ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

একই চক্রের ১৬ বছরে ১০ বার প্রশ্নফাঁস: ৭ চিকিৎসকসহ গ্রেফতার ১২

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫:১৭, ১৩ আগস্ট ২০২৩
একই চক্রের ১৬ বছরে ১০ বার প্রশ্নফাঁস: ৭ চিকিৎসকসহ গ্রেফতার ১২
প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার কয়েকজন- ছবি: সংগৃহীত

মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত একদল চিকিৎসকসহ একটি চক্রকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। চক্রটি ২০০১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ১৬ বছরে মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার সময় কমপক্ষে ১০ বার প্রশ্নফাঁস করেছে। চক্রের সদস্যরা হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। 

গত ৩০ জুলাই থেকে ১০ দিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে প্রশ্নফাঁসে জড়িত ৭ চিকিৎসকসহ ১২ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ৯টি মোবাইল ফোন, ৪টি ল্যাপটপ, ২ লাখ ১১ হাজার টাকা, ১৫ হাজার একশ’ বিদেশি মুদ্রা থাই বাথ, বিভিন্ন ব্যাংকের ১৫টি চেক বই, ডেবিট- ক্রেডিট কার্ড ও ভর্তির অ্যাডমিট কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।

Advertisement

রোববার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ আলী মিয়া।

সিআইডি প্রধান বলেন, গত ৩০ জুলাই থেকে ১০ দিন ঢাকাসহ টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ ও বরিশাল জেলায় অভিযান চালিয়ে এ চক্রটির ১২ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে ৭ জনই ডাক্তার। তাদের সবাই বিভিন্ন মেডিকেল ভর্তি কোচিং সেন্টার, নয়তো প্রাইভেট পড়ানোর আড়ালে প্রশ্নফাঁস করতেন। ২০০১ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ১৬ বছরে অন্তত ১০ বার এই চক্রটি মেডিকেলের প্রশ্নফাঁস করেছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের কাছ থেকে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের দেওয়া বিপুল সংখ্যক ব্যাংকের চেক এবং অ্যাডমিট কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, প্রশ্নফাঁস চক্রের মাস্টারমাইন্ড জসীম উদ্দিন ভূঁইয়ার কাছ থেকে একটি গোপন ডায়েরি উদ্ধার করা হয়েছে। যেখানে সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা তার চক্রের অন্য সদস্যদের নাম রয়েছে। সেসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

সিআইডি প্রধান বলেন, পাবলিক পরীক্ষা সামনে এলেই একশ্রেণির চক্র বেশ সক্রিয় হয়ে ওঠে প্রশ্নফাঁস করার জন্য। এই চক্রটি নানা কায়দায় প্রশ্নফাঁস যেমন করে, তেমনি গুজব ছড়িয়ে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিভ্রান্তও করে। শিক্ষাখাতের ক্যান্সার হিসেবে বিবেচিত এসব প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রকে নির্মূল করতে কাজ করছে পুলিশ।

অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ আলী মিয়া বলেন, ২০২০ সালে মিরপুর মডেল থানায় করা এক মামলায় সম্প্রতি জানা যায়, চক্রের অন্তত ৮০ জন সক্রিয় সদস্য বিগত প্রায় ১৬ বছরে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে অবৈধ উপায়ে মেডিকেল কলেজগুলোতে ভর্তি করিয়ে শত কোটি টাকা আয় করেছে। প্রশ্নফাঁসের মাধ্যমে মেডিকেলে ভর্তি হয়েছেন এমন শতাধিক শিক্ষার্থীর নাম পেয়েছে সিআইডি। এর মধ্যে অনেকে পাস করে ডাক্তারও হয়েছেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআরকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!