বায়তুল্লাহ সম্পর্কিত কিছু তথ্য, হয়তো অনেকেরই অজানা
বায়তুল্লাহ বা মহান আল্লাহ ঘর হচ্ছে পবিত্র কাবা। প্রতিটি মুসলিমের হৃদয়রাজ্যে বাস করে বায়তুল্লাহ জিয়ারতের স্বপ্ন।
এই আল্লাহ ঘর কাবার পরিচিতি বিশ্বজোড়া। কিন্তু এই কাবা ঘর সম্পর্কিত এমন কিছু তথ্য রয়েছে যা অনেকেই জানেন না। আর তাই পবিত্র কাবা সম্পর্কে এমন অজানা ১০টি তথ্য নিয়ে আমাদের আজকের এই বিশেষ আয়োজন।
চলুন তাহলে জেনে নিই অজানা সেই তথ্যগুলো-

(১) কাবা ঘর কয়েকবার নির্মিত হয়েছে: নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও যুদ্ধবস্থার কারণে কাবা ঘর কয়েকবার নির্মাণ করা হয়েছে। অধিকাংশ ঐতিহাসিকের মতে কাবা মোট ১২ বার নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমান ডিজাইনের নির্মাতা মুসলিম শাসক হাজ্জাজ বিন ইউসুফ। হাজ্জাজ বিন ইউসুফ নিজে এই ডিজাইনটি করেরনি। বরং তিনিও ইসলাম পূর্ববতী কুরাইশদের ডিজাইন অনুনরণ করেছেন। পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকবার কাবার সংস্কারের কাজ করা হলেও মূল ডিজাইনে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। সর্বশেষে কাবার সংস্কার কাজ করা হয় ১৯৯৬ সালে। তখন বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কাবার দেয়াল ও প্রাঙ্গনকে দৃঢ় ও মজবুত করা হয়।

(২) কাবার গিলাফের রং পরিবর্তন: কাবাকে গিলাফে আবৃত করার প্রচলন শুরু হয় জুরহুম গোত্রের মাধ্যমে। পরবর্তী সময়ে এ ধারা চলমান থাকে। মহানবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) কাবা ঘরকে একটি সাদা ইয়েমেনি চাদরে আবৃত করেন। পরবর্তী খলিফারা কাবা ঘরের গিলাফের ক্ষেত্রে সাদা, লাল এবং সবুজ রং ব্যবহার করেছেন। আব্বাসিয় খলিফারা কালো গিলাফের প্রচলন করেন। এখনো এটি সেই কালো রংয়েই বহাল আছে।
(৩) ডিজাইন পরিবর্তন: পবিত্র কাবা ঘর বর্তমানে ঘনকাকৃতির অবয়বে আছে। পূর্বে ইব্রাহিম (আ.) এটিকে এই আকৃতিতে তৈরি করেননি। ইসলাম পূর্বযুগে কুরাইশরা কাবা পুনঃনির্মাণ করে। তখন অর্থ সংকটের কারণে কাবার কিছু অংশ নির্মাণের বাইরে থাকে। এটি মূলত কাবার অভ্যন্তরীণ অংশ। বর্তমানে এটিকে একটি ছোট দেয়াল দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। একে হাতিম হিসেবে অভিহিত করা হয়।
(৪) কাবার দরজা মূলত কয়টি? কাবার মূল দরজা ছিলো দুটি এবং একটি জানালাও ছিলো। বর্তমানে দরজা আছে একটি। জানালা নেই । তবে কাবার অভ্যন্তরে আরেকটি দরজা আছে। যা ছাদে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়।

(৫) কাবা ঘরের অভ্যন্তর: কাবা ঘরের অভ্যন্তরে কি আছে? এ নিয়ে সবার মনেই প্রশ্ন জাগে। কাবার অভ্যন্তরে তিনটি পিলার মূল ছাদটিকে ধরে রেখেছে। দুই পিলারের মাঝে একটি টেবিল সুগন্ধি রাখা আছে। দেয়ালের উপরাংশে একটি সবুজ কাপড়াবৃত করে রেখেছে। কাপঢ়টিতে কোরআনের বিভিন্ন আয়াত ক্যালিগ্রাফি খচিত।
(৬) হাজরে আসওয়াদ ভেঙ্গে ছিলো: হাজরে আসওয়াদ মূলত একটি বড় পাথর ছিলো। তবে বর্তমানে এটি মোট আটটি পাথরখন্ডের সমষ্টি। নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যাগে পাথরটি ভেঙ্গে গেছে। সর্বপ্রথম এর ওপর রুপোর ফ্রেম বাঁধাই করেন। আব্দুল্লাহ বিন জুবাইর।

(৭) কাবার রক্ষক পরিবার কারা? অবাক করা ব্যাপার হলো- ইসলাম পূর্বযুগ হতে এখন পর্যন্ত একটি গোত্রই কাবার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করছে। গোত্রটির নাম বানু শাইবাহ। বিগত প্রায় ১৫ শতাব্দী ধরে এই গোত্রের হাতেই আছে কাবা ঘরের চাবি।
(৮) কাবা ঘর পরিষ্কার কার্যক্রম: কাবা ঘরের রক্ষকগোত্র বানু শাইবার তত্ত্বাবধানে বছরে দু‘বার কাবা পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় । জমজম কুয়ার পানি, গোলাপজল এবং আরবের বিখ্যাত সুগন্ধি উদ তেলের সমন্বয়ে একটি বিশেষ ক্লিনিং লিকুইড তৈরি করা হয় এবং তা দিয়েই কাবা ঘর পরিষ্কার করা হয়।
(৯) উন্মুক্ত দরজা: কাবার দরজা একসময় সবার জন্যই উন্মুক্ত ছিলো। পরবর্তীতে লোক সমাগম বেড়ে যাওয়ার কারণে কাবার দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়। বর্তমানেও এটি বিশেষ সময়ে খোলা হয়ে থাকে।

(১০) বিরতিহীন তাওয়াফ: কাবার আরেটি অবিশ্বাস্য দিক হলো- সবসময়ই এর চারপাশে তাওয়াফ চলতে থাকে। শুধু নামাজের জামাত যে সময়টুকুতে হয় , তাছাড়া বাকি পুরো সময় ধরে কাবার চারধারে চলতে থাকে অবিরাম তাওয়াফ।