নাসা বলছে, তাদের মহাকাশযানটি নিরাপদ ও স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে। এটি সূর্যের পৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৩ দশমিক ৮ মিলিয়ন মাইল (৬ দশমিক ১ মিলিয়ন কিলোমিটার) দূর দিয়ে অতিক্রম করার পরও অক্ষত রয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের আগে বিজ্ঞানীরা নাসার পার্কার সোলার প্রোব থেকে একটি সংকেত পান। যদিও সূর্যের তীব্র তাপের মধ্য দিয়ে যাত্রার সময় কয়েকদিন ধরে এটি যোগাযোগহীন ছিল।
.png)
জানা গেছে, ক্রিসমাসের আগের দিন মহাকাশযানটি সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডলের গভীরে প্রবেশ করে। সেখানে এটি অত্যন্ত তীব্র তাপমাত্রা ও চরম রশ্মির মুখোমুখি হয়।
ঘণ্টায় সর্বোচ্চ চার লাখ ৩০ হাজার মাইল (ছয় লাখ ৯২ হাজার কিলোমিটার) বেগে চলার সময় প্রায় এক হাজার ৮০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৯৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) তাপমাত্রা সহ্য করেছে মহাকাশযানটি। সূর্যের এত কাছে গিয়ে পার্কার সোলার প্রোব নামের মহাকাশযানটি এমন তথ্য সংগ্রহ করতে পারে, যা বিজ্ঞানীদের বুঝতে সাহায্য করে কীভাবে ঐ অঞ্চলের পদার্থ লাখ লাখ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উত্তপ্ত হয়। এটি সৌর বায়ুর উৎস খুঁজে বের করতে এবং কীভাবে শক্তিশালী কণাগুলো প্রায় আলোর গতিতে পৌঁছায় তা জানতেও সহায়তা করে।
নাসার বিজ্ঞান শাখার প্রধান ড. নিকোলা ফক্স এর আগে বলেছিলেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষ সূর্য নিয়ে গবেষণা করছে। কোনো স্থানে সরাসরি না গেলে সেখানকার বায়ুমণ্ডল সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় না।
২০১৮ সালে সূর্যের কেন্দ্রে পৌঁছানোর জন্য পার্কার সোলার প্রোব নামে মহাকাশযানটি উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। এটি ইতোমধ্যেই ২১ বার সূর্যকে পাশ কাটিয়ে গেছে এবং প্রতিবার আরো কাছে পৌঁছে যায়। তবে ক্রিসমাসের আগে সব রেকর্ড ভাঙে মহাকাশযানটি।