পোশাক শ্রমিকদের দাবির মুখে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত
তৈরি পোশাক খাতে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধ এবং ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের পুনর্নিয়োগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে রোববার প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ঢাকার মিরপুর, সাভার ও গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এবং বিভিন্ন কারখানা ও বিপণিবিতানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, শ্রমিকদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল নতুন মজুরি বোর্ড গঠন। এ বিষয়ে সরকার এবং পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ একমত হয়েছে।
তিনি বলেন, শ্রমিক প্রতিনিধিরাও বোর্ডে তাদের মনোনীত সদস্যদের নাম জমা দিয়েছেন। রোববারের মধ্যেই বোর্ড গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
মন্ত্রী শ্রমিকদের আন্দোলন বন্ধ করে কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বকেয়া বেতন ও অন্যান্য পাওনা দ্রুত পরিশোধের জন্য মালিকপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, শ্রমিক আন্দোলনে কিছু বহিরাগত রাজনৈতিক গোষ্ঠী পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন মন্ত্রী।
সর্বশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তৈরি পোশাক খাতে নিম্নতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। নতুন শ্রম আইন অনুযায়ী, প্রতি তিন বছর পরপর মজুরি পুনর্নির্ধারণের বিধান রয়েছে।
শনিবার মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভের সময় সড়ক অবরোধ ও কারখানা-মার্কেটে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। আশুলিয়ায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে শ্রমিক, পুলিশ ও পথচারীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে ৩০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।
অন্যদিকে, গাজীপুরের কালিয়াকৈরেও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকেরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনায় মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।