এক মাসে দুই দফা বাড়ল পশু খাদ্যের দাম
পোলট্রি ও পশুখাদ্য উৎপাদনের প্রধান কাঁচামালের দাম বাড়ায় এক মাসেরও কম সময়ে দুই দফায় বেড়েছে ফিডের দাম। আগস্টের শুরুতে প্রতি কেজি পশুখাদ্য যেখানে প্রায় ৬৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এখন তা বেড়ে সর্বোচ্চ ৭২ টাকা ৫০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এ সময়ে দাম বেড়েছে প্রায় ৭ শতাংশ।
তবে উৎপাদনকারীদের দাবি, কাঁচামালের দাম যে হারে বেড়েছে, সে তুলনায় ফিডের দাম বাড়ানো সম্ভব হয়নি। ফলে প্রতি কেজি ফিডে এখনো ৩ টাকার বেশি লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।
.png)
টিবিএসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধিতে ফিড মিলগুলো লোকসানে পড়েছে। অন্যদিকে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ছোট খামারিরা মুরগি ও ডিমের উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছেন। এর প্রভাব পড়ছে বাজার ও ভোক্তা পর্যায়েও।
খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে ভুট্টার দাম প্রায় ২৪ শতাংশ, ডি-অয়েলড রাইস ব্র্যান (ডিওআরবি) ২৭ শতাংশ এবং সয়াবিন মিলের দাম ২০ শতাংশ বেড়েছে। অন্যান্য প্রোটিন উৎসের দামও বেড়েছে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের ওঠানামায় আমদানি করা কাঁচামালের খরচও বেড়েছে।
বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিআইএ) সভাপতি মোশাররফ হোসেন চৌধুরী বলেন, আগস্টে প্রতি টন সয়াবিনের দাম ছিল প্রায় ৪৩০ ডলার। এখন তা বেড়ে ৫৩০ ডলারে উঠেছে। ছোট ফিড মিলগুলোর অনুরোধে আগস্টের শেষ দিকে প্রতি কেজি ফিডের দাম ২ টাকা এবং সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি আরও ২ টাকা ৫০ পয়সা বাড়ানো হয়েছে।
এরপরও প্রতি কেজি ফিডে ৩ টাকার বেশি লোকসান হচ্ছে বলে জানান তিনি।
আকিজ ফিড মিলসের চিফ বিজনেস অফিসার এটিএম হাবিবুর রহমান বলেন, মার্চ থেকে মে পর্যন্ত প্রতি কেজি ভুট্টা ২৮ থেকে ২৯ টাকায় পাওয়া গেলেও জুন থেকে আগস্টে তা বেড়ে ৩৮ থেকে ৪০ টাকায় উঠেছে। মানসম্মত পশুখাদ্য উৎপাদনের মোট খরচের ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ কাঁচামালের পেছনে ব্যয় হয় বলেও জানান তিনি।
ফিডের দাম বাড়ায় উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছেন ছোট খামারিরাও। গাজীপুরের মাওনার কুতবাড়ি গ্রামের ব্রয়লার খামারি আমির হোসেন জানান, আগে মাসে ৩০ বস্তা ফিড কিনলেও এখন তা কমিয়ে ২৮ বস্তায় এনেছেন। একই সঙ্গে খামারে মুরগির সংখ্যাও কমিয়েছেন তিনি।
আমির হোসেন বলেন, ৫০ কেজির এক বস্তা ফিডের দাম এখন সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৬৭৫ টাকা। ফিডের দাম বাড়লেও সে অনুযায়ী মুরগির দাম না বাড়ায় উৎপাদন কমাতে হচ্ছে।
পশুখাদ্যের দাম কমানো, আমদানি করা কাঁচামালের কর-শুল্ক কমানো এবং ডিম ও মুরগির ন্যায্য দাম নিশ্চিত করার দাবিতে বিভিন্ন জেলায় খামারিরা বিক্ষোভও করেছেন।
বাংলাদেশ মার্জিনাল পোলট্রি ফারমার্স কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক রাসেল প্রধান বলেন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ডিওআরবি ও রাইস ব্র্যানের সরবরাহ আগে দেশের চাহিদা অনুযায়ী নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি আমদানি করা কাঁচামালের ওপর ভ্যাট, কর ও শুল্ক কমানো এবং বাজার তদারকি জোরদারের দাবিও জানান তিনি।
পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধি ও উৎপাদন কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে বাজারেও। শনিবার ঢাকার বাজারে ফার্মের ডিম প্রতি ডজন প্রায় ১৫০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আগস্টের আগে ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা এবং ডিম ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল।
এ বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু বলেন, পশুখাদ্যসহ উৎপাদন উপকরণের ব্যয় কমাতে সরকার কাজ করছে। নিরাপদ ও সাশ্রয়ী দামে পোলট্রি পণ্য নিশ্চিত করতে উৎপাদন খরচ কমানো জরুরি।