প্যারিসের এমন কাণ্ডে হয়তো চওড়া হাসিই দিচ্ছেন বোল্ট। অলিম্পিক ক্যারিয়ারে তিনি যা করে দেখিয়েছেন, যে রেকর্ড গড়েছেন তা এখনো কেউ ভাঙতে পারেননি।
২০১৬ সালের রিও অলিম্পিক খেলে অবসরে গেছেন বোল্ট। এরপর দুটি গেমস যাচ্ছে। কিন্তু এখনো তার ধারে কাছে কেউ যেতে পারেননি। এবার প্যারিস অলিম্পিকে বোল্টকে ছোঁয়া তো দূরে থাক, কেউ আশেপাশেও যেতে পারেননি।
.png)
আদৌ কেউ বোল্টকে ছুঁতে পারবেন কি না তা বলাও কঠিন। অ্যাথলেটিকসের অবিসংবাদিত ৩৭ বছর বয়সী সেরা অ্যাথলেট যে অমরত্ব নিয়ে আছেন, তা নতুন করে বলার দরকার নাই।
২০০৮ থেকে ২০১৬- টানা তিন অলিম্পিকে ১০০ ও ২০০ মিটার স্প্রিন্টে সোনা জিতেছিলেন বোল্ট। তার অবসরের পর গত অলিম্পিকে মর্যাদার দুই ইভেন্ট পায় নতুন দুই চ্যাম্পিয়ন। টোকিওতে ১০০ মিটারে সোনা জেতেন ইতালির মার্সেল জ্যাকবস আর ২০০ মিটার কানাডার আন্দ্রে ডি গ্রাসে। এবার ১০০ মিটার ফটো ফিনিশে জিতেছেন জিতেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নোয়া লাইলস।
অ্যাথলেটিকসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এই ইভেন্টের অলিম্পিক ও বিশ্ব রেকর্ড দুটি কিংবদন্তি বোল্টের গড়া। ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে ৯ দশমিক ৬৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে তিনি গড়েছিলেন রেকর্ড।
২০০৯ সালে বার্লিনের ট্র্যাকে ঝড় তুলে ৯ দশমিক ৫৮ সেকেন্ড টাইমিং নিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন ‘লাইটেনিং’ বোল্ট। প্যারিসে অটুটু থাকে তার দুটি কীর্তিই। আর প্যারিসে ২০০ মিটারে দৌড় শেষ হতেই দুই হাতে নিজের বুক চাপড়ে উদযাপনে মাতেন বতসোয়ানার লেটসিলে তেবোগো। এমন বুনো উল্লাস অবশ্য তাকেই মানায়। কেননা, প্যারিস অলিম্পিকের ১০০ মিটারে নোয়াহর সঙ্গে পেরে ওঠেননি। কিন্তু ২০০ মিটারে এসে সেই হতাশা ভুললেন এই অ্যাথলেট।
প্রথমবারের মতো অলিম্পিকে সোনা জয়ের অনির্বচনীয় স্বাদ পেয়েছেন বতসোয়ানার এই ২১ বছর বয়সী অ্যাথলেট। এর আগে তিনি অ্যাথলেটিকসের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে রুপা ও ব্রোঞ্জ পেয়েছেন। আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নশিপে ২০০ মিটারে পেয়েছিলেন সোনা। তবে অলিম্পিকে সোনার হাসি এই প্রথম।
স্তাদে দা ফ্রান্সে ২০০ মিটার স্প্রিন্টে ১৯ দশমিক ৪৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে সেরা হয়েছেন তেবোগো। ১৯ দশমিক ৬২ সেকেন্ড টাইমিং করে রুপা পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বেডনারেক।
এই ইভেন্টে বিশ্ব রেকর্ড ও অলিম্পিকের রেকর্ড দুটিই জ্যামাইকান কিংবদন্তি বোল্টের। ২০০৯ সালে বার্লিনে ১৯ দশমিক ১৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। তার এক বছর আগে বেইজিংয়ের আসরে ১৯ দশমিক ৩০ সেকেন্ড টাইমিং করে গড়েছিলেন অলিম্পিকের রেকর্ড। এ যাত্রায়ও অক্ষত থাকল দুটিই।