ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ ধর্ম ]

কর্মকাণ্ডই মানুষকে মূল্যায়নের ভিত্তি

নিয়ামূল ফাতেমি
প্রকাশিত: ১৫:৪১, ২৩ জানুয়ারি ২০২৪
কর্মকাণ্ডই মানুষকে মূল্যায়নের ভিত্তি
অলংকরণ: ডেইলি বাংলাদেশ

মানুষকে মূল্যায়নের ভিত্তি তার নিজের কর্মকাণ্ড; বংশমর্যাদা নয়। ‘অমুক অমুকের সন্তান/ভাই/বোন, সে আর কত ভালো হবে?’ কিংবা ‘সে তো ভালো হবেই, বংশ বলে একটা কথা আছে না?’ এসব সঠিক নয়! এগুলো ভুল কথা।

হজরত নূহ (আ.) এর সব পুত্র পিতার অনুগত ছিল না। তার স্ত্রী জাহান্নামি নারীর উদাহরণ। এমনকি হজরত লুত (আ.) এর স্ত্রী জাহান্নামি নারীর উদাহরণ, অথচ ফেরাউনের স্ত্রী জান্নাতি নারীর উদাহরণ। হজরত ইব্রাহিম (আ.) এর পিতা ছিল এক ভয়ংকর অবিশ্বাসী মানুষ। রাসুল (সা.) এর প্রিয় সিপাহসালার ছিলেন ইকরামা, যিনি হলেন আবু জেহেলের পুত্র।

এই সমাজে অনেক উঁচু স্তরের মানুষের সন্তান রয়েছে, যারা নানাবিধ জঘন্য/অন্যায্য কাজের সঙ্গে জড়িত। আবার অনেক নীচু স্তরের মানুষের সন্তান রয়েছে, যারা অনেক ভালো এবং মানবিক কাজের সঙ্গে যুক্ত। সুতরাং, কোনো মানুষকে ঢালাওভাবে মূল্যায়ন করা উচিত কর্ম নয়।

Advertisement

কথায় আছে, ‘জন্ম হোক যথা তথা কর্ম হোক ভালো।’ জন্মের দোহাই দিয়ে, বংশের দোহাই দিয়ে কারো মূল্যায়ন অনুচিত, অযৌক্তিকও বটে। অনেক পরিবার আছে যেখানে এক সন্তান ভালো মানুষ, আরেকজন বেশ খারাপ কাজ করে বেড়ান। এক সন্তান করে অমুক দল, আরেকজন তমুক দল। কেউ আস্তিক, কেউবা নাস্তিক, কেউ সেকেলে, কেউ আধুনিক, আবার কেউ অত্যাধুনিক ইত্যাদি।

কোনো এক ভাই ঘুসখোর হলে আরেক ভাইও এমন হবে, তা বিশ্বাস করা ঠিক নয়। আবার এক ভাই ধার্মিক হলে আরেক ভাইও ধার্মিক হবে, তাও বিশ্বাস করা উচিত নয়।

মোদ্দাকথা, যে কোনো পরিবার, সমাজ বা গোত্র থেকে ভালো মানুষও বেরিয়ে আসতে পারে, আবার খারাপ মানুষও থাকতে পারে। সুতরাং, কোনো মানুষ, পরিবার বা জনগোষ্ঠীকে খাটো করে দেখার বা অবহেলা করার সুযোগ নাই। একইভাবে শুধু তথাকথিত বংশমর্যাদার নামে বা বাবা-দাদার নাম ডাকের উপর ভিত্তি করে কাউকে অতি মূল্যায়ন করারও কোনো সুযোগ নাই। 

কোন মানুষই তার নিজের জন্মের জন্য দায়ী নয়। প্রতিটি মানুষের মূল্যায়ন হওয়া উচিত তার নিজ কর্মকাণ্ডের ওপর ভিত্তি করে। আর কোন কিছুই বিবেচ্য হতে পারে না।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এনকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!