ছয় জাতির টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে নেপাল। ম্যাচটি গড়াবে পাঞ্জাব প্রদেশের মুলতান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। এরপর এসিসির চূড়ান্ত শিডিউল অনুযায়ী পরের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে এশিয়া কাপের ১৬টি আসরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৭ বার শিরোপা ঘরে তুলেছে ভারত। ৬টি শিরোপা জিতে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে শ্রীলংকা এবং তিনবারের চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান রয়েছে তিনে।
.png)

আসন্ন এশিয়া কাপকে ঘিরে ক্রিকেটাঙ্গনে শুরু হয়ে গেছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ছয় জাতির টুর্নামেন্টে কোন খেলোয়াড়রা ভালো করবেন, টুর্নামেন্টের ফেবারিট দল কোনটি কিংবা শিরোপার দাবিদারই বা কারা, এসব নিয়েই চলছে তুমুল আলোচনা। তারই ধারাবাহিকতায় ক্রিকেটপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এশিয়া কাপে তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার ছোঁয়া ব্যাটাররাও।
দক্ষিণ এশিয়া ক্রিকেটের সর্বোচ্চ টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত অনেকেই সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন। তবে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি হাঁকানো ব্যাটারের তালিকা বেশ ছোটই। চলুন এক নজরে দেখে নেয়া যাক এশিয়া কাপে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিয়ানদের তালিকা।
সনাথ জয়সুরিয়া (শ্রীলংকা): ক্যারিয়ারের শেষবেলা পর্যন্ত এশিয়া কাপে ২৫টি ম্যাচ খেলেছেন সনাথ জয়সুরিয়া। তার মধ্যে ২৪ ইনিংসে ৫৩.০৪ গড়ে ১২২০ করেছেন তিনি। যেখানে তিন ফিফটির পাশাপাশি সর্বোচ্চ ৬টি সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন এ বাঁ-হাতি ব্যাটার।

কুমার সাঙ্গাকারা (শ্রীলংকা): এশিয়া কাপে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি করা ব্যাটারের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে জায়গা পেয়েছেন কুমার সাঙ্গাকারা। এ টুর্নামেন্টে ২৪ ম্যাচে ৪৮.৮৪ গড়ে ১০৭৫ রান করেছেন তিনি। যেখানে ৪ সেঞ্চুরির পাশাপাশি ৮টি হাফ সেঞ্চুরিও রয়েছে তার ঝুলিতে।
বিরাট কোহলি (ভারত): এশিয়া কাপে এখন পর্যন্ত ১১টি ম্যাচ খেলেছেন বিরাট কোহলি। এসব ম্যাচে ৬১.৩০ গড়ে ৬১৩ রান করেছেন তিনি। যেখানে এক ফিফটির পাশাপাশি ৩টি সেঞ্চুরি রয়েছে ভারতের সাবেক এ অধিনায়কের।

শোয়েব মালিক (পাকিস্তান): পাকিস্তানের হয়ে সবচেয়ে সফল ব্যাটার শোয়েব মালিক। এখন পর্যন্ত ১৭ ম্যাচে ৬৫.৫০ গড়ে ৭৮৬ রান করেছেন তিনি। তার মধ্যে তিনটি শতক ও তিনটি অর্ধ শতক রয়েছে তার।
লাহিরু থিরিমানে (শ্রীলংকা): এই টুর্নামেন্টে ৮টি ম্যাচ খেলে ৪৫.৩৭ গড়ে ৩৬৩ রান করেছেন লাহিরু থিরিমানে। যেখানে কোনো অর্ধশতক নেই। তবে দুইবার তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়েছেন এ ব্যাটার।
শিখর ধাওয়ান (ভারত): ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে কোহলির পরেই অবস্থান করছেন ধাওয়ান। এশিয়া কাপে এখন পর্যন্ত ৯টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। এসব ম্যাচে ৫৯.৩৩ গড়ে ৫৩৪ রান করেছেন ধাওয়ান। তার মধ্যে দুই অর্ধ শতক ও দুটি সেঞ্চুরি রয়েছে তার।

সুরেশ রায়না (ভারত): আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলেছেন ভারতের বিশ্বকাপজয়ী ব্যাটার সুরেশ রায়না। তিনি এশিয়া কাপে ১৩ ম্যাচ খেলে ৬০.৭৭ গড়ে ৫৪৭ রান করেছেন। যেখানে দুটি সেঞ্চুরি ও তিনটি হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে এ বাঁ-হাতি ক্রিকেটারের।
ইউনিস খান (পাকিস্তান): ক্রিকেটকে বিদায় বলে কোচিংয়ে মনোযোগ দিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার ইউনিস খান। অবসরের আগে এশিয়া কাপে ১৪টি ম্যাচ খেলেন তিনি। এসব ম্যাচে ৪৯.৩৩ গড়ে ৫৪৬ রান করেছেন ইউনিস। যেখানে ৩ হাফ সেঞ্চুরির পাশাপাশি দুটি শতকও রয়েছে এ ক্রিকেটারের।
মুশফিকুর রহিম (বাংলাদেশ): এশিয়া কাপে এখন পর্যন্ত ২১টি ম্যাচ খেলেছেন মুশফিকুর রহিম। সবমিলিয়ে ৩৬.৭৮ গড়ে ৬৯৯ রান করেছেন। পাশাপাশি দুই সেঞ্চুরি ও দুইটি অর্ধ শতক রয়েছে তার ঝুলিতে।

শহীদ আফ্রিদি (পাকিস্তান): এ টুর্নামেন্টে নিজের ক্যারিয়ারের ২৩টি ম্যাচ খেলেছেন শহীদ আফ্রিদি। তার মধ্যে ৩৫.৪৬ গড়ে ৫৩২ রান তুলেছেন তিনি। আর ১টি অর্ধ শতকের পাশাপাশি দুইবার তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়েছেন এ ব্যাটার।
এ তালিকায় মুশফিক ছাড়াও আরো চারজন বাংলাদেশি রয়েছেন। তারা হলেন- লিটন দাস, মোহাম্মদ আশরাফুল, অলক কাপালি ও এনামুল হক বিজয়। এই চার ব্যাটারের ঝুলিতে ১টি করে সেঞ্চুরি রয়েছে।