ঢাকা,  বুধবার   ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

পটুয়াখালীতে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবির অভিযোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:২৮, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
পটুয়াখালীতে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবির অভিযোগ
পটুয়াখালীতে স্বামীর বিরুদ্ধে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রেশমা আক্তার। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পটুয়াখালীতে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় ব্যবহার করে স্ত্রীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে রাকিব সিকদার নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্বামীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন তার স্ত্রী মোসা. রেশমা আক্তার। তবে অভিযুক্ত রাকিব সিকদার এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকায় কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) পটুয়াখালীর একটি স্থানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে প্রশাসন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন রেশমা।

রেশমা আক্তার পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার শ্রীরামপুর এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম মো. শহিদ হাওলাদার। অভিযুক্ত রাকিব সিকদার জেলার কমলাপুর ইউনিয়নের ইদ্রিস সিকদারের ছেলে।

সংবাদ সম্মেলনে রেশমা জানান, রাকিবের সঙ্গে দুই বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর ২০২২ সালের ৭ আগস্ট স্থানীয় এক ইমামের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। বিয়েতে তিন লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছিল। দুই পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিয়ের পর তাদের দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিকভাবেই চলছিল বলে দাবি করেন তিনি।

রেশমার অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় রাকিব চাকরির জন্য ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। ওই সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরে পরিবারের সদস্যরা তার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে জুলাই আন্দোলনে আহত ব্যক্তি হিসেবে সরকারি ভাতা পাওয়ার পর রাকিবের আচরণে পরিবর্তন আসে বলে দাবি করেন রেশমা।

তিনি অভিযোগ করেন, এরপর বিভিন্ন সময় তাকে মারধর করা হতো এবং বাবার কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হতো। টাকা দিতে না পারায় তাকে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। একপর্যায়ে রাকিব তার পরিবারের সদস্যদের ফোন করেও টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রেশমার ভাষ্য, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হয়। এসব বৈঠকে রাকিব তাকে আর সংসারে রাখতে চান না বলে জানান। সংসার করতে হলে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে বলেও দাবি করেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলেও রাকিব তার অবস্থান থেকে সরে আসেননি বলে অভিযোগ করেন রেশমা।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সালিশ বৈঠকে রাকিব নিজেকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দিয়ে দাবি করেন, তাকে কেউ কিছু করতে পারবে না। আইন-আদালত জুলাই যোদ্ধারাই পরিচালনা করেন বলেও তিনি বক্তব্য দেন বলে দাবি রেশমার। টাকা না দিলে তাকে ঘরে ফিরিয়ে নেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়। এসব ঘটনার সাক্ষী রয়েছেন বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী।

রেশমা জানান, নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে এ ঘটনায় আদালতে একটি সিআর মামলা করেন। তার অভিযোগ, মামলা দায়েরের পরও রাকিব আদালতে হাজির হননি। পাশাপাশি মামলার সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে আদালতে যেতে বাধা দেওয়ারও অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে রেশমা আক্তার বলেন, ‘আমি অসহায় অবস্থায় বাবার বাড়িতে দিন কাটাচ্ছি। জুলাই যোদ্ধা পরিচয় ব্যবহার করে আমার ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে আমি অভিযোগ করছি। আমি প্রশাসন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচার চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে রাকিব সিকদারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এটা নিয়ে আদালতে মামলা চলছে, তাই কোনো কথা বলতে পারব না।’

রেশমা আক্তার অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের দাম্পত্য জীবনের অধিকার ফিরে পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!