ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

ঈদের আগে পরিবারের কাছে ফিরতে চান জিম্মি নাবিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪:০৯, ১৫ মার্চ ২০২৪
ঈদের আগে পরিবারের কাছে ফিরতে চান জিম্মি নাবিকরা
ফাইল ফটো

জলদস্যুদের কবলে পড়া বাংলাদেশি জাহাজ ‘এমভি আবদুল্লাহ’ সোমালিয়া উপকূলের ৭ নটিক্যাল মাইল দূরে নোঙর করেছে। জলদস্যুরা ২৩ নাবিকসহ এমভি আবদুল্লাহ জাহাজটি তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় নিয়ে গেছে। সেখানে জাহাজের ব্রিজ থেকে ক্রুদের কেবিনে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে বলে জানা গেছে। আর এই সুযোগে এক নাবিক ভয়েস মেসেজ পাঠিয়েছে তার ভাইয়ের কাছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে নাবিকের ছোট ভাই এই ভয়েস মেসেজ পেয়েছেন। ভয়েস মেসেজে নাবিক জানান, তারা সুস্থ থাকলেও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

নাবিক বলেন, গতকাল একটি নেভি জাহাজ এসেছিল। আজকেও একটি নেভি জাহাজ এসেছিল। মোট দুটি সুসজ্জিত জাহাজ আমাদের রেসকিউ করতে চেয়েছিল। তবে তা সম্ভব হয়নি।

Advertisement

তিনি বলেন, ওরা (জলদস্যুরা) আমাদের জিম্মি করে রাখে, আমাদের মাথায় বন্দুক ধরে রাখে। নেভির বড় বড় ফ্রিগেট দেখেই ওরা আমাদের জিম্মি করে। এসব বড় জাহাজ দেখেও ওরা ভয় পায় না।

তিনি আরো বলেছেন, জলদস্যুরা এখন পর্যন্ত কাউকে আঘাত করেনি। তবে আমি যেখানে ঘুমাই সেখানে পাশ ফিরলেই দেখতে পাই যে আমার দিকে বড় বড় মেশিনগান তাক করে রেখেছে। এই অবস্থায় ঘুম যা হওয়ার হচ্ছে। তারপরও মানসিকভাবে চাপে থাকলেও সুস্থ থাকার চেষ্টা করছি। জাহাজে থাকা খাবার তাদের সঙ্গে জলদস্যুরাও খাচ্ছে এবং এর ফলে দ্রুত সময়ের মধ্যে তা শেষ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, এখনো খাবার আছে। কিন্তু যেহেতু জলদস্যুরাও আমাদের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করছে, আমাদের পানি ব্যবহার করছে, আমাদের খাবার আর কতদিন যাবে সেটা বলতে পারছি না। আর হয়তো ১০-১৫ দিন বড়জোর যেতে পারে। এরপর খাবার শেষ হয়ে গেলে আমরা খুব কষ্টে পড়ে যাব। পানি শেষ হয়ে গেলে খুব কষ্টে পড়ে যাব।

সোমালিয়া উপকূলে পৌঁছানোর পর ক্রু সদস্যদের সঙ্গে জলদস্যুদের ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠেছে জানিয়ে তিনি বলেন, আজকে আমরা সোমালিয়া এলাম। ওদের সঙ্গে আমাদের একটু ভালো রিলেশন হয়েছে। ওদের বলে কয়ে আমরা একটু কেবিনে এলাম। কিন্তু আবার ব্রিজে চলে যেতে হবে।

নাবিক আরো বলেন, আমি আশা করি— শিগগির পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারব। ঈদের আগে যেন পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারি, সেটাই আমরা চাই।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!