ঢাকা,  শুক্রবার   ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

[ স্পটলাইট ]

শাহজালালে এয়ারসাইডে ভিটিএসের ঘাটতি, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

মো. শাহজাহান মো. শাহজাহান
প্রকাশিত: ১৯:৪১, ৯ অক্টোবর ২০২৬
শাহজালালে এয়ারসাইডে ভিটিএসের ঘাটতি, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি
রানওয়েতে শত শত যানবাহনে নজরদারি নেই। ফাইল ছবি

দেশের প্রধান বিমানবন্দর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এয়ারসাইড এলাকায় যানবাহনের ডিজিটাল নজরদারিতে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে ও এপ্রোনের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করলেও অনেক গাড়িতে এখনো চালু হয়নি ভেহিকেল ট্র্যাকিং সিস্টেম (ভিটিএস)। ফলে এসব যানবাহনের অবস্থান ও গতিবিধি তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাচ্ছে না। এতে রানওয়েতে অনুপ্রবেশ, উড়োজাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং ফ্লাইট পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটার ঝুঁকি বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) নিরাপত্তা নির্দেশনা এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) বারবার তাগাদা সত্ত্বেও অনেক এয়ারলাইন্স, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং প্রতিষ্ঠান ও সেবা প্রদানকারী সংস্থা তাদের যানবাহনে ভিটিএস স্থাপন করেনি। অথচ সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে বাস্তবায়িত প্রকল্পের আওতায় বিমানবন্দরে আধুনিক সারফেস মুভমেন্ট গাইডেন্স অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম এবং ভেহিকেল ট্র্যাকিং সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। এসব প্রযুক্তির পুরোপুরি ব্যবহার নিশ্চিত না হওয়ায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে।

বেবিচক সর্বশেষ ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি দিয়ে অক্টোবরের মধ্যে ভিটিএস বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে নির্দেশনা না মানলে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের এয়ারসাইড প্রবেশপাস বাতিলসহ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। তবে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বেবিচকের কাছে পূর্ণাঙ্গ তথ্য জমা দেয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বিমানবন্দরের এয়ারসাইড হলো সেই সংরক্ষিত এলাকা, যেখানে উড়োজাহাজ ওঠানামা করে, ট্যাক্সিওয়ে দিয়ে চলাচল করে এবং এপ্রোনে পার্কিং ও যাত্রী ওঠানামার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ এলাকায় ব্যাগেজ ট্রলি, পুশব্যাক ট্রাক্টর, জ্বালানিবাহী ট্যাঙ্কার, ক্যাটারিং ভ্যান, কার্গো লোডার, পানি সরবরাহকারী গাড়ি, যাত্রীবাহী বাস, রক্ষণাবেক্ষণ ভ্যান, অ্যাম্বুলেন্স ও নিরাপত্তা টহল গাড়িসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে।

একটি হিসাবে প্রতিদিন এ এলাকায় ৭০০ থেকে ৮০০টি সার্ভিস ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং যানবাহন চলাচল করে। তবে সংশ্লিষ্ট আরেকটি সূত্রের হিসাবে, প্রতিদিন গড়ে ৩৫০ থেকে ৪৫০টি যানবাহন এয়ারসাইডে প্রবেশ করে। ব্যস্ত সময়ে এ সংখ্যা প্রায় ৫০০-তে পৌঁছায়। যানবাহনের সংখ্যা নিয়ে এই দুই হিসাবের পার্থক্য থাকলেও বিপুলসংখ্যক গাড়ির চলাচল এবং সেগুলোর পর্যবেক্ষণে ঘাটতির বিষয়টি স্পষ্ট।

উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব যানবাহনের বড় একটি অংশ এখনো কার্যকর ট্র্যাকিং ব্যবস্থার আওতায় আসেনি। ফলে কোনো গাড়ি কোথায় রয়েছে, কত গতিতে চলছে কিংবা নির্ধারিত পথ অনুসরণ করছে কি না, তা কেন্দ্রীয়ভাবে তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে গ্রাউন্ড কন্ট্রোলারদের অনেক ক্ষেত্রে ম্যানুয়াল নজরদারি ও রেডিও যোগাযোগের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে মানবিক ভুলের আশঙ্কা বাড়ছে।

এয়ারসাইডে যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল উড়োজাহাজ পরিচালনায় নানা সমস্যা তৈরি করছে। চালকেরা ভুল করে নির্ধারিত পথ ছেড়ে ট্যাক্সিওয়ে বা রানওয়ের সক্রিয় এলাকায় প্রবেশ করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে রাতে ও ঘন কুয়াশায় দৃশ্যমানতা কমে গেলে এ ঝুঁকি আরও বাড়ে।

এপ্রোনে একসঙ্গে অনেক যানবাহন চলাচল করায় যানজটও তৈরি হয়। এতে উড়োজাহাজের কাছে প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছাতে দেরি হয়। ব্যাগেজ ও ক্যাটারিং গাড়ির চলাচলে সমন্বয়হীনতা দেখা দিলে ফ্লাইটের নির্ধারিত সময়সূচিও ব্যাহত হতে পারে।

জ্বালানিবাহী ট্যাঙ্কার ও কার্গো লোডারের মতো ভারী যানবাহন ভুল পথে গেলে উড়োজাহাজের ডানা বা ইঞ্জিনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একইভাবে জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি চলাচলে বাধা সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

বিমান নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের মতে, কেন্দ্রীয় ট্র্যাকিং ব্যবস্থা কার্যকর থাকলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কোনো যানবাহন প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে সতর্কবার্তা দেওয়া সম্ভব। এতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায় এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা কমানো সম্ভব।

বেবিচকের এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট বিভাগ গত কয়েক বছরে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভিটিএস স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে। সিএনএস-এটিএম ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এয়ারসাইডের সব অনুমোদিত যানবাহনকে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে বাস্তবায়িত রাডার ও সিএনএস-এটিএম প্রকল্পের আওতায় অ্যাডভান্সড সারফেস মুভমেন্ট গাইডেন্স অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম এবং ভেহিকেল ট্র্যাকিং সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার থেকে রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে ও এপ্রোনে থাকা উড়োজাহাজ এবং যানবাহনের অবস্থান পর্যবেক্ষণের সুযোগ রয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় ৮০টি ভেহিকেল ট্র্যাকার সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রয়োজনে এ সংখ্যা বাড়ানোরও সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স ও সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের সব যানবাহনে ট্র্যাকার স্থাপন এবং পূর্ণাঙ্গ তালিকা জমা দেওয়ার কাজ শেষ করেনি।

বেবিচক ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে নতুন করে চিঠি দিয়ে অক্টোবরের মধ্যে এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে সতর্ক করা হয়, নির্দেশনা অমান্য করার কারণে কোনো দুর্ঘটনা বা নিরাপত্তা বিঘ্ন ঘটলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দায় নিতে হবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আক্তার এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‌‌‘শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় কোনো ধরনের আপস করার সুযোগ নেই। ভিটিএস স্থাপন কেবল প্রশাসনিক কোনো নির্দেশনা নয়, এটি আন্তর্জাতিক আকাশপথের নিরাপত্তার অংশ। যেসব সংস্থা বা এয়ারলাইন্স নির্ধারিত সময়ে এ নির্দেশ মানবে না, তাদের যানবাহনের এয়ারসাইড এন্ট্রি পাস পুরোপুরি বাতিল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে পুরো বিষয়টি সরাসরি তদারকি করা হচ্ছে।’

বেবিচকের সদস্য (এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট) এয়ার কমডোর মো. নূর-ই-আলম বলেন, ‘বিশ্বের আধুনিক বিমানবন্দরগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে ভিটিএস ব্যবহার করা হচ্ছে। শাহজালালে এ ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হলে এয়ারসাইডের সব অনুমোদিত যানবাহন কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে যানবাহনের গতিবিধি কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাচ্ছে না। ট্র্যাকার স্থাপন করা হলে প্রতিটি যানবাহনের অবস্থান শনাক্ত করা যাবে। কোনো গাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ করলে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তাও দেওয়া সম্ভব হবে। এতে নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাবে এবং নিরাপত্তা জোরদার হবে।’

বিমানবন্দরের পরিচালক উইং কমান্ডার (অব.) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এয়ারসাইডে প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করে। ভিটিএস ছাড়া এসব যানবাহনের পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বারবার তাগাদা দেওয়া হয়েছে। এখন আর সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই।’

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র শাহনুর আহমেদ জানিয়েছেন, তাদের যানবাহনে অনেক আগেই ট্র্যাকার স্থাপন করা হয়েছে। এপ্রোনে চলাচলকারী গাড়ির পাশাপাশি শহরে চলাচলকারী অনেক যানবাহনেও এ ব্যবস্থা রয়েছে। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও দ্রুত ভিটিএস বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

এয়ারসাইডে কর্মরত কয়েকজন চালকও ট্র্যাকিং ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে সৃষ্ট সমস্যার কথা জানিয়েছেন। পুশব্যাক ট্রাক্টর চালক মো. জাহিদ হোসেন বলেন, তিনি প্রতিদিন আট থেকে দশটি ফ্লাইটের উড়োজাহাজ পুশব্যাক করেন। ভিটিএস থাকলে নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে তার অবস্থান স্পষ্টভাবে দেখা যেত। বর্তমানে কখনো কখনো ম্যানুয়াল নির্দেশনা বুঝতে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। একবার তিনি প্রায় ভুল পথে চলে গিয়েছিলেন। তবে সৌভাগ্যক্রমে দুর্ঘটনা ঘটেনি।

ব্যাগেজ ট্রলি চালক আবদুল মালেক বলেন, ব্যস্ত সময়ে এপ্রোনে একসঙ্গে ২০ থেকে ২৫টি ট্রলি চলাচল করে। ট্র্যাকিং ব্যবস্থা না থাকায় কোন ট্রলি কোথায় রয়েছে, তা বোঝা কঠিন হয়। রাতে এ সমস্যা আরও বাড়ে। গত মাসে দুটি ট্রলির মধ্যে হালকা ধাক্কা লাগার ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি জানান।

জ্বালানিবাহী ট্যাঙ্কার চালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, জ্বালানি নিয়ে চলাচলের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। ভিটিএস থাকলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে সতর্কবার্তা পাওয়া যেত। বর্তমানে তাদের রেডিও নির্দেশনার ওপর নির্ভর করতে হয়।

ক্যাটারিং ভ্যান চালক নূর মোহাম্মদ জানান, তিনি প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০টি ফ্লাইটে খাবার সরবরাহ করেন। এপ্রোনে যানজট হলে খাবার পৌঁছাতে দেরি হয়। ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু থাকলে যানবাহনের রুট নির্ধারণ ও চলাচলের সমন্বয় সহজ হতো।

অন্যদিকে, রক্ষণাবেক্ষণ ভ্যান চালক রফিকুল হাসান বলেন, উড়োজাহাজ মেরামতের প্রয়োজনে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হয়। কিন্তু অন্য যানবাহনের কারণে অনেক সময় পথ আটকে যায়। কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু হলে এ ধরনের সমস্যা কমতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অতীতেও শাহজালাল বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড অপারেশন ঘিরে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে একটি পুশকার্টের ধাক্কায় এয়ার ইন্ডিয়ার একটি উড়োজাহাজের নোজ হুইল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছিল। ২০২২ সালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের হ্যাঙ্গারে দুটি উড়োজাহাজের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। একই বছরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ট্রলি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজে আঘাত করে।

এসব ঘটনা এয়ারসাইডে যানবাহন চলাচল ও গ্রাউন্ড অপারেশনে বিদ্যমান ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনেছে। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে ভিটিএস না থাকার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পৃথক তদন্তের তথ্য প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) মানদণ্ড অনুযায়ী, বিমানবন্দরের সারফেস মুভমেন্ট ব্যবস্থাপনায় নিরাপদ চলাচল, নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে সারফেস মুভমেন্ট গাইডেন্স অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল আইন ও বেবিচকের পরিচালন নির্দেশিকায়ও এয়ারসাইডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানা, লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিলের মতো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ভিটিএস ছাড়া এয়ারসাইড পরিচালনা আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করলে কেন্দ্রীয় ট্র্যাকিং ছাড়া কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন। তাই দ্রুত এ ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু করা জরুরি।

বর্তমানে শাহজালাল বিমানবন্দরে প্রতিদিন গড়ে ১২০ থেকে ১৩০টি ফ্লাইট ওঠানামা করে। যাত্রীসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রাউন্ড সাপোর্ট যানবাহনের সংখ্যাও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ অবস্থায় ভিটিএসের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বেবিচক ও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নজরদারি অব্যাহত রাখার কথা বলা হলেও বাস্তবায়নের ঘাটতি এখনো কাটেনি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্রুত ট্র্যাকার স্থাপন, যানবাহনের পূর্ণাঙ্গ তালিকা জমা এবং কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা কার্যকর করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ বিষয়ে আর বিলম্বের সুযোগ নেই।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমএস/একেকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!