শিশুদের স্বপ্নেই আগামীর বাংলাদেশ: মঈন খান
শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, শিশুদের জন্য কাজ করা মানেই দেশের ভবিষ্যতের জন্য কাজ করা। আজকের শিশুরাই আগামী দিনে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেবে।
বুধবার সকালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ ও একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘শিশুর স্বপ্নে ৫০ বছর: অর্জনে অভিজ্ঞতা ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. আবদুল মঈন খান বলেন, আজকের শিশুরাই ভবিষ্যতে দেশের পূর্ণ নাগরিক হয়ে বাংলাদেশকে গড়ে তুলবে। এটি একটি বড় দায়িত্ব। তবে শুধু শিশুদের নয়, তাদের সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার পরিবেশ নিশ্চিত করা বর্তমান প্রজন্মেরও দায়িত্ব।
শিশুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা যদি সঠিকভাবে গড়ে উঠতে ব্যর্থ হয়, এর দায় বর্তমান প্রজন্মকেই নিতে হবে। তাই দেশকে ভালোবাসলে এখন থেকেই বাংলাদেশের সুনাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিতে হবে।
শিশুদের অধিকার নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ বিশ্বজুড়ে শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার ১৩ বছর আগেই ১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমান শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছিলেন। দেশের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করতে শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও তিনি অনুধাবন করেছিলেন।
তিনি বলেন, ‘শিশুর পিতা ঘুমিয়ে আছে সব শিশুরই অন্তরে’—এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বোঝানো হয়েছে, শিশুরাই ভবিষ্যতে দেশের পূর্ণ নাগরিক হয়ে দেশকে গড়ে তুলবে। তারাই আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক ও দেশের নেতৃত্ব দেবে।
বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তিকে দেশের শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিশুরা শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের সাক্ষী হয়েছে। এ অভিজ্ঞতা তাদের সারাজীবন মনে রাখা উচিত।
সৃষ্টির চাকার সঙ্গে শিশুদের ভবিষ্যতের তুলনা করে মন্ত্রী বলেন, পৃথিবী কখনো থেমে থাকে না। সৃষ্টির চাকা সব সময় সামনে এগিয়ে যায়। শিশুরাও সেই অগ্রযাত্রার অংশ। তাই তাদের ভবিষ্যতের জন্য এখন থেকেই নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।
শিশুদের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া শিক্ষা ভবিষ্যৎ জীবনে কাজে লাগাতে হবে। সুনাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ অনুসরণ করে দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালমা আক্তার এবং শিশু একাডেমির মহাপরিচালক আরজু আরা বেগম।