শারীরিক ও আর্থিক সক্ষমতা থাকলে জীবনে একবার হজ করা ফরজ। হজের মৌসুমে হজে যাওয়া-আসার খরচসহ সফরে থাকাকালীন দিনগুলোতে তার ও পরিবারের লোকদের স্বাভাবিক খরচের ব্যবস্থা থাকলে এবং দৈহিকভাবে হজ করার সক্ষমতা থাকলে হজের সামর্থ্য প্রমাণিত হয় ও হজ ফরজ হয়।
মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনুল কারিমে বলেন, اِنَّ اَوَّلَ بَیۡتٍ وُّضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِیۡ بِبَکَّۃَ مُبٰرَکًا وَّ هُدًی لِّلۡعٰلَمِیۡنَ فِیۡهِ اٰیٰتٌۢ بَیِّنٰتٌ مَّقَامُ اِبۡرٰهِیۡمَ ۬ۚ وَ مَنۡ دَخَلَهٗ کَانَ اٰمِنًا وَ لِلّٰهِ عَلَی النَّاسِ حِجُّ الۡبَیۡتِ مَنِ اسۡتَطَاعَ اِلَیۡهِ سَبِیۡلًا وَ مَنۡ کَفَرَ فَاِنَّ اللّٰهَ غَنِیٌّ عَنِ الۡعٰلَمِیۡنَ
.png)
অর্থ: ‘নিশ্চয় প্রথম ঘর, যা মানুষের জন্য স্থাপন করা হয়েছে, তা মক্কায়। যা বরকতময় ও হেদায়াত বিশ্ববাসীর জন্য। তাতে রয়েছে স্পষ্ট নির্দশনসমূহ, মাকামে ইব্রাহিম। আর যে তাতে প্রবেশ করবে, সে নিরাপদ হয়ে যাবে এবং সামর্থ্যবান মানুষের উপর আল্লাহর জন্য বায়তুল্লাহর হজ করা ফরজ। আর যে কুফরি করে, তবে আল্লাহ তো নিশ্চয় সৃষ্টিকুল থেকে অমুখাপেক্ষী’। (সূরা: আলে ইমরান, আয়াত: ৯৬, ৯৭)
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে বিশ্বনবি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি শুধু আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য হজ করবে আর কোনোরূপ অশ্লীলতা করবে না এবং পাপাচার করবে না সে ওই দিনের মতো নিষ্পাপ অবস্থায় ফিরে আসবে যেদিন তার মা তাকে জন্মদান করেছেন’। সুবহানাল্লাহ! কত বড় ফজিলত। বান্দা যত বড় গুনাহ করুক না কেন হজ করার মাধ্যমে সে নিষ্পাপ শিশু হয়ে যায়।
হজের যেমন অনেক ফজিলত রয়েছে। ঠিক তেমনি হজ না করারও ক্ষেত্রে কঠিন হুঁশিয়ারি উচ্চারিত হয়েছে। বিশ্বনবি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি বাহন ও পাথেয় এর মালিক হয়েছে, যা তাকে আল্লাহর ঘর পর্যন্ত পৌঁছে দেবে তবু সে হজ করলো না তাহলে সে ইহুদি অবস্থায় মারা গেল, না নাসারা অবস্থায়; তাতে কিছু আসে যায় না। অর্থাৎ তার হালাকি ও বরবাদি অবশ্যম্ভাবী। তা এ কারণে যে, আল্লাহ তাআলা বলেছেন ‘যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছতে সক্ষম তার ওপর বায়তুল্লাহর হজ ফরজ করা হয়েছে’। (তিরমিজি, ৮১২)
ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘শক্তি ও সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে হজ করল না, আল্লাহর কসম সে হয় ইহুদি হয়ে মারা যাবে, না হয় নাসারা হয়ে’। আল্লাহু আকবার, কি ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারি! এরপরও কি কোনো মুসলিম, যে আল্লাহকে বিশ্বাস করে, আল্লাহর রাসূলকে বিশ্বাস করে, যার ওপর হজ ফরজ হয়েছে, সে কি হজ আদায় না করে থাকতে পারে? এমন দুঃসাহস দেখাতে পারে?
অথচ এমন অনেক লোক আছে যারা সময় ও সুযোগের অভাব এবং ব্যবসায়িক ঝামেলার অজুহাতে ফরজ হজ আদায় করার কথা চিন্তাও করে না। যখন মৃত্যুর সময় হবে। আর মৃত্যু তাকে থাবা দিয়ে নিয়ে যাবে। তখন কোথায় থাকবে তার ব্যবসায়ী ঝামেলা? সময় অভাবের অজুহাত? সুতরাং এখনো সময় আছে আমরা যেন সাবধান হই। হজ ফরজ হওয়া মাত্র যেন হজ আদায় করার বিষয় পূর্ণ সচেষ্ট হই।
অনেকেই মনে করেন, বৃদ্ধাবস্থায় হজ আদায় করবেন। হজ একটি আর্থিক ও শারীরিক ইবাদাত। সুতরাং পরে দেখা যায়, তিনি আর শারীরিকভাবে সক্ষম থাকেন না কিংবা হজ পালন করার আগেই মৃত্যুবরণ করেন। তাই শেষ জীবনের ভরসায় না থেকে হজ ফরজ হলে দ্রুত আদায় করা ফেলা আবশ্যকীয়।
আবু হুরায়রাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে এ হাদিসটিও বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন আমল সর্বোত্তম? তিনি বললেন, আল্লাহ ও তার রাসূলের ওপর বিশ্বাস স্থাপন। আবার জিজ্ঞেস করা হলো, তারপরে কোন আমল?
তিনি বললেন, আল্লাহর পথে জিহাদ করা। আবারও জিজ্ঞেস করা হলো, এরপর কোনটি? তিনি বললেন, ‘হজে মাবরুর অর্থাৎ- কবুলযোগ্য হজ’। (বুখারি ২৬, মুসলিম ৮৩, তিরমিজি ১৬৫৮)
উল্লেখ্য, কেউ যদি হজ অস্বীকার করে বা কোনো ধরনের অবহেলা প্রদর্শন করে তবে সে আল্লাহর জিম্মার বাইরে বলে বিবেচিত হবে।