ঢাকা,  সোমবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

পাচার ঠেকাতেই জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯:২০, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পাচার ঠেকাতেই জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের কারণ ব্যাখ্যা করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। ছবি: সংগৃহীত

পাশের দেশগুলোতে জ্বালানি তেলের দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে তেল পাচার হচ্ছিল। এ কারণে পাচার ঠেকাতে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা প্রয়োজন ছিল বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদেশি মুদ্রায় জ্বালানি তেল কিনতে হয়। কিন্তু প্রতিবেশী দেশগুলোতে জ্বালানি তেলের দাম বেশি হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে তা পাচার হচ্ছিল। এ পরিস্থিতিতে পাচার বন্ধে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছিল।

Advertisement

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এতে সরকারকে জ্বালানি খাতে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে এ ধরনের ভর্তুকির চাপ কমানো প্রয়োজন।

প্রতিবেশী ও অন্যান্য দেশের জ্বালানি তেলের দামের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বাংলাদেশি মুদ্রায় কলকাতায় প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৩৪ টাকা ৭৬ পয়সা, মিয়ানমারে ১৬৪ টাকা ৮৩ পয়সা, নেপালে ১৬১ টাকা ২৪ পয়সা, শ্রীলঙ্কায় ১৭৯ টাকা ৪২ পয়সা, থাইল্যান্ডে ১৫১ টাকা ২২ পয়সা, ভিয়েতনামে ১৩৭ টাকা, মালদ্বীপে ১৪০ টাকা, ফিলিপাইনে ১৬৮ টাকা ৫৩ পয়সা, পাকিস্তানে ১৮৫ টাকা ৪৮ পয়সা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ১৪৪ টাকা ৭৯ পয়সা।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর করা হলে দেশে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ২০৫ টাকা নির্ধারণ করতে হতো। তবে সাধারণ মানুষ, গণপরিবহন ও সেচনির্ভর কৃষকদের ওপর আর্থিক চাপ বিবেচনায় নিয়ে সরকার উল্লেখযোগ্য ভর্তুকি দিয়ে ডিজেলের দাম সহনীয় পর্যায়ে রেখেছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে পাচার ঠেকানো এবং সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার জন্য জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল।’

চলমান আন্তর্জাতিক ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের আমদানি করা জ্বালানি তেলের ৭০ শতাংশ এবং বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যা কোভিড-১৯ মহামারি কিংবা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ের পরিস্থিতির চেয়েও ভিন্ন ও জটিল।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) আর্থিক সক্ষমতার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত দাম না বাড়িয়েও বিপিসি পরিস্থিতি সামাল দিতে পেরেছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। অতীতে অর্জিত অতিরিক্ত অর্থ বিপিসির তহবিলে থাকায় এতদিন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হলেও সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দিতে তাৎক্ষণিকভাবে দেশের বাজারে দাম সমন্বয় করা হয়নি।

দাম সমন্বয়ের ফলে সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি বুঝতে পারি, এ সিদ্ধান্তের কারণে মানুষের কষ্ট হবে। সামনে কোনো বিকল্প না থাকায় কঠিন এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। এ জন্য আমি আন্তরিকভাবে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।’

পরিবহন খাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে কেউ যাতে পরিস্থিতির সুযোগ নিতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের ওপর দাম সমন্বয়ের প্রভাব যতটা সম্ভব কম থাকে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ ও এর শর্তের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ওই ঋণ নেয়নি; অতীতে ঋণ নেওয়া হয়েছিল। ঋণের শর্ত মানার বাধ্যবাধকতা থাকলে বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে রোববার রাতে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সেপ্টেম্বর মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করে সরকার। নতুন দামে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!