মিজানুল ইসলাম বলেন, দস্যুদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। তবে কোনো আলোচনা হয়নি। যেহেতু বিষয়টি স্পর্শকাতর, তাই আলোচনা না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না।
জানা গেছে, জিম্মির শুরু থেকেই জাহাজটি উদ্ধারে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ের সহযোগিতা চাওয়া হলেও কোনো অভিযানের ব্যাপারে সায় দেয়নি সরকার কিংবা মালিকপক্ষের কেউই।
.png)
জলদস্যুদের হাতে জিম্মি বাংলাদেশি ২৩ নাবিককে উদ্ধারে কোনো রকম ঝুঁকি না নিয়ে বরং সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল দস্যুদের পক্ষ থেকে প্রথম যোগাযোগ করা হয়।
এটিকে মূলত জিম্মি নাবিক ও জাহাজ উদ্ধারের প্রক্রিয়া বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পথে নৌযান পরিচালনাকারী ক্যাপ্টেন ও প্রকৌশলীরা।
তাদের বক্তব্য, যোগাযোগের মাধ্যমে মূলত জিম্মি নাবিক ও জাহাজ উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু হলো। দুই পক্ষই এখন মুক্তিপণের অর্থ নিয়ে দরকষাকষি করবে এবং শেষ পর্যন্ত নির্দিষ্ট অংকের মুক্তিপণে সম্মত হবে। পরে নির্দিষ্ট স্থানে তা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে এ ঘটনার সমাপ্তি ঘটবে বলে মনে করছেন তারা।
কেএসআরএম গ্রুপের পক্ষ থেকে অবশ্য বরাবরই বলা হচ্ছে, জাহাজের নাবিকদের জীবন আর নিরাপত্তাই তাদের কাছে অগ্রাধিকার। নাবিকদের ক্ষতি হতে পারে এমন ঝুঁকি তারা নিতে চায় না। ফলে সোমালিয়ার পুলিশ ও আন্তর্জাতিক নৌবাহিনী মিলে কমান্ডো অপারেশন পরিচালনার বিষয়টি সামনে এলেও তাতে সায় দেয়নি জাহাজটির মালিকপক্ষ। নাবিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশ সরকারও অভিযানসংক্রান্ত যেকোনো প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
মোজাম্বিকের মাপুতু বন্দর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়ার পথে ১২ মার্চ সোমালিয়া উপকূল থেকে ৬০০ নটিক্যাল মাইল দূরে ভারত মহাসাগরে এমভি আবদুল্লাহকে ছিনতাই করে জলদস্যুরা। ৫৫ হাজার টন কয়লাবোঝাই ঐ জাহাজে থাকা ২৩ নাবিকের সবাই বাংলাদেশি।
নৌ খাতের অভিজ্ঞ ক্যাপ্টেন ও প্রকৌশলীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জলদস্যুদের হাতে জিম্মি নাবিকদের উদ্ধার প্রক্রিয়া চলে কিছু ধাপ মেনে। একটা পর্যায়ে দস্যুরা একজন এক্সপার্ট নেগোশিয়েটর এনগেজ করে নেগোসিয়েশনের কাজ শুরু করে। তাদের মুক্তিপণের দাবি তোলে। দর-কষাকষি করে সমঝোতায় পৌঁছলে জলদস্যুদের বলে দেওয়া নির্ধারিত জায়গায় মুক্তিপণের অর্থ রেখে আসতে হয়।
এমভি আবদুল্লাহর উদ্ধার প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গে নাবিকদের সংগঠন বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, যোগাযোগ শুরু হয়েছে, এটাই সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক। এতে সমাঝোতার দরজা খুলে গেল। বাকি যেসব অভিযানসংক্রান্ত খবর আমরা শুনে আসছি সেগুলো আসলে আমলে নেয়ার মতো নয়। সরকার, জাহাজ মালিক ও আমরা একটা বিষয়ে একমত যে জাহাজটি এখন যে পজিশনে আছে তাতে শান্তিপূর্ণ নেগোসিয়েশন ছাড়া আর কোনো সেফ এক্সিট নেই। তারপর আবার জাহাজভর্তি রয়েছে কয়লা। সরকার শুরু থেকেই সতর্ক ছিল, কারণ যেকোনো অভিযানে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা থাকে। জলদস্যুদের সঙ্গে যোগাযোগ, দরকষাকষির মতো বিষয়গুলো আগের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে খুব দ্রুতই সমাধান করতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুই পক্ষের হয়েই দরকষাকষি করবে মূলত বিশেষজ্ঞ প্যানেল। এটা এমন একটা মনস্তাত্ত্বিক লড়াই, যেখানে জলদস্যুদের পক্ষ থেকে চাওয়া মুক্তিপণ অন্যপক্ষ চেষ্টা চালাবে সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘২৩ নাবিককে নিরাপদে রাখার বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়েই এখন সমাঝোতার পথ খুলেছে। আন্তর্জাতিক নৌবাহিনী জলদস্যুদের বেশ চাপের মুখে রেখেছে। তবে সার্বিক বিবেচনায় সমাঝোতায় মুক্ত করা ছাড়া বিকল্প পথ খোলা নেই।