এআই চিপের চাহিদায় ৯ গুণ মুনাফার পথে স্যামসাং
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণে উচ্চক্ষমতার চিপের চাহিদা বেড়েছে। এর প্রভাবে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে বড় ধরনের মুনাফা করতে যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স।
বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালন মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় নয় গুণ বাড়তে পারে। এ সময়ে স্যামসাংয়ের পরিচালন মুনাফা ১০৬ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন কোরিয়ান ওনে পৌঁছাতে পারে। গত বছরের একই প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালন মুনাফা ছিল ১২ দশমিক ১৭ ট্রিলিয়ন ওন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই অবকাঠামো নির্মাণে ব্যাপক বিনিয়োগের ফলে উচ্চক্ষমতার মেমোরি চিপের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে মেমোরি চিপের বাজারে সংকট চলছে। চিপ নির্মাতাদের ধারণা, এই সংকট আগামী বছর এমনকি ২০২৮ সাল পর্যন্তও অব্যাহত থাকতে পারে।
তবে চিপের দাম বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমে এসেছে। ফলে স্যামসাংয়ের মেমোরি চিপ ব্যবসায় মুনাফার হার আগের মতো দ্রুত বাড়ছে না। বিশ্লেষকদের হিসাবে, তৃতীয় প্রান্তিকে এই ব্যবসায় পরিচালন মুনাফার হার প্রায় ৭৬ শতাংশ হতে পারে, যা আগের প্রান্তিকের সমান।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ট্রেন্ডফোর্সের পূর্বাভাস বলছে, চলতি বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে প্রচলিত ডিআরএএম চিপের চুক্তিভিত্তিক দাম আগের প্রান্তিকের তুলনায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বাড়তে পারে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে যেখানে দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছিল, এবার সেই বৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
চিপের দাম বাড়ায় স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্যের উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছে। পাশাপাশি চিপ নির্মাতা ও ক্রেতাদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তি বাড়ায় দাম বৃদ্ধির সুযোগও সীমিত হয়ে আসছে।
এদিকে এআই ডেটা সেন্টারে ব্যবহৃত হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরি (এইচবিএম) চিপের বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে স্যামসাং। একসময় প্রতিদ্বন্দ্বী এসকে হাইনিক্সের তুলনায় পিছিয়ে থাকলেও নতুন প্রজন্মের এইচবিএম৪ চিপের সরবরাহ বাড়িয়ে চলতি বছর ব্যবধান কমানোর লক্ষ্য নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
জেপি মরগানের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর এইচবিএম চিপের বাজারে স্যামসাংয়ের অংশীদারত্ব ২০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৪ শতাংশ হতে পারে। বিপরীতে এসকে হাইনিক্সের বাজার অংশীদারত্ব ৬০ শতাংশ থেকে কমে ৪৬ শতাংশে নামতে পারে।
স্যামসাং বৃহস্পতিবার তৃতীয় প্রান্তিকের প্রাথমিক আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করতে পারে। বিস্তারিত আর্থিক প্রতিবেদন অক্টোবরের শেষ দিকে প্রকাশ করার কথা রয়েছে।