প্রবীণরা খাবার না পেলেও এই নিবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে রয়েছে লাগামহীন দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন এই প্রবীণরা জীবন সায়াহ্নে। পবিত্র রমজান মাসে বয়স আর পারিপার্শ্বিক চাপে নতজানু এই প্রবীণরা তৃপ্তি করে খাওয়ার সুযোগ তো পান-ই না, উপরন্তু যে খাবার পান তা দিয়ে ক্ষুধা নিবারণও হয় না।
.png)
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই নিবাসে বসবাসকারী এক প্রবীণ বলেন, রাতের খাবার ও সেহরিতে মাছ কিংবা মাংস দিলেও তার সাইজ এত ছোট যে প্লেটে খুঁজেও পাওয়া যায় না। সেহরিতে একটু ভালো খাবার না থাকলে তা দিয়ে খাওয়া যায় না। ইফতারে অল্প কিছু ছোলা, মুড়ি, জিলাপি দেয়, এগুলো দিয়ে ইফতার হয় না। ফলে আমরা নিজেদের টাকা দিয়ে খাবার খাই।
প্রবীণ নিবাসে ৩৬ জন প্রবীণ বসবাস করেন। তাদের খাবারের জন্য বরাদ্দ থাকে ১০০ টাকা। নিবাসের ফান্ড না থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দেড় বছর ধরে বেতন পাচ্ছেন না। এ নিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকে আন্দোলনে নেমেছেন একদল কর্মচারী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, এখানে যারা চাকরি করেন তারা আমাদের সেবা করতে চান না। তারা কথায় কথায় খারাপ আচরণ করেন। কিছুদিন ধরে সবাই মিছিল মিটিং করে বেড়াচ্ছেন।
প্রবীণ নিবাসের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, প্রতিষ্ঠানটি (বাইগাম) দুর্নীতি এবং অনিয়মে ডুবতে বসেছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন ১১৭ কর্মকর্তা ও কর্মচারী।
জানা গেছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ থেকে এ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন হয়। পরিচালনা পর্ষদের দুর্নীতির প্রমাণ মেলায় ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে বেতন ও ভাতা বন্ধ রয়েছে বাইগামের ১১৭ কর্মকর্তা-কর্মচারীর। বাইগাম মূলত পরিচালিত হয় তিন বছর মেয়াদী কার্যনির্বাহী কমিটি দ্বারা। এ কমিটিতে যখন যারা দায়িত্বে ছিলেন তারাই নিয়োগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন কেনাকাটায় অনিয়ম করেছেন এবং বিভিন্ন ফান্ডের টাকা তছরুপ করেছেন। কার্যনির্বাহী কমিটির সব অপকর্মে সহযোগিতা করেছেন প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা। তাদের পারস্পরিক যোগসাজশে সংঘটিত দুর্নীতির কারণেই ডুবছে প্রতিষ্ঠানটি, যার খেসারত দিতে হচ্ছে কর্মচারীদের।