ঢাকা,  শনিবার   ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

[ জাতীয় ]

পেঁয়াজ আমদানি শূন্যে রাখতে কাজ করছে সরকার: কৃষিমন্ত্রী

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:৫৫, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
পেঁয়াজ আমদানি শূন্যে রাখতে কাজ করছে সরকার: কৃষিমন্ত্রী
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ, অপচয় রোধ ও রপ্তানি বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণে কাজ করছে সরকার। এর অংশ হিসেবে গাজীপুরের শ্রীপুরে উদ্বোধন করা হয়েছে দেশের প্রথম বৃহৎ পরিসরের গামা ইরেডিয়েশন সেন্টার। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষিপণ্যের পচন রোধ, সংরক্ষণকাল বৃদ্ধি ও ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংসের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে শ্রীপুর উপজেলার ভবানীপুরে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) আঞ্চলিক গবেষণা কেন্দ্রে স্থাপিত এ সেন্টারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, এ বছর দেশে পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি। ভবিষ্যতেও যেন এক কেজি পেঁয়াজ আমদানি করতে না হয়, সেই লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, কৃষিপ্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে কৃষিপণ্য এখনো প্রধান রপ্তানি পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি। এর অন্যতম কারণ প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করে কৃষিপণ্যকে দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাতে পরিণত করতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে।

আম, কাঁঠাল ও আনারসের মতো দেশীয় ফলের আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, রপ্তানির ক্ষেত্রে খাদ্যনিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে না পারায় এ সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। গামা ইরেডিয়েশন প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্ষতিকর জীবাণু নিয়ন্ত্রণ ও পণ্যের সংরক্ষণকাল বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে বিদেশের বাজারে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের চাহিদা বাড়বে।

মন্ত্রী আরও বলেন, কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং অপচয় কমানো সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে পেঁয়াজ, আলু, ফলমূল ও শাকসবজি সংরক্ষণের সুযোগ বাড়বে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

নিরাপদ খাদ্যের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, আমদানি করা খাদ্যপণ্যের গুণগত মান পরীক্ষা করা হচ্ছে। যেসব খাদ্য মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, সেগুলোর আমদানি বন্ধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিনার অধীনে নির্মিত পাঁচ লাখ কিউরি ক্ষমতাসম্পন্ন কেন্দ্রটি কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানির মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। গামা রশ্মি প্রয়োগের মাধ্যমে খাদ্যপণ্যের ক্ষতিকর জীবাণু নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষণকাল বৃদ্ধি এবং রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্যের কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থার মান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। এ সময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান, বাংলাদেশে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রতিনিধি ড. জিয়াকুন শি, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম. মঈনুল ইসলামসহ দেশি-বিদেশি কৃষিবিজ্ঞানী, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিনা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না আইসোটোপ অ্যান্ড রেডিয়েশন করপোরেশন (সিআইআরসি) আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে কেন্দ্রটি নির্মাণের কার্যাদেশ পায়। বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির এটি প্রথম বড় ধরনের প্রকৌশল, ক্রয় ও নির্মাণ (ইপিসি) প্রকল্প।

ডেইলি-বাংলাদেশ/গাজীপুর/এমকে
ট্যাগ: গাজীপুর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!