলের বাইরে ছিল।
অথচ গত দুই বছরে ভারত ও নেপাল বেশ ভালো প্রস্তুতি নিয়েছিল। সেই তুলনায় বাংলাদেশের মেয়েরা ম্যাচ কম খেলেই সাফে অংশ নিতে যায়। মাত্র ৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে অনুশীলন নির্ভরতা সত্ত্বেও মাঠের ফুটবলে নিজেদের অদম্য ইচ্ছা ও সামর্থ্যের প্রমাণ দেখিয়ে তারা আবারো দেশে সাফের ট্রফি নিয়েই ফেরে।
নেপালের কাঠমান্ডু থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৩৭২ ফ্লাইটযোগে বাংলাদেশ দল গত বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে দেশে ফেরেন। সেই স্মৃতির কথাও তুলে ধরেন সানজিদা। উড়োজাহাজের দুই পাইলটের সঙ্গে তোলা ছবি আপলোডও দেন এই ফুটবলার।
‘ভালো করা ও ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ট্রফি ধরে রাখার বিশাল চাপ নিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে যাওয়া এবং আবারো চ্যাম্পিয়ন হয়ে স্বপ্নিল এক যাত্রার সমাপ্তি। ফাইনালে প্রচুর দর্শকের চাপ সামলে স্বাগতিক মঞ্চ থেকে টানা দুইবার ট্রফি নিয়ে আসা অবশ্যই আমাদেরকে আলাদাভাবে আত্ববিশ্বাস জোগায়।
‘এই ছবিটি বাংলাদেশে আসার মুহূর্তে উনাদের সাথে ট্রফিসহ ক্যামেরাবন্দি হওয়া। বিমানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভাইবোনদের উষ্ণ অভ্যর্থনা, দেশে এসে ছাদখোলা বাস সবকিছুই আমাদেরকে আবারো ভালো খেলতে উৎসাহ জোগাবে।’
দুই বছর আগের মতো এবারো ছাদখোলা বাসে সাফ চ্যাম্পিয়নদের দেওয়া হয় সংবর্ধনা। এ প্রসঙ্গে সানজিদা আরো লিখেছেন, ‘২০২২ সালে পরোক্ষভাবে ছাদখোলা বাসের অভিপ্রায় থাকলেও এবার সেটি বলা হয়নি। কারণ আমরা নিশ্চিত ছিলাম, এবার সেটি অনুমিতভাবেই ঘটবে। আর সেটি পেয়ে আমরা কৃতজ্ঞ। ধন্যবাদ যারা এই আয়োজনের সাথে যুক্ত ছিলেন তাদের প্রত্যেকজনকে। প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে যারা আমাদের সর্বদা সমর্থন দিয়েছেন, তাদের সবাইকে। আমাদের এই উৎসবের মুহূর্তকে জাতির সামনে তুলে ধরা ও ভবিষ্যতের জন্য আর্কাইভ করার জন্য মিডিয়ার সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ।’