যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে সংস্থাটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ বিষয়ে অবহিত করেন সেনাপ্রধান। শুক্রবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আমেরিকা ও কানাডাতে ১১ দিনের সফর শেষে ২৫ অক্টোবর দেশে ফেরেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
.png)
গত ১৭ অক্টোবর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দফতরে জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অব পিস অপারেশনস বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জেয়ান পিয়ারি ল্যাকরোয়িক্স, ডিপার্টমেন্ট অব অপারেশনাল সাপোর্ট বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খের, জাতিসংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত হাইকমিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ইলজে ব্রান্ডস খেরিস, আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল, ডিপার্টমেন্ট অব পলিটিক্যাল ও পিস বিল্ডিং অ্যাফেয়ার্সের পক্ষে মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া এবং প্যাসিফিক বিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মেদ খালেদ খিয়ারি এবং ডিরেক্টর অব অফিস ফর পিস কিপিং স্ট্রাটেজিক পার্টনারশিপ জেনারেল জাই মেননের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন।
বৈঠকে তারা শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন বলে আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এসব বৈঠকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে গুরুত্বারোপ করেন সেনাপ্রধান।
সেনাপ্রধান জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের জানান, র্যাব ফোর্সেসে প্রেষণে নিয়োজিত থাকাকালীন কোনো সেনা সদস্যকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে শান্তিরক্ষা মিশনে নির্বাচিত করা হবে না।
পার্বত্য চট্টগ্রামের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার ও সেনাবাহিনীর উদ্যোগের অনেক ইতিবাচক দিক তুলে ধরেন সেনাপ্রধান। একইসঙ্গে বর্তমান সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চলমান কার্যক্রম অবহিত করেন।
স্থানীয় জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বাহিনী কর্তৃক পরিচালিত হাসপাতাল ও ক্লিনিক সম্পর্কেও জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের অবহিত করেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
মিশনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে শান্তিরক্ষা প্রশিক্ষণ বিনিময় এবং অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ অন্যান্য বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন তারা।
সেনাপ্রধান নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন পরিদর্শন করেন এবং স্থায়ী প্রতিনিধির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড