জানা গেছে, তিন বছর ধরে বাংলাদেশে জরায়ু ক্যান্সারের ভ্যাকসিন ‘সেরাভিক্স’ আমদানি বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে ‘জেনে ভেক বি’ এমনিতেই আমদানি নিষিদ্ধ হেপাটাইটিস বি ভ্যাকসিন। অথচ প্রতারক চক্র এই দুটি ভ্যাকসিনই বিক্রি করছে বাজারে। তবে তা আসল নয় নকল।
হেপাটাইটিস বি ভ্যাকসিনের একটি অ্যাম্পুল খুলে ১০টি জরায়ু ক্যান্সারের নকল ভ্যাকসিন তৈরি করে বিক্রি করছে অসাধু চক্রটি।
.png)
ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি জেলায় ছয় হাজার নারীকে এ নকল ভ্যাকসিন এরই মধ্যে প্রয়োগ করেছে চক্রটি। হাতিয়ে নিয়েছে কয়েক কোটি টাকা।
গোয়েন্দা পুলিশের কাছে গ্রেফতার পাঁচজন স্বীকার করেছে, প্রায় ১৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্প করে নকল টিকা দেওয়া হয়েছে। অথচ স্বাস্থ্য অধিদফতর, ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর; এমনকি সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিষয়টি সম্পর্কে জানতই না।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি প্রধান) হারুন অর রশিদ বলেন, এখন পর্যন্ত জরায়ু ক্যান্সারের নকল টিকা প্রয়োগকারী তিনটি প্রতিষ্ঠানের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। পুরো চক্রটিকে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছেন গোয়েন্দারা।
তিনি আরো বলেন, যারা মূল কাজটি করেছে তারা হলো— ডা. এআর খান ফাউন্ডেশন দারুস সালাম, আল নূর ফাউন্ডেশন দক্ষিণ খান ও পপুলার ভ্যাকসিন সেন্টার চেরাগআলী। আরো অনেকের নাম পেয়েছি; যারা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বাজারজাত করে এটি।
তবে বিষয়টি নজরে আসার পর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্টদের চিঠি দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ১৮ মার্চ ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের কর্মকর্তারা মিরপুরের এ আর খান ফাউন্ডেশন পরিদর্শনে গিয়ে নকল এ ভ্যাকসিনটির আলামত পেয়েছেন। বেসরকারি পর্যায়ে ভ্যাকসিনেশন করতে হলে ঔষধ প্রশাসন বা স্থাস্থ্য অধিদফতরের অনুমোদন থাকতে হবে। এসব নকল ভ্যাকসিন বাজারজাতকরণের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে অধিদফতর।