মাদারীপুরে বানর হত্যার ঘটনায় তদন্ত কমিটি
মাদারীপুর পৌরসভার মধ্যখাগদী এলাকায় খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে ১৫টি বানরকে হত্যার ঘটনায় ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন নাহার নাজীমকে প্রধান করে এই তদন্ত কমিটি গঠন করেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও ডিসি মো. ওয়াহিদুল ইসলাম।
কমিটিতে আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, অ্যাডিশনাল এসপি বদরুল আলম মোল্লা, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু বকর সিদ্দিক ও সহকারী বন সংরক্ষক (ভারপ্রাপ্ত সামাজিক বন কর্মকর্তা) তাপস কুমার সেনগুপ্ত।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে মাদারীপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চরমুগরিয়ার মধ্যখাগদি এলাকায় খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে ১৫টি বানর হত্যা করে স্থানীয়রা।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সামাজিক বন বিভাগের কর্মকর্তারা। পরে মৃত বানরের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য নিয়ে আসা হয় জেলা প্রাণি সম্পদ অফিসে। এ ঘটনায় সদর মডেল থানায় ফৌজদারি এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে আলাদা দুটি মামলা করে বন বিভাগ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মাদারীপুর শহরতলীর ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে শত বছর ধরে মানুষের পাশাপাশি বসবাস করে আসছে বানর। এ অঞ্চলে এখনো আড়াই হাজারের মতো বানর আছে। বানরের খাবরের তীব্র সংকট দেখা দেয়ায় বানরগুলো দলে দলে ভাগ হয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। কিছু বানরকে স্থানীয়রা স্বেচ্ছায় সকাল-বিকেল খাবার দেয়। তবে কিছু অভুক্ত বানর খাবার না পেয়ে তারা কিছু লোকের বাড়িতে প্রায়ই হানা দেয়। কখনো কখনো ঘরে ভেতরে প্রবেশ করে খাবার ছিনিয়ে খায়। বানরের উৎপাত সহ্য করতে না পেরে অনেকেই বানরগুলোকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুঁড়ে মারলে বানরগুলো ভয়ে পালিয়ে যায়। কিন্তু সম্প্রতি ঘটছে ভিন্ন ঘটনা।
মাস তিনে আগেও অন্তত ৫টি বানরকে খাবারের সঙ্গে বিষ দিয়ে মেরে ফেলা হয়। তখন বিষয় মানুষের মধ্যে জানাজানি না হলেও মঙ্গলবার বিকেলে খাবারে বিষ দিয়ে বানর মেরে ফেলার বিষয়টি নজর আসে স্থানীয়দের। মৃত অবস্থায় গত দুদিনে উদ্ধার হওয়া ১৫টি বানরকে মধ্য খাদগী এলাকার একটি খাল পাড়ে মাটি চাপা দেয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় গণ্যমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরে তদন্ত কমিটির গঠন করলো জেলা প্রশাসন।
ডিসি মো. ওয়াহিদুল ইসলাম জানান, খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে অমানবিকভাবে ১৫টি বানর হত্যা ও জীববৈচিত্র ধ্বংস এবং আইনশৃঙ্খলা অমান্যসহ সার্বিক বিষয় সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে তদন্ত কমিটিকে বলা হয়েছে। তারা প্রতিবেদন জমা দেয়ার পরে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।