নেপলসের রাস্তায় রাস্তায় এখন উৎসবের আমেজ। স্বতস্ফূর্ত জনস্রোত। বেদনার রং নীলকে ঘিরে আনন্দের বারতা। এমন একটা উৎসবের জন্য কত দীর্ঘ অপেক্ষা শহরবাসীদের। তবে এরই মধ্যে নিষিদ্ধ করা হয়েছে আতশবাজিসহ ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরি পার্কে প্রবেশ।
ফুটবল তাদের এক করেছে, রাস্তায় নামিয়েছে। অতীতেও ফিরিয়ে নিয়ে গেছে। সামনে এনেছে পুরোনো সেই ম্যারাডোনাকে। যার হাত ধরে শেষ ১৯৯০ সালে ইতালিয়ান লিগ শিরোপা জিতেছিল নাপোলি। আর এবার জিতলে হাত নামে স্টেডিয়ামে হবে উদযাপন।
.png)
৩৩ বছর পর আবার জেগেছে নেপলস। উদযাপনে কি করবে ফুটবল পাগল মানুষগুলো ঠিক করতে পারছে না। তাই চলছে পাগলামির প্রস্তুতি। তারই একটি ইউরোপের জীবন্ত আগ্নেয়গিরি ভিসুভিয়াস-এর অগ্নিকুন্ডে স্মোক বোম মারার ইচ্ছা।
নীল আর লাল রং-এ চারপাশ রাঙিয়ে তোলার বিপজ্জনক এই চেষ্টায় বাধা হয়ে দাড়িয়েছে জাতীয় পার্কটি। ঢোকা নিষেধ, নাপোলি ফ্যানদের জন্য। তাই বলে ৯৭ বছরের পুরনো ক্লাবের তৃতীয় ট্রফি উদযাপন থেমে থাকবে না। শুরুটা হবে দিয়েগো ম্যারাডোনা স্টেডিয়াম থেকে।
এরপর ঐতিহাসিক পিয়াজ্জা দেল প্লেবিসসিতো সেন্টারে জড়ো হবেন সমর্থকরা। রাতভর চলবে নাচ-গান আর পানীয় পান। এছাড়াও পিয়াজ্জা মারকাতো, পিয়াজ্জা সিরো এস্পোসিতো ও বাগনোলির ন্যাটোর সাবেক বেস ক্যাম্পেও থাকবে উৎসবের আয়োজন। এক জায়গায় সমর্থকদের ভিড় ঠেকাতেই এমন বহুমুখী ব্যবস্থা।
এছাড়া স্প্যানিশ কোয়ার্টারে ম্যারাডোনার বিশালাকৃতির এই ম্যুরালের জানালা খোলা হবে রীতি মেনে। ১৯৯০তেও হয়েছিল। গত বছর আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জেতার পর লিওনেল মেসির জন্য ছিল ব্যতিক্রম। ব্যতিক্রমী শেষকৃত্যানুষ্ঠানের দেখাও মিলেছে শহরটিতে। কবরে কফিনের উপর চার শীর্ষ ক্লাবের স্কার্ফ।
সেখানে চারপাশে ক্রশবিদ্ধ বাকি ১৫টি দলের পতাকা। তবে আনন্দ যেন বিষাদে রূপ না নেয় সেজন্য সতর্ক প্রশাসন। সপ্তাহজুড়ে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে কিছু কিছু রাস্তা। নিষিদ্ধ আতশবাজির ব্যবহার। উৎসবের বাড়াবাড়ি বলে কথা।