চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে অথবা আগামী মাসের শুরুতে দেশে ডেঙ্গুর সর্বোচ্চ সংক্রমণ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। এ পরিস্থিতিতে সবাইকে ডেঙ্গু নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সোয়া ১১টার দিকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আঁচল ফাউন্ডেশন ও হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
.png)
তিনি জানান, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার তিন মাসব্যাপী বিশেষ ক্যাম্পেইন চালু করতে যাচ্ছে। আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কমানোই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় প্রায় ৩০০ চিকিৎসককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় দেশে পর্যাপ্ত ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও স্যালাইন মজুদ রয়েছে জানিয়ে এম এ মুহিত বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের প্রধান দুটি লক্ষ্য হলো আক্রান্তের সংখ্যা কমানো এবং মৃত্যুর হার নিয়ন্ত্রণে রাখা।
ডেঙ্গুর সংক্রমণ কমাতে তিন মাসব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক বিশেষ কর্মসূচিসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। কর্মসূচি বাস্তবায়নে দেশের সব জেলার সিভিল সার্জনদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতি শনিবার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি বাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন করে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত ও ব্যবস্থা নিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত গঠন করা হয়েছে।
উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু কর্নার স্থাপন করা হয়েছে। রোগীর চাপ বেড়ে গেলে তা সামাল দিতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মাঠে একটি ‘ফিল্ড হসপিটাল’ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সারা দেশে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রায় ৩০০ চিকিৎসককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা বিনামূল্যে করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে তাদের মোট শয্যার ১০ শতাংশে বিনামূল্যে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোগ নির্ণয় কেন্দ্রগুলোকে ডেঙ্গু ও সংশ্লিষ্ট পরীক্ষায় ৮০ শতাংশ ছাড় দিতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ মেডিসিন সোসাইটির সহায়তায় ডেঙ্গু চিকিৎসার সমন্বিত গাইডলাইনও হালনাগাদ করা হয়েছে।
পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা কর্মসূচিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি স্কাউট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), গার্ল গাইডস, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবক এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডেঙ্গুতে প্রতিদিন মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় দেশের সব সিভিল সার্জনকে হাসপাতালের প্রস্তুতি আরও জোরদার করতে বলা হয়েছে। ডেঙ্গু রোগী এবং পার্শ্ববর্তী ওয়ার্ডের রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত মশারির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি স্যালাইন, ওষুধ বা ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিটের ঘাটতি দেখা দিলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিজস্ব তহবিল থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ১৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৫ হাজার ৪৭৫ জন।
এর মধ্যে আগস্ট মাসে সর্বোচ্চ ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। জানুয়ারিতে দুইজন, ফেব্রুয়ারিতে দুইজন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন এবং জুলাইয়ে ৩৬ জন মারা যান। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মঙ্গলবারের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চলতি বছরে একদিনে সর্বোচ্চ নয়জনের মৃত্যুর তথ্যও ওই দিন জানানো হয়।