বৃহস্পতিবার ১-১ গোলে ড্র করে ৫ ম্যাচ বাকি থাকতেই নাপোলি নিশ্চিত করল শিরোপা। ৩৩ বছর পর সিরি আ শিরোপা জয়ের পর নেপলস এখন আনন্দনগরী! সেইসঙ্গে নাপোলির ভক্তরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে মহাতারকা ম্যারাডোনাকে। আজকের দিনে ম্যারাডোনা বেঁচে থাকলে কী আনন্দটাই না পেতেন!
নাপোলিকে আজকের পর্যায়ে আনতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন ম্যারাডোনা। সেই আশির দশকে অভিজাত ক্লাবগুলোর দাপটে কোণঠাসা নাপোলিকে মাথা তুলে দাঁড়াতে শিখিয়েছিলেন আর্জেন্টিনার রূপকথার নায়ক। অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সে দলকে উপহার দিয়েছিলেন ১৯৮৬-৮৭ ও ১৯৮৯-৯০ সিরি আ শিরোপা। এরপর আরেকটি শিরোপার অপেক্ষায় কেটে গেছে ৩৩ বছর। অবশেষে উৎসবের মুহূর্ত এলো নেপলসে। চারপাশ প্রকম্পিত করে বাজি পুড়তে থাকল, রাতের আকাশে দেখা গেল রঙের খেলা।
.png)
শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আতশবাজি থেকে শুরু করে অনেককিছুর ওপরেই নিষেধাজ্ঞা ছিল। কিন্ত জয়ের আনন্দে সব নিষেধাজ্ঞা উবে যায়। উদিনেসের মাঠে ম্যাচ শেষে দর্শকের অনেকে মাঠে ঢুকে কোচ-ফুটবলারদের সঙ্গে মিলে যোগ দেন শিরোপার উৎসবে।
সেখানে প্রতিপক্ষ সমর্থকদের সঙ্গে দাঙ্গার ঘটনাও ঘটে। আসল উৎসব তো নেপলসে। সেই শহরের বাস, ট্রাম, ট্রেনে আঁকা হয়েছে 'চ্যাম্পিয়ন অব ইতালি'। এমনকি খাবারের দোকান থেকে শুরু করে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রবের প্যাকেট, সবকিছুতেই লেখা হয়েছে 'চ্যাম্পিয়ন অব ইতালি'।
নেপলসের এক সমর্থক চিৎকার করে বলছিলেন, 'ইয়েস… আমরাই চ্যাম্পিয়ন। আরেকজন বলেন, 'আজকেই সেই দিন, সবচেয়ে উপযুক্ত দিন'। তবে আরেক দর্শক কেভিন যেন একটু বেশিই আনন্দ পেয়েছেন। তিনি রয়টার্সকে বলেন, 'বিশৃঙ্খলা হবে, গণ্ডগোল হবে। যা ইচ্ছা তাই করব আমরা। আজকে রাতে আমরা ঘুমাব না, কোনো কাজ করব না।' শুধু আনন্দই নয়, নেপলসের পথে পথে ছেয়ে গেছে ম্যারাডোনার ছবি আর গ্রাফিতিতে। রূপকথার নায়ককে ভোলেনি নাপোলির সমর্থকেরা। ম্যারাডোনাকে ভোলা যায় না।