ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

জলবায়ুর প্রভাব মোকাবিলায় প্রয়োজন ১৭৬ বিলিয়ন ডলার

শাহ আল নূর, আজারবাইজান থেকে
প্রকাশিত: ২০:৩৬, ১৯ নভেম্বর ২০২৪
জলবায়ুর প্রভাব মোকাবিলায় প্রয়োজন ১৭৬ বিলিয়ন ডলার
ফাইল ফটো

জলবায়ুর প্রভাব মোকাবিলায় ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের প্রয়োজন ১৭৬ বিলিয়ন ডলার। তবে এবারও জলবায়ু সম্মেলন থেকে ক্ষতিপূরণের তহবিল আদায় অনিশ্চিত।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিবছর ১০০ বিলিয়ন ডলার ভর্তুকির প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারতের অনুপস্থিতিতে অর্থ ছাড়ের সিদ্ধান্ত আসবে না বলেই মনে করছেন দেশের জলবায়ু গবেষকেরা। তারা বলছেন, সবচেয়ে দূষণকারী দেশগুলোর অনীহাতে জলবায়ু তহবিল গড়ে উঠছে না। অথচ প্রতি বছরই পরিবর্তিত আবহাওয়ায় জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব তীব্র হচ্ছে বাংলাদেশে।

Advertisement

জলবায়ু গবেষক ড. শামসুদ্দোহা বলেন, কনসেশনাল ফান্ড হিসেবে যেটা ঋণ দিচ্ছে সেটিকে, নিজেরা যে ঋণ দিচ্ছে সেটিকেও আবার ওয়ার্ল্ড ব্যাংক যেটা এডিবির মাধ্যমে দিচ্ছে সেটিকেও ক্লাইমেট চেঞ্জ ফান্ড হিসেবে ধরা হচ্ছে। সুতরাং এখানে ফান্ডের কোয়ালিটি ঘাটতি রয়েছে। আর প্রাইভেট সোর্সের কথা বলা হচ্ছে, তাদের অর্থ আছে এবং তারা ইনভেস্ট ও করতে চায় তবে সেখানে তো লোন হবে। বিশ্বে সবচেয়ে দূষণকারী দেশের তালিকায় থাকা ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো সম্মেলনে না থাকায় ভর্তুকির টাকা আদায়ের খুব বেশি আশা দেখছে না গবেষকেরা।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) ক্যাম্পেইন অ্যান্ড পলেসি বিভাগের কো- অডিনেটর বারেশ হাসান চৌধুরী বলেন, আমরা বিভিন্ন সময় উন্নত দেশগুলো থেকে প্রতিশ্রুতি পেয়েছি। গত ১৫ বছরে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ইউএস ডলারের প্রতিশ্রুতি পেয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিশ্রুতির সেটেল হয়নি। আমরা আশা করছি এবার সম্মেলন থেকেও কিছু একটা পাবো। তবে এখনো বলা যাচ্ছে না কি পরিমাণ প্রতিশ্রুতি পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, প্রথম দিকে নীতি নির্ধারকদের মাথায় ঢোকেনি যে কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। এজন্য কি পরিমাণ সহায়তা লাগবে। তবে সাম্প্রতিক আমরা লক্ষ্য করছি যে তারা বিষয়টি বুঝতে পারছেন। আসলে নীতি নির্ধারকরা চাচ্ছে জলবায়ুর প্রভাবে যে ক্ষতি হয়েছে এজন্য ফান্ডিং হবে প্রাইভেট ফাইন্যান্সের মাধ্যমে। আর আমরা চাচ্ছি এটি হবে গ্র্যান্ড ফাইন্যান্স ও ইউএন বা জাতি সংঘের ফাইনাল। এদিকে বিশ্বের উন্নত দেশগুলো যারা জলবায়ু দূষণের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী তারাও চাচ্ছে এটি হবে প্রাইভেট ফাইন্যান্স। এজন্য তারা বিষয়টি নিয়ে বিভিন্নভাবে পুশ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, নিজেদের দাবি আদায়ের জন্য বাংলাদেশের উচিত হবে স্বল্পোন্নত দেশগুলো বা এলডিসির অধীনে দেশগুলোকে নিয়ে একত্রে থাকা। এলডিসির নেত্রিত্বে রয়েছেন চিন। এজন্য চিনকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করা। স্বল্পোন্নত বা লিস্ট ডেভলপমেন্ট কান্ট্রিগুলো যদি একত্রে না থাকে তবে আমরা আবার দেখবো উন্নত দেশগুলো থেকে একটি এমটি প্রমিজ আসবে। তারা টিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের কথা বলবে। তবে দিন শেষে আমরা কিছুই পাবো না।

জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নেয়া বাংলাদেশের লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ বলেন, গত ২৮টি জলবায়ু সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলার দাবি করলেও বিশ্ব নেতৃত্ব তাদের অঙ্গীকার বারবার ভঙ্গ করছে। অনেকে বলে তারা উন্নত দেশ, কিসের উন্নত দেশ। তারা বৃহৎ দূষণকারী দেশ, ভয়াবহ কার্বন দূষণের জন্য ঐতিহাসিকভাবে দায়ী। তারা পৃথিবী বাঁচানোর জন্য এই ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য। তবে এই তহবিল বা অর্থায়ন কোনোভাবেই কোনো শর্তাধীন হতে পারবে না, ঋণ বা চুক্তি হতে পারবে না। 

এদিকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান কপ২৯-এ ‘উচ্চপর্যায়ের অভিযোজন অর্থায়ন সংলাপ’-এ বাংলাদেশের পক্ষে অভিযোজন তহবিল বৃদ্ধির দাবি জানান। তিনি অভিযোজন তহবিল জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন চুক্তির (ইউএনএফসিসিসি) গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ)-এর মতো পদ্ধতিতে চ্যানেল করার এবং অভিযোজন ও প্রশমন তহবিলের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

তিনি বলেন, “জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য বিশেষ অভিযোজন তহবিল বরাদ্দের মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষের সুরক্ষা ও টেকসই সক্ষমতা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।” তিনি জাতীয় সংস্থাগুলোর জন্য তহবিল প্রাপ্তি সহজ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং বাজারভিত্তিক ঋণের ওপর নির্ভরতা বৃদ্ধির কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ঋণভার বাড়ার আশঙ্কা ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (এনএপি)-তে প্রতিবছর অভিযোজনের জন্য প্রয়োজন ৮.৫ বিলিয়ন ডলার। অথচ, গত দুই দশকে অভিযোজন তহবিল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর তহবিল (এলডিসিএফ) মিলে মাত্র ৩ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে, যা ১৬০টি দেশের জন্য সম্পূর্ণ অপ্রতুল।

তিনি বলেন, ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২৫ সালের মধ্যে অভিযোজন তহবিল দ্বিগুণ করার প্রস্তাব স্বচ্ছতার অভাবে ভুগছে এবং বাস্তব চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ।

উপদেষ্টা আরো জানান, বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বারবার জলবায়ু-জনিত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। গত ১৮ মাসে দেশটি ১৫টি জলবায়ু-প্রভাবিত দুর্যোগের সম্মুখীন হয়েছে। ২০২৪ সালে দুইটি ভয়াবহ বন্যায় ১.৭ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয় এবং জাতীয় বাজেটের ১.৮ শতাংশ খরচ হয়। বর্তমানে ১২ লাখ মানুষ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও নদী পরিবর্তনের কারণে পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআরকে
ট্যাগ: জলবায়ু
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!