ঢাকা,  শুক্রবার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

আগামী সপ্তাহে চালু হচ্ছে কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৩৩, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আগামী সপ্তাহে চালু হচ্ছে কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহে চালু হচ্ছে কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল। ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার বিমানবন্দরের নবনির্মিত টার্মিনাল আগামী সপ্তাহে অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের জন্য চালু হচ্ছে। অক্টোবরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর প্রস্তুতির মধ্যে নতুন টার্মিনাল চালু হওয়াকে বিমানবন্দরটিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহ থেকে নতুন টার্মিনাল দিয়ে অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের আগমন ও বহির্গমন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। বুধবার কক্সবাজার বিমানবন্দরের চূড়ান্ত প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে তিনি এ তথ্য জানান।

বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, বিমানবন্দরে চলাচলকারী সব অভ্যন্তরীণ এয়ারলাইনস নতুন টার্মিনালে যাত্রী ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম স্থানান্তরের প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে উড়োজাহাজ থেকে টার্মিনালে এবং টার্মিনাল থেকে উড়োজাহাজে যাত্রী পরিবহনে গলফ কার্ট ব্যবহার করা হবে।

Advertisement

তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম চালুর পর আগামী মাসে কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নভোএয়ারের মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস বিভাগের পরিচালক সোহেল মজিদ বলেন, নতুন টার্মিনাল ব্যবহারের জন্য তাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এরই মধ্যে পরীক্ষামূলক কার্যক্রমও সফলভাবে পরিচালনা করা হয়েছে। যাত্রী পরিবহনের জন্য গলফ কার্টও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের প্রস্তুতি

কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করতে নতুন টার্মিনাল নির্মাণের পাশাপাশি রানওয়ে সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন করা হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী অক্টোবরে বিমানবন্দরটিতে আন্তর্জাতিক কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি চলছে।

বেবিচকের সদস্য (অপারেশনস ও পরিকল্পনা) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মাহবুব খান জানান, আন্তর্জাতিক কার্যক্রম শুরু হলে টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা হবে। তখন আন্তর্জাতিক আগমন ও বহির্গমনকারী উভয় শ্রেণির যাত্রী নতুন টার্মিনাল ব্যবহার করবেন।

অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের ক্ষেত্রে আগমনকারী যাত্রীরা পুরোনো টার্মিনাল ব্যবহার করবেন। আর বহির্গমনকারী যাত্রীরা নতুন টার্মিনালে চেক-ইন সম্পন্ন করে পরে বোর্ডিংয়ের জন্য পুরোনো টার্মিনালে যাবেন।

নতুন টার্মিনালটি বেবিচকের বৃহত্তর উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ। এর লক্ষ্য কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পাশাপাশি বড় আকারের ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ পরিচালনার উপযোগী করে তোলা।

টার্মিনালে থাকছে আধুনিক সুবিধা

প্রায় ১৭ হাজার ৯৫৬ বর্গমিটার আয়তনের আন্তর্জাতিক টার্মিনালটি প্রায় ৩৬২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। টার্মিনালে ৪৫০ জন আন্তর্জাতিক যাত্রীর ধারণক্ষমতার ডিপার্চার লাউঞ্জ, শুল্কমুক্ত দোকান, বোর্ডিং ব্রিজ, লিফট, এসকেলেটর, কনভেয়ার বেল্ট, চেক-ইন ডেস্ক এবং ইমিগ্রেশন কাউন্টার রয়েছে।

বহির্গমনকারী যাত্রীদের জন্য চারটি এবং আগমনকারী যাত্রীদের জন্য ছয়টি ইমিগ্রেশন ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক যাত্রীদের লাগেজ সরবরাহের জন্য রয়েছে দুটি লাগেজ ডেলিভারি বেল্ট।

এ ছাড়া টার্মিনালে পাবলিক অ্যাড্রেস ব্যবস্থা, ফ্লাইট ইনফরমেশন ডিসপ্লে সিস্টেম, সাইনেজ, সিসিটিভি এবং ভারী হাতব্যাগ স্ক্যানিংয়ের সুবিধা রাখা হয়েছে।

বিমানবন্দর সম্প্রসারণের পর এর বার্ষিক যাত্রী ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার থেকে বেড়ে ১৮ লাখে উন্নীত হবে বলে আশা করছে বেবিচক।

১০ হাজার ৭০০ ফুট রানওয়ে

কক্সবাজার বিমানবন্দরের উন্নয়নের অন্যতম বড় অংশ হলো রানওয়ে সম্প্রসারণ। রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৯ হাজার ফুট থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুট করা হয়েছে। এর ফলে এটি দেশের দীর্ঘতম রানওয়েতে পরিণত হয়েছে।

রানওয়ে ১ হাজার ৭০০ ফুট সম্প্রসারণের জন্য বঙ্গোপসাগর থেকে প্রায় ৪৩ হেক্টর জমি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। সম্প্রসারিত রানওয়েটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর ও বোয়িং ৭৪৭-৪০০-এর মতো ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ সম্পূর্ণ বোঝাই অবস্থায় পরিচালনার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে।

রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের অনুমোদিত ব্যয় ৩ হাজার ৭০৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা এবং চুক্তিমূল্য ১ হাজার ৭৯৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা। চীনের যৌথ উদ্যোগ সিওয়াইডব্লিউইবি-সিসিইসিসি জেভি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে।

প্রকল্পের আওতায় সমুদ্রের দিকে সম্প্রসারিত প্রায় ২ হাজার ২০০ ফুট প্রিসিশন অ্যাপ্রোচ লাইটিং এবং নিরাপদ উড়োজাহাজ চলাচলের জন্য ক্যাট-টু এয়ারফিল্ড গ্রাউন্ড লাইটিং সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রানওয়ে সুরক্ষায় নির্মাণ করা হয়েছে ১ দশমিক ৮৯ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রতিরক্ষাবাঁধ। এ ছাড়া নিরাপত্তা বেড়া, টহল সড়ক এবং ৮ হাজার ১৪৯ মিটার দীর্ঘ ড্রেনেজ ব্যবস্থাও প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।

বাড়বে পর্যটন ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ

বর্তমানে দেশের ব্যস্ততম অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোর একটি কক্সবাজার। প্রতিদিন গড়ে ২৮ থেকে ৩০টি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ এখানে ওঠানামা করে।

বিমানবন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো এবং দেশের প্রধান পর্যটন গন্তব্য কক্সবাজারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে বেবিচক দুটি উন্নয়ন প্রকল্প ও একটি কারিগরি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।

বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় মান যাচাইয়ের পর আইসিএও সনদও পেয়েছে। সরকারের প্রত্যাশা, সরাসরি আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ চালু হলে বিদেশি পর্যটকদের কক্সবাজার ভ্রমণ বাড়বে। এর পাশাপাশি হোটেল, রিসোর্ট ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতে বিনিয়োগও বাড়তে পারে। সূত্র: বাসস

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!