বিশ্বকাপের আগের আসর নিয়ে ডেইলি বাংলাদেশের ১২ পর্বের প্রতিবেদনে আজ থাকছে নবম পর্ব-২০০৭: অজিদের বিশ্বরেকর্ড, বাংলাদেশের সুপার এইট ‘ঝলক’।
পাকিস্তানের কোচ বব উলমারের রহস্যময় মৃত্যু, আয়োজনে অবকাঠামোগত অব্যবস্থাপনা, বিশাল বাজেট ও দীর্ঘসূত্রিতার কারণে ক্রিকেট বিশ্বে ভিন্ন মাত্রা পেয়েছিল ২০০৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ। এরমধ্যে সাবেক চ্যাম্পিয়ন ভারতকে বিদায় করে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের সুপার এইট নিশ্চিত করা ছিল এই আসরের অন্যতম চমক। পাশাপাশি লংকান পেসার লাসিথ মালিঙ্গার টানা চার উইকেট শিকার, থার্ড আম্পায়ার পদ্ধতি চালু হওয়া; সবমিলিয়ে ক্রিকেট উন্মাদনার মোটেও কমতি ছিল না।
.png)
২০০৭ বিশ্বকাপে বাড়তি মাত্রা যোগ হয় বাংলাদেশের ঝলক। যে কারণে এ দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে আসরটি বেশ স্বরণীয়। সেবার দেশ ছাড়ার আগেই বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের মধ্যে যেন ছড়িয়ে পড়ে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার ‘ধরে দিবানি’ বিশ্বাসটা। আগের দিন এক দুঃসংবাদে সবকিছু ওলট-পালট করে দেয়। সড়ক দুর্ঘটনায় মানজারুল ইসলাম রানা ও সাজ্জাদুল হাসান সেতুর মৃত্যু শোকের আবহ সৃষ্টি করলেও ভারত বধের বিশ্বাসকে যেন রূপ দেয় প্রতিজ্ঞায়।
শেষ পর্যন্ত তাই হলো। মাশরাফী-ঝড়ে এলোমেলো হয়ে টেন্ডুলকার-গাঙ্গুলী-দ্রাবিড়ের ভারত গুটিয়ে যায় মাত্র ১৯১ রানে। আর সেই লক্ষ্য বাংলাদেশ পেরিয়ে যায় তামিম, সাকিব ও মুশফিকের তিন চমৎকার ফিফটিতে। আসে ৫ উইকেটের স্বরণীয় এক জয়। লেখা হয় বাংলাদেশ ক্রিকেটের দুর্দান্ত এক উপাখ্যানের গল্প।
ম্যাচের তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই মাশরাফীর অফ কাটার তছনছ করে দেয় বীরেন্দ্র শেবাগের স্টাম্প। জয়ের বীজও তার হাতেই বোনা। এ ৯.৩ ওভারে ৩৮ রান খরচ করে ৪ উইকেট শিকার করেন ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ এ ডানহাতি পেসার। তবে মাশরাফীর রঙিন দিনে ভারতকে চাপে রাখে তিন বাঁহাতি রাজ্জাক-রফিক ও সাকিব। তিনজনের ঘূর্ণি সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় ভারতীয় ব্যাটারদের।
ভারতের দেওয়া ১৯১ রানের লক্ষ্য মাথায় নিয়েও নুয়ে পড়ার শঙ্কা ছিল বাংলাদেশের। কেননা সে সময় এশিয়া তথা বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলিং আক্রমণ ছিল জহির-হরভজনদের বিভাগ। কিন্তু সব শঙ্কা ‘ফু’ দিয়ে যেন বিদায় করে দেন তিন তরুণ তামিম, মুশফিক ও সাকিব। সবমিলিয়ে পোর্ট অব স্পেনের সোনারঙা সেই গোধূলিতে রচিত হয় রূপকথা।
বাংলাদেশের প্রাপ্তির বিশ্বকাপে চালকের আসনটা ধরে রাখে অস্ট্রেলিয়া। আগেরবার শিরোপা জেতা দলটি এই আসরেও জিতে নেয় আরাধ্যের ট্রফিটা। যেটা ছিল অজিদের চতুর্থ বিশ্বকাপ।
সেমিফাইনালে চোকার দক্ষিণ আফ্রিকাকে থমকে দিয়ে ফাইনালের মঞ্চে নাম লেখায় অস্ট্রেলিয়া। আরেক ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কাটে শ্রীলংকা।
২০০৭ সালের ২৪ এপ্রিল কিংস্টন ওভালে হয় গড়ায় কাঙ্ক্ষিত ফাইনাল। সেই মহা লড়াইয়ে বাগড়া দেয় বেরসিক বৃষ্টি। তবে বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে গিলক্রিস্ট ঝড় থামাতে পারেনি কেউ। তার রেকর্ডময় ১৪৯ রানে ভর করে ২৮১ রানের বড় সংগ্রহ পায় অস্ট্রেলিয়া।
জবাবে সাঙ্গাকার ও মাহেলা জুটি থেকে ১১৬ রান পেলেও শেষ পর্যন্ত জয়ের বন্দরে নোঙর করা হয়নি শ্রীলংকার। আলোক স্বল্পতার কারণে তিন ওভার আগেই ম্যাচ বন্ধ হয়ে যায়, আর শিরোপা উৎসব শুরু করে অজিরা। এরপর দু’দলের অধিনায়কের সম্মতিতে জয়ী ঘোষণা করা হয় অস্ট্রেলিয়াকে।
একনজরে ২০০৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ-
আয়োজক দেশ: ওয়েস্ট ইন্ডিজ
চ্যাম্পিয়ন দল: অস্ট্রেলিয়া
অংশগ্রহণকারী দল: ১৬
মোট ম্যাচ: ৫১
সর্বোচ্চ রান: ৬৫৯ রান (ম্যাথু হেইডেন)
সর্বোচ্চ উইকেট: ২৩ উইকেট (গ্লেন ম্যাকগ্রা)।