ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

এবার বান্ধবীর সঙ্গে মতিউরের স্পর্শকাতর গোপন ফোনালাপ ফাঁস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫:১৪, ৫ জুলাই ২০২৪
এবার বান্ধবীর সঙ্গে মতিউরের স্পর্শকাতর গোপন ফোনালাপ ফাঁস
আরজিনা খাতুন ও মতিউর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

ঈদকে কেন্দ্র করে ছাগলকাণ্ডে আলোচিত ও সমালোচিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য মতিউর রহমানের এক বান্ধবীর সন্ধান পাওয়া গেছে। আরজিনা খাতুন নামের এই নারী মতিউরের অধস্তন কর্মকর্তা ছিলেন। বান্ধবী পরিচয়ে নানা অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তিনি ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ’ বনেছেন। বাগিয়েছেন অঢেল সম্পদ।

সম্প্রতি আরজিনা খাতুনের সঙ্গে মতিউর রহমানের একটি ফোনালাপ গণমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এই স্পর্শকাতর অডিও রেকর্ড ফাঁস হওয়ার পর শুরু হয়েছে তোলপাড়। ছোট ছোট বাক্যে আবেগধর্মী ও স্পর্শকাতর ঐ কথোপকথন ডেইলি বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

মতিউর রহমান : ‘তোমার কাছে ... চাই, কখন দিতে পারবা? 

Advertisement

আরজিনা খাতুন: আজকে...!

মতিউর রহমান: আজকের প্রোগ্রাম ঠিক আছে?

আরজিনা খাতুন: আজকে... কালকে যাই। আজ শুক্রবার তো, মানে কি বলে বের হব, কোনো ইয়ে পাচ্ছি না। বাসায় আছেতো। কালকে হলে ভালো হয়। কালকেতো থাকবা ঢাকায়। 

মতিউর রহমান: দীর্ঘশ্বাস... ঠিক আছে। কালকে মনে হয় পারব না। 

আরজিনা খাতুন: কষ্ট পেলে... মানে শুক্রবারতো, কোনো ইয়ে খুঁজে পাচ্ছি না। বাইরে যে থাকব, আবার মাইন্ড... মানে যদি কোনো সন্দেহ তৈরি হয়।

মতিউর রহমান: ফের দীর্ঘশ্বাস... ওকে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজস্ব বোর্ডের মূসক মনিটরিং, পরিসংখ্যান ও সমন্বয়ের দ্বিতীয় সচিব এই আরজিনা খাতুন। এর আগে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে তিনি ছিলেন উপ-কমিশনার।

আরজিনা খাতুনের রাজধানীতে ফ্ল্যাট, গ্রামে আলিশান বাড়ি, পরিবারের সদস্যদের নামে-বেনামে জমি, বাসায় বিলাসবহুল ইন্টেরিয়র এবং দামি সব আসবাবপত্র রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে আরজিনা খাতুনের বিরুদ্ধে এসেছে এসব অভিযোগ। গত ১০ জুন আরজিনা খাতুনের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ করেন। 

দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামে বদলির পর ২০২২ সালেই গ্রামে তার পরিবারের সদস্যদের নামে কিনেছেন ৫টি জমি। এর বাজারমূল্য অর্ধকোটি টাকা। সেসব জমির দলিলও পাওয়া গেছে। এছাড়া গ্রামে আরো প্রায় এক কোটি টাকার জমি বন্ধক নিয়েছেন আরজিনা। 

আরজিনা খাতুনের ঘনিষ্ঠজনরা জানান, তার ব্যবহৃত বেশিরভাগ গহনাই অনেক দামি। আরজিনা খাতুনের অন্তত ১০ লাখ টাকা মূল্যমানের হীরার গহনা রয়েছে। ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে আরজিনা খাতুন নগদ টাকায় অন্তত ৫০০ ভরি স্বর্ণ আর ডায়মন্ডের অলংকার কিনেছেন। যার ২০০ ভরি এক সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীর মাধ্যমে ৩ ধাপে চোরাচালানের মাধ্যমে আনার তথ্য ও দালিলিক প্রমাণ দুদকে করা অভিযোগের সঙ্গে জমা দেওয়া হয়েছে। ২০২২ থেকে শেয়ার ব্যবসাও করেছেন তিনি। একদিনে ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগে দ্বিগুণ লাভের নজিরও আছে তার। তার তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বিপুল নগদ টাকা ও সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগও রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, মতিউর রহমানের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কে জড়ানোর পর থেকেই দ্রুত বাড়তে থাকে তার সম্পত্তি। মতিউরের সঙ্গে একই ব্রোকারেজ হাউজে শেয়ার ব্যবসায় বিনিয়োগ ছিল আরজিনার। অভিযোগ আছে, কারসাজি করে আরজিনাকে শেয়ার বাজারে মুনাফা তুলে দেন মতিউরই। 

জানা গেছে, মাত্র তিন বছরে আরজিনা খাতুন ৫০০ ভরি স্বর্ণালঙ্কারের মালিক হয়েছেন। এর ২০০ ভরিই চোরাচালানের মাধ্যমে আনা হয়েছে বলে দুদকের কাছে রয়েছে অভিযোগ। এদিকে মতিউরের সঙ্গে আরজিনার কিছু ফোনালাপও এরই মধ্যে গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। 

এসব বিষয়ে আরজিনা খাতুন বলেন, আমি আসলে যড়যন্ত্রের শিকার। আমার এক্স হাজবেন্ড একটা মামলা করেছেন, আমি একটা করেছি। আসলে সব মিলিয়ে আমি খুব বিপর্যস্ত। আমি তাকে ডিভোর্স দিয়েছি, তাই উনি ক্ষিপ্ত হয়ে এগুলো করছেন। পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই একটি মহল এই চক্রান্ত করছে।

এদিকে নতুন কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে আত্মগোপনে থাকা মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি অর্থ মন্ত্রণালয়। 

দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত রোববার মতিউর পরিবারের ১ হাজার ১৯ শতাংশ জমি ও চারটি ফ্ল্যাট ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন এ আদেশ দেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেডআর
ট্যাগ: এনবিআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!