ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

জাতিসংঘে সভাপতি হয়ে বাংলাদেশকে কৃতজ্ঞতা খলিলুর রহমানের

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৪১, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতিসংঘে সভাপতি হয়ে বাংলাদেশকে কৃতজ্ঞতা খলিলুর রহমানের
ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বাংলাদেশের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তাকে সমর্থন জানানোয় বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদেরও ধন্যবাদ জানান তিনি।

সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতিসংঘের প্রতি আস্থা পুনর্গঠন, সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও সংলাপ জোরদার এবং প্রতিষ্ঠানটিকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও সক্ষম করে তোলার অঙ্গীকার করেন ড. খলিলুর রহমান।

Advertisement

এর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, জাতিসংঘ ও সামগ্রিক বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা এমন কিছু চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা চার দশকের অভিজ্ঞতায় তিনি আগে দেখেননি। তবে এসব সংকটের পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সামনে নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগাতে সংলাপ ও সহযোগিতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি। তার মতে, সব সমস্যার তাৎক্ষণিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাধান সম্ভব নয়। কিছু সংকটের সমাধানে সময় প্রয়োজন। তবে যেখানে অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে, সেসব জায়গা চিহ্নিত করে সমাধানের পথ খুঁজে যেতে হবে।

জাতিসংঘকে ভবিষ্যতের উপযোগী করার লক্ষ্য

সভাপতি হিসেবে জাতিসংঘ সনদ এবং সদস্যরাষ্ট্রগুলোর দেওয়া ম্যান্ডেটের প্রতি সম্পূর্ণ অনুগত থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ড. খলিলুর রহমান। তিনি মনে করেন, সদস্যরাষ্ট্রগুলো একসঙ্গে কাজ করলে সংলাপের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলার সুযোগ আরও বাড়বে।

জাতিসংঘের চলমান সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম, ব্যবসায়ী ও শিল্প নেতৃত্ব, উদ্ভাবন খাত এবং শিক্ষাবিদদের জাতিসংঘের কার্যক্রমে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, জাতিসংঘ সনদের শুরুতেই ‘উই দ্য পিপলস অব দ্য ইউনাইটেড নেশনস’ বলা হয়েছে। অর্থাৎ জাতিসংঘ শুধু সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সংগঠন নয়, এটি বিশ্বের জনগণেরও প্রতিষ্ঠান। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এসব অংশীজনের কণ্ঠস্বর জাতিসংঘের কার্যক্রমে যথাযথভাবে যুক্ত করার ক্ষেত্রে এখনো ঘাটতি রয়েছে।

প্রার্থী হিসেবে তার নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল ‘আস্থা পুনরুদ্ধার, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা’। সভাপতি হিসেবে এর সঙ্গে তিনি যুক্ত করেছেন জাতিসংঘকে ‘ভবিষ্যতের উপযোগী’ করে তোলার লক্ষ্য। এমন একটি জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে চান, যেখানে সদস্যদেশগুলো আস্থা ও উৎসাহের সঙ্গে সংস্থাটির পক্ষে অবস্থান নিতে পারে।

রোহিঙ্গাদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি

রাষ্ট্রহীন জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে ড. খলিলুর রহমান বলেন, জাতিসংঘের ‘পিপলস’ ধারণার আওতায় সব মানুষই অন্তর্ভুক্ত।

রোহিঙ্গা সংকটে নিজের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের রোহিঙ্গা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি তাদের দুর্ভোগ কাছ থেকে দেখেছেন। গত বছর রোহিঙ্গাদের নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন এবং জাতিসংঘের মহাসচিবকে রোহিঙ্গা শিবিরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

তার মতে, রোহিঙ্গাদের সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা নিজেদের দেশে নিরাপদে ফিরে যাওয়া। জাতিসংঘে তাদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন বলেও জানান তিনি।

বিশ্বনেতাদের বক্তব্য থেকে অভিন্ন এজেন্ডা

সাধারণ পরিষদের আসন্ন উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অভিন্ন অবস্থান তৈরির বিষয়ে ড. খলিলুর রহমান বলেন, বিশ্বনেতাদের একত্র হয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করাই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সংকট সমাধান, উন্নয়ন, মানুষের কল্যাণ এবং অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার আহ্বান জানাবেন।

বিশ্বনেতাদের বক্তব্য থেকে অভিন্ন বিষয়গুলো চিহ্নিত করে একটি ‘কমন এজেন্ডা’ তৈরির চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি।

নতুন মহাসচিব নির্বাচন প্রসঙ্গে

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নারী হওয়া উচিত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ড. খলিলুর রহমান বলেন, মহাসচিব নির্বাচন বা নিয়োগের ক্ষমতা তার হাতে নেই। এ প্রক্রিয়া সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।

জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী নিরাপত্তা পরিষদ মহাসচিব পদে একজনকে সুপারিশ করবে এবং সাধারণ পরিষদ তাকে নিয়োগ দেবে। তাই পুরো প্রক্রিয়ায় সনদের বিধান মেনে চলবেন বলে জানান তিনি।

একই সঙ্গে সদস্যরাষ্ট্রগুলো এবং নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ড. খলিলুর রহমান।

দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজের অগ্রাধিকার তুলে ধরে তিনি বলেন, সংলাপ, সহযোগিতা, আস্থা পুনর্গঠন এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে এগিয়ে নিতে চান তিনি।

শপথ নিয়ে যা বললেন

এর আগে সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ নেন ড. খলিলুর রহমান। শপথে তিনি দায়িত্ব সম্পূর্ণ নিষ্ঠা, বিচক্ষণতা ও বিবেকের সঙ্গে পালনের অঙ্গীকার করেন।

তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শুধু জাতিসংঘের স্বার্থকে বিবেচনায় রাখবেন এবং জাতিসংঘ সনদ ও সাধারণ পরিষদের সভাপতির নৈতিক আচরণবিধি অনুসরণ করবেন। একই সঙ্গে জাতিসংঘের বাইরে কোনো সরকার বা অন্য কোনো উৎসের কাছ থেকে দায়িত্ব পালনে নির্দেশনা চাইবেন না বা গ্রহণ করবেন না বলেও শপথে উল্লেখ করেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এম ইউ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!