ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে, ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে: মাহ্দী আমিন

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১:২৫, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে, ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে: মাহ্দী আমিন
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। ছবি: পিএমও

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে এবং আগামী দিনেও ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। একইসঙ্গে সরকারের সাত মাসে জনকল্যাণে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সরকারের সাত মাস পূর্তি উপলক্ষ্যে বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মাহ্দী আমিন এসব কথা বলেন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের পথ চলা শুরু হয়।

Advertisement

মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের সাথে বৈঠকে গ্যাস সরবরাহ সংকট কাটিয়ে দ্রুততম সময়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, অত্যন্ত স্বল্প সময়ে গতকাল থেকে তা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। শিল্পকারখানাগুলো আবারও সচল রাখা এবং বাংলাদেশের অর্থনীতির অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে সরকার সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

সরকারের সাত মাসের অগ্রগতি তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, নির্বাচিত সরকার গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে জনকল্যাণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি  হয়েছে। ১৬ বছরের শাসন-পরবর্তী ধ্বংসস্তূপ থেকে নতুনভাবে দেশকে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে বর্তমান সরকার জনগণের প্রকৃত কল্যাণ সাধনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মাহ্দী আমিন বলেন, একটি সুখবর দিতে চাচ্ছি। সেটি হচ্ছে, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থা মুডি’র রেটিংয়ে বাংলাদেশকে গতকাল (মঙ্গলবার) নেতিবাচক থেকে একটা লম্বা সময় পর স্থিতিশীল অবস্থায় ফেরত আনা হয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ বর্তমানে বিনিয়োগের জন্য সারাবিশ্বে একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র।

তিনি আরো বলেন, যার প্রেক্ষিতে আমরা বিশ্বাস করি— শুধু বাংলাদেশের বৈদেশিক বিনিয়োগই বাড়বে না, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মর্যাদাই বাড়বে না বরং আমাদের ট্রেড ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট অর্থাৎ নারী যুবকদের ক্ষমতায়নের জন্য যে কর্মসংস্থান প্রয়োজন, সেটিও একটি ইতিবাচক ধারায় সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার জনকল্যাণে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে গত এক মাসে বাস্তবায়িত ও গৃহীত এই কর্মযজ্ঞ প্রমাণ করে যে, বর্তমান সরকার সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমেই জনগণের প্রকৃত কল্যাণ সাধনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বৈদেশিক ঋণের চাপ সফলভাবে মোকাবিলা করা থেকে শুরু করে প্রশাসনিক বিভিন্ন ধরনের অতি প্রয়োজনীয় সংস্কার, দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিতকরণ, আধুনিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের বৈপ্লবিক উন্নয়ন এবং কূটনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে সুদৃঢ় করাসহ প্রতিটি পদক্ষেপে সরকারের দেশপ্রেম ও জনকল্যাণমুখী মানসিকতার প্রতিফলন ঘটেছে।

তিনি বলেন, সাফল্যগুলো আগামী দিনে বাংলাদেশকে একটি মর্যাদাশীল, স্বাবলম্বী ও মেধাভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের রূপান্তরের যে সুদৃঢ় পথযাত্রা, সেটিকে আরো বিকশিত করবে। আসুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই গণমুখী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাবাহিকতাকে আমরা আরো বেগবান করি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ পরবর্তী ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে বাংলাদেশকে আমরা নতুনভাবে পুনর্গঠন করছি। যেখানে মাত্র সাত মাসে সব সমস্যার শতভাগ সমাধান হয়তো করে ফেলা কঠিন বা দুরূহ। তবে, বর্তমান নির্বাচিত ও জবাবদিহিমূলক সরকার— যার ক্ষমতার একমাত্র উৎস জনগণ, সেখানে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা আজ প্রতিটি পদক্ষেপে দৃশ্যমান।

তিনি বলেন, দল, মত, পথ ও ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে উঠে আমরা সবাই একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, মানবিক, নিরাপদ ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। যেখানে সরকারের মূল লক্ষ্য ‘সবার আগে বাংলাদেশ’— সেটিই হবে চলার পথের পাথেয়।

প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র জানান, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে বিগত বছরের একই সময়ের তুলনায় অর্থাৎ আজকে যদি আমরা তুলনা করি— গত বছরের এই সময়ের সাথে কিংবা গত মাসের এই সময়ের সাথে, তাহলে কিন্তু আমাদের মূল্যস্ফীতি বা ইনফ্লেশন ইতিবাচক দিকে যাচ্ছে। অর্থাৎ তুলনামূলকভাবে আমাদের যে ইনফ্লেশন রেট, সেটা কমে এসেছে। আমাদের খাদ্যপণ্য, দ্রব্যমূল্যের যে বৃদ্ধির হার— সেটা কমে এসেছে। এর পাশাপাশি আমাদের অন্যান্য বছরের তুলনায় বর্তমানে নিত্য প্রয়োজনীয় যে খাদ্যপণ্য রয়েছে, সেটার জোগান তুলনামূলকভাবে বেশ ভালো।

জ্বালানি তেলের মূল্য সম্পর্কে মাহ্দী আমিন বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় এবং বিশেষত আশেপাশের যেকোনো দেশের তুলনায় ডিজেল তেলের দাম বাংলাদেশে অপেক্ষাকৃত কম। অর্থাৎ তেলের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ থেকে সর্বোচ্চ ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে, যেন জনগণের ওপর চাপ না পড়ে। সূত্র: বাসস

ডেইলি-বাংলাদেশ/একেকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!