ঢাকা,  সোমবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

এলডিসি উত্তরণের পর মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় আইনি কাঠামো শক্তিশালী করার তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮:৫৫, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এলডিসি উত্তরণের পর মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় আইনি কাঠামো শক্তিশালী করার তাগিদ
ছবি: সংগৃহীত

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) শ্রেণি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ সামনে রেখে মেধাস্বত্ব অধিকার (আইপিআর) ব্যবস্থার আইনি কাঠামো ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী।

সোমবার ঢাকায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক ফোকাস গ্রুপ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘শিল্পের রূপান্তর-পরবর্তী এলডিসি যুগ: মেধাস্বত্ব অধিকার বিষয়ে চ্যালেঞ্জ ও কৌশল’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে ইআরডির সাপোর্ট টু সাসটেইনেবল গ্র্যাজুয়েশন প্রজেক্ট (এসএসজিপি) ও ডিসিসিআই।

শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী বলেন, দেশে উৎপাদিত পণ্যের স্থানীয় বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এসব পণ্যের নকশা ও মান আরও উন্নত করা গেলে রপ্তানিরও ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।

Advertisement

তিনি দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (এসএমই) খাতের কথা উল্লেখ করে এ খাতের প্রতি আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

ইআরডি সচিব বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে গবেষণার জন্য বরাদ্দ করা অর্থ পুরোপুরি ব্যবহার করা হচ্ছে না। আবার এ খাতে বরাদ্দ অপর্যাপ্ত বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে, যা দূর করা প্রয়োজন।

এসএমই খাতের জন্য সরকার বিশেষ তহবিল ঘোষণা করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বরাদ্দ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, এসএসজিপি প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার বিভিন্ন খাতের জন্য নির্দিষ্ট কারিগরি সহায়তা দেওয়ার কাজ করছে। এ জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট নীতিমালায় সংশোধন ও সংস্কার আনা হবে।

বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী বলেন, সব সরকারি সেবাকে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ কার্যক্রম শিগগিরই চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, মেধাস্বত্ব সুরক্ষার নতুন বাস্তবতায় বাংলাদেশের ওষুধ, তৈরি পোশাক, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) এবং কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। একই সঙ্গে উদ্ভাবন, প্রযুক্তির উন্নয়ন, ব্র্যান্ডিং ও পণ্যের মূল্য সংযোজনের নতুন সুযোগও তৈরি হবে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, শিল্প খাতগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের মধ্যে আরও শক্তিশালী সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।

স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মেধাস্বত্বের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। তাই এলডিসি-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের জন্য শক্তিশালী মেধাস্বত্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

তিনি বলেন, দেশের ওষুধ, তৈরি পোশাকসহ সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে ভবিষ্যতে শুধু উৎপাদন বাড়ানোর দিকে নয়, উদ্ভাবন, ব্র্যান্ডিং, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও মূল্য সংযোজনের দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

বিদ্যমান মেধাস্বত্ব আইনে কাঠামোগত দীর্ঘসূত্রতা, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের ঘাটতি, প্রয়োজনীয় নীতিমালার অভাব, সীমিত সক্ষমতা এবং বেসরকারি খাতে সচেতনতার ঘাটতিকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেন তাসকিন।

তিনি একটি আধুনিক ও কার্যকর মেধাস্বত্ব কার্যালয় প্রতিষ্ঠা, দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রামে আইপি ট্রাইব্যুনাল চালু, ট্রেডমার্ক নিবন্ধনের জন্য স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু, প্রশিক্ষিত জনবল নিয়োগ এবং বিশেষ করে এসএমই উদ্যোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর প্রস্তাব দেন।

এসএসজিপির প্রকল্প পরিচালক ও ইআরডির অতিরিক্ত সচিব এ এইচ এম জাহাঙ্গীর স্বাগত বক্তব্যে বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর বেসরকারি খাতই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। তাই মেধাস্বত্ব আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ, শিল্প খাতের প্রস্তুতি এবং প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন গুরুত্বপূর্ণ।

পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এলডিসি-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রতিটি শিল্প খাতকে নিজস্ব কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে।

এসএসজিপির প্রকল্প উপদেষ্টা ও সাবেক সচিব আবদুল বাকি বলেন, এলডিসি উত্তরণের জন্য পাওয়া বর্ধিত সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। পাশাপাশি বেসরকারি খাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে ডিসিসিআইয়ের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!