৭১ মিনিটের মাথায় বাঁ-প্রান্ত থেকে আক্রমণে ওঠা মিরাজুলের পাসে বল নিয়ে ডান পায়ের জোরালো শটে নিশানাভেদ করেন রাব্বি হোসেন রাহুল। গোলের পর মিরাজুলকে নিয়ে হাঁটু গেঁড়ে মাথার উপর হাত মুষ্টিবদ্ধ রেখে আন্দোলনে নিহতদের তা উৎসর্গ করেন রাহুল। এর আগে মিরাজুল নিজে বল জালে জড়িয়ে বুকে হাত রেখে ডান হাত উপরে তুলে একই উদ্দেশ্যে উদযাপন করেন।
ফাইনালে জয়ের নায়ক জোড়া গোলদাতা মিরাজুল ইসলাম। দুই গোলের পাশাপাশি করেছেন একটি অ্যাসিস্ট। আসরে চার গোল পেয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সেরা ফুটবলারের পুরস্কার তার হাতেই উঠেছে। তরুণ এই স্ট্রাইকার বলেন, ‘আমরা নিজেদের জন্য খেলিনি। দেশের মানুষের জন্য খেলেছি। আল্লাহ পাকের ইচ্ছায় আমাদের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। কিছু দিন আগে দেশের মানুষ আন্দোলন করে, জীবন দিয়ে নতুন বাংলাদেশ এনেছে। এখন অনেক মানুষ বন্যায় কষ্ট করছে। আমরা এই মানুষদের ট্রফি উৎসর্গ করছি।’
.png)
গ্রুপপর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচেও ছাত্র আন্দোলনের প্রয়াতদের স্মরণ করেছিল বাংলাদেশ দল। শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথম গোল করে মিরাজুল ইসলাম আলাদা একটি টি শার্ট পরে নেন। ঐ টি শার্ট আবু সাঈদ ও মুগ্ধর স্মরণে তিনি পরেছিলেন।
বাংলাদেশ বিনির্মাণে শিরোপা জয় সকলকে অনুপ্রাণিত করবে বলে বিশ্বাস কোচ মারুফুল হকের। পুরস্কার বিতরণীপর্বের আগে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আমি ট্রফিটা উৎসর্গ করতে চাই আমাদের বীরদের, যারা গত মাসে ও চলতি মাসে তাদের জীবন দান করেছেন আমাদের নতুন বাংলাদেশের জন্য। আমি সবসময় ট্রফি ও সাফল্য তাদের উৎসর্গ করতে চাই।’
রাজনৈতিক অস্থিরতার পর সরকারের পালাবদলের কয়েকদন পর দেশের অনেক স্থানে দেখা দিয়েছে বন্যা। সংকটকালীন সময়ে এই জয় দেশের মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে বলেই বিশ্বাস মারুফুলের।
‘গত মাসে আর চলতি মাসের শুরুতে আমরা অনেক বীরদের হারিয়েছি। গত সপ্তাহ থেকে মারাত্মক বন্যা চলছে। অনেক পরিবার এতে আক্রান্ত হয়েছে, অসহায়ত্বের ভেতর পড়েছে। খাদ্য ও পানীয় জলের অভাবের মাঝে রয়েছে। নতুন সরকার দেশ পুনর্গঠনে কাজ করছে। আশা করি এই শিরোপা জয় দেশের সকল মানুষকে বাংলাদেশ বিনির্মাণে অনুপ্রাণিত করবে।’