বাংলাদেশের চামড়া শিল্প থেকে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য বিশ্বের চাহিদার ১ দশমাংশ পূরণ করে। ২০২২ সালে চামড়া শিল্প থেকে রফতানি আয় ছিল ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার, যা মূলত স্বল্প মজুরি , শিথিল কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা এবং অনিয়ন্ত্রিত পরিবেশের উপর নির্ভর করে। এ শিল্পের প্রক্রিয়াগুলোতে বিপজ্জনক রাসায়নিক ও ভারী ধাতুর ব্যাপক ব্যবহার হয়। কয়েক দশক ধরে ঢাকার হাজারীবাগে যেমনটি ঘটেছে, এই পদার্থগুলো পরিশোধন না করে জলপথে বা আশেপাশের এলাকায় ফেলে দেওয়া হয়েছে। এতে পরিবেশ দূষিত হয়েছে, শ্রমিক ও স্থানীয় জনগণকে অসুস্থ করেছে, বায়ু ও পানি দূষিত করে খাদ্য উৎপাদনকে জটিল করে তোলা হয়।
হাজারীবাগের বিষাক্ত পরিবেশ ও কর্মপরিবেশ নিয়ে ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে ২০১৭ সালে হেমায়েতপুরের সাভার ট্যানারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেটে প্রায় ২৫ হাজার ট্যানারি শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল সরকার।
.png)
এদিকে, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও চরম তাপদাহের কারণে বাংলাদেশ সবচেয়ে তীব্র জলবায়ু প্রভাবিত দেশগুলির মধ্যে একটি। বিশ্বজুড়ে এবং বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করছে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে। ক্রমবর্ধমান জলবায়ু পরিবর্তন, কর্মক্ষেত্র ও আশেপাশের সম্প্রদায়ের পরিবেশগত অবক্ষয়ে ফলে শ্রমিক ও তাদের পরিবারের উপর জটিল প্রভাব ফেলেছে।
হেমায়েতপুরে বসবাসরত ট্যানারি শ্রমিকদের নিয়ে সলিডারিটি সেন্টারের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, শিল্প দূষণ, কঠোর কর্মপরিবেশ এবং স্বল্প মজুরির প্রভাব কীভাবে শ্রমিক, তাদের পরিবার এবং তাদের সম্প্রদায়কে দেশে গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা এবং ঘন ঘন জলবায়ু সম্পর্কিত অভিঘাতের জন্য ক্রমবর্ধমান ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
শ্রমিকরা বলছেন, তারা আগুন বা বৈদ্যুতিক শক, পড়ে যাওয়া, কাটা, ভাঙ্গা হাড়, তাদের উপর ভারী জিনিস পড়া, অ্যাসিড বা রাসায়নিকের সংস্পর্শে এবং রাসায়নিক ধোঁয়া বা গ্যাসের কারণে শ্বাস-প্রশ্বাসের শিকার হয়েছেন। স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো শ্রমিকদের আয় কমিয়ে দেয়, যা মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য অপর্যাপ্ত। সেই সঙ্গে সময়ে, পরিবহন ব্যয় আকাশচুম্বী হয়েছে, যা নিয়মিত জলাবদ্ধতা ও বন্যার কারণে রাস্তাগুলো চলাচলের অযোগ্য হয়ে উঠলে আরো চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠে।
স্থানীয় সম্প্রদায়গুলো জানিয়েছে, তারা যথেষ্ট খেতে পারে না। কারণ দূষিত বাতাসে শ্বাস নেয়া তাদের ক্ষুধা নষ্ট করার জন্য যথেষ্ট। এদিকে, নিম্নমানের পানিতে মহিলাদের কাজের বোঝা বাড়িয়ে তোলে। মহিলাদের দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়।
গত বছর সাভার ট্যানারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেটের ক্ষতিগ্রস্ত এক নারী সলিডারিটি সেন্টারকে বলেন, আমরা নদীর পানি দিয়ে রান্না করতাম। নদীতে গোসল করতাম। কিন্তু আমরা এখন নদীর পানি নিয়ে কিছু করতে পারছি না।
কর্মীরা তাদের চাকরি ও জীবনমানের উন্নতির জন্য সমস্যা সমাধানগুলো ব্যাপারে ভালো ধারনা রাখেন। কীভাবে তারা এবং তাদের পরিবার পরিবেশগত অবনতির ফলে স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলেছে। এসব পরিস্থিতে শ্রমিকরা এ শিল্পের জন্য উপযোগী কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়াগুলোতে অন্তর্ভুক্তির দাবি করছেন৷
সলিডারিটি সেন্টার বাংলাদেশে ট্যানারি শ্রমিক ইউনিয়ন (টিডব্লিউই) এর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। যারা বাংলাদেশ ও বিশ্বজুড়ে অন্যান্য ভৌগলিক বাস্তুচ্যুতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের পরিণতির পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে এবং তাদের সম্প্রদায়ের পরিবেশগত অবনতির শিকার হচ্ছে।