তিনি কক্সবাজার জেলা মহেশখালী থানার গুলগুলিয়াপাড়ার মৃত আলী রেজার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন বলে জানান র্যাব কর্মকর্তারা।
বুধবার দুপুরে এক বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব-৭ এ তথ্য নিশ্চিত করে। এর আগে যুদ্ধাপরাধী আব্দুস শুককুরকে কক্সবাজারের রুমানিয়াছড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
.png)
র্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. নুরুল আবছার জানান, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় কক্সবাজার জেলার মহেশখালী এলাকায় গণহত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও লুটপাটসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ পাওয়ায় আব্দুস শুককুরের বিরুদ্ধে অপরাধের তদন্ত শুরু হয়।
দেশের বিভিন্ন স্থানে নাম-ঠিকানা পরিবর্তন করে ৮ বছর ধরে আত্মগোপন করেও শেষ রক্ষা হয়নি একাত্তরের পাক বাহিনীর দোসর আব্দুস শুককুরের।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আব্দুস শুককুরের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে ২১ মে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এর আগে তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।
র্যাব-৭ জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধে ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামিকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। গত ৩ জুলাই কক্সবাজার জেলা সদর থানার রুমানিয়াছড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে পলাতক আসামি আব্দুস শুককুরকে গ্রেফতার করা হয়।
আব্দুস শুককুর ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের বিপক্ষে সরাসরি অবস্থান নিয়ে কক্সবাজার জেলার মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও পেকুয়া এলাকায় বাংলাদেশের নিরীহ মুক্তিকামী মানুষকে হত্যাসহ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর হিসেবে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা, নির্যাতন, মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিলেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে মহেশখালীতে গণহত্যা, লুটপাট ও নির্যাতন করেছেন।
আব্দুস শুককুরকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে গ্রেফতার এড়াতে ছদ্মনাম ধারণ করে নাম ও ঠিকানা পরিবর্তন করে দীর্ঘ ৮ বছর যাবৎ দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করেছিলেন।
সর্বশেষ কক্সবাজার জেলার সদর থানা এলাকায় বসবাস শুরু করে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।