বুধবার প্রকাশিত স্টেট অব গ্লোবাল এয়ার রিপোর্টের পঞ্চম সংস্করণে এ তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণায় জানা গেছে, ২০২১ সালে বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশে অন্তত দুই লাখ ৩৬ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে উচ্চ রক্তচাপের কারণে দুই লাখ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে এক লাখ ৩০ হাজার ৪০০ ও তামাকের কারণে এক লাখ ৩০ হাজার ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
.png)
বাংলাদেশে বায়ুদূষণের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে শিশুরা। বায়ুদূষণের কারণে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর মৃত্যু হারে ২০২১ সালে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ১৯ হাজার শিশু বায়ুদূষণের কারণে মারা গেছে।
পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর হারে শীর্ষে আছে ভারত (এক লাখ ৬৯ হাজার)। এরপর আছে নাইজেরিয়া (এক লাখ ১৪ হাজার), পাকিস্তান (৬৮ হাজার) ও ইথিওপিয়া (৩১ হাজার)।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক আবদুস সালাম প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে বলেন, গত ২০ বছরে আমরা বায়ুদূষণের বিষয়ে অনেক কথা বলেছি। কিন্তু যখন যথাযথ উদ্যোগ নেয়ার বিষয়টি আসে, তখন আমরা খুব কমই পদক্ষেপ দেখতে পাই। এমনকি যেসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, প্রয়োজনের তুলনায় সেগুলো খুবই অপ্রতুল।
তিনি আরো বলেন, গবেষণাটিতে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক— উভয় ধরনের দূষণের বিপদ এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বায়ুদূষণের কারণে শিশুদের ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
২০২১ সালে বাংলাদেশে অকাল প্রসবের ৩৬ শতাংশ বায়ুদূষণ সংশ্লিষ্ট ছিল।
হেলথ ইফেক্ট ইনস্টিটিউটের (এইচইআই) হেড অব গ্লোবাল হেলথ পল্লবী পান্ত বলেছেন, বায়ুদূষণ অনেকভাবে শিশুদের স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে। গর্ভাবস্থা থেকে শুরু করে পুরো শৈশবকাল পর্যন্ত শিশুর ওপর এর প্রভাব পড়ে। যার প্রভাবে শিশুদের অকাল জন্ম, হাঁপানিসহ শ্বাসতন্ত্র সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দেয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, বায়ুদূষণে দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত অঞ্চল। এই অঞ্চলে মোট মৃত্যুর প্রায় ১৮ শতাংশের পেছনে দায়ী বায়ুদূষণ।