বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে ডাবিং শিল্পী ও কলাকুশলীরা আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ দাবি জানান বক্তারা।
তারা বলেন, পৃথিবীর ৭ম বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ভাষা, যে ভাষায় বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশ মানুষ কথা বলে, সেই বাংলা ভাষার ডাবিং শিল্পের শিল্পী হিসেবে আমরা কাজ করি। বর্তমানে এ পেশায় প্রায় হাজার শিল্পী নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এ দেশের বিশাল জনগোষ্ঠী যারা শুধু মাতৃভাষাতেই যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম, তাদের জন্য আমরা উপহার দিয়েছি তুরস্কের জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ‘সুলতান সুলেমান’ এবং পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে জাতিসংঘের বিশেষ দূত লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর ডকুমেন্টারি ‘প্লাবনের আগে’ (বিফোর দ্য ফ্লাড) এর বাংলা ডাবিং। এছাড়া ফসিল ফুয়েল পোড়ানো জন্মের সচেতনতা তৈরিতে আমরা দর্শকদের উপহার দিয়েছি বাংলাভাষায় নির্মিত এ যাবতকালের সবচেয়ে নান্দনিক এনিমেশন ফিলা ‘টুমোরো।’ আপনারা জেনে আনন্দিত হবেন বাংলাদেশে নির্মিত ‘টুমোরো’ এরই মধ্যে ১২টি ভাষায় ডাবিং হয়েছে।
.png)
সরকারের প্রভাব উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, ২০১৫ সালের আগে পর্যন্ত বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেলের দর্শকরা ভারতীয় টিভি চ্যানেলে অতিমাত্রায় আসক্ত হয়ে পড়েছিল। এরপর ‘সুলতান সুলেমান’ প্রচারের পর থেকে ভারতীয় টিভি চ্যানেলের সেই আগ্রাসন হ্রাস পেতে থাকে। আমাদের দেশের দর্শক আবার আমাদের টিভি চ্যানেল দেখতে শুরু করে। দেশে টিভি চ্যানেলের দর্শকদের খরা কেটে যায়। কিন্তু কিছু স্বার্থান্বেষী তথাকথিত শিল্পী ভারত কন্টেন্ট প্রচার বন্ধের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাতে থাকে। এক পর্যায়ে বিগত সরকারের নতজানু নীতি ডাবিং শিল্পের ওপর বর্গ আরোপ করে। টেলিভিশনে প্রচারিত কোনো কন্টেন্টের কোনো সেন্সর প্রথা চালু না থাকলেও শুধুমাত্র ডাবিং এর জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ডাবিং বন্ধের দাবি উত্থাপনকারী ব্যক্তিদের নিয়ে প্রিভিউ কমিটি গঠিত হয়।
টেলিভিশন চ্যানেলের অন্যসব কনটেন্ট যেমন রাষ্ট্র বা সংবিধান বিরোধী নয়, সমাজের প্রথা বিরোধী নয়, দেশের ধর্মীয় অনুভূতির ওপর শ্রদ্ধাশীল অবস্থান নিশ্চিত করা হয়, ডাবিংও তেমনি নিশ্চিত করা সম্ভব। অথচ এই মুক্ত বিশ্বে ডাবিং কন্টেন্ট প্রচারের পূর্বে সেটাকে প্রিভিউ করাতে বাধ্য করিয়ে বিগত সময়ে আমাদের পেশার উপর নানারকম জুলুম এবং অন্যায় করা হয়েছে। এতে করে টেলিভিশনের নির্ধারিত অনুষ্ঠানসূচী বজায় রাখা কঠিন হয়ে যায়। এ নিয়ম জারি করার কিছুদিন পর ডাবিং শিল্পের ওপর আরেক খড়গ নেমে আসে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয় কোনো চ্যানেল দৈনিক একটির বেশি ডাবিং কন্টেন্ট প্রচার করতে পারবে না। এ সিদ্ধান্তে গণমাধ্যম স্বাধীনতা এবং আমাদের পেশার জন্য একটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা তৈরি করেছে।
দেশের টিভি চ্যানেলগুলোর কন্টেন্ট বিষয়ে বক্তারা জানান, আমরা বিশ্বাস করি, আগামীর বাংলাদেশে এমন টিভি চ্যানেল তৈরি হবে যেখানে ২৪ ঘণ্টাই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের পরিবেশ সচেতনতা বিষয়ক বা শিক্ষামূলক কন্টেন্ট বাংলা ভাষায় ডাবিং করে প্রচার হবে। ডাবিং নিঃসন্দেহে একটি বিরাট জানাবোঝার মাধ্যম হয়ে উঠবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক (গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ) ড. গীতি আরা নাসরিন, লেখক ও সাংবাদিক ফারুক ওয়াসিফ, লেখক ও গবেষক সারোয়ার তুষার, সুলতান সুলেমান চরিত্রের ভয়েস অ্যাক্টর ও সিরিজটির ডাবিং ডিরেক্টর, অভিনেতা, নাট্য নির্দেশক দীপক সুমনসহ ডাবিং শিল্পীরা।