ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

[ আইন-আদালত ]

সীতাকুণ্ডে শ্বাসনালী কেটে শিশু হত্যায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত: ১৬:৫৭, ৯ জুলাই ২০২৬
সীতাকুণ্ডে শ্বাসনালী কেটে শিশু হত্যায় আসামির মৃত্যুদণ্ড
আসামি বাবু শেখ।ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আট বছর বয়সী শিশু ইরা মনিকে শ্বাসনালী কেটে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত বাবু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আলোচিত এই মামলায় হত্যাকাণ্ডের মাত্র চার মাসের মাথায় রায় ঘোষণা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস এ রায় দেন।

ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী আব্বাস হোসেন জানান, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত বাবু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ধারায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৯ ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

নিহত ইরা মনির বাড়ি সীতাকুণ্ড উপজেলার ছোট কুমিরা মাস্টারপাড়ায়। তার বাবা মনিরুল ইসলাম পেশায় টমটম চালক। ইরা স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১ মার্চ সকালে চকলেট কিনে দেওয়া ও ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ইরা মনিকে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যায় পাশের বাসায় ভাড়া থাকা বাবু শেখ। পরে বাসে করে কুমিরা থেকে সীতাকুণ্ডে গিয়ে বোটানিক্যাল গার্ডেনসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যায় সে।

পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। ইরা বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা কেটে পাহাড়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত।

সেদিন দুপুরে পাহাড়ে সড়ক সংস্কারকাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা রক্তাক্ত অবস্থায় ইরা মনিকে দেখতে পান। আহত অবস্থায় শিশুটি জঙ্গল পেরিয়ে শ্রমিকদের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিল। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ৩ মার্চ তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার দিনই তদন্তে নেমে ৩ মার্চ দুপুরে কুমিরা এলাকা থেকে বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মধ্যম পুলুপাড়া গ্রামে। তিনি ইরা মনির পরিবারের পাশের ঘরে ভাড়া থাকতেন।

চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন সে সময় এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ইরা মনির বাবা মনিরুল ইসলামের সঙ্গে পূর্ব বিরোধের জেরে শিশুটিকে হত্যার পরিকল্পনা করে বাবু শেখ। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তাকে পাহাড়ে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা এবং পরে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করা হয়।

মামলার তদন্ত শেষে ১১ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ১৮ জুন অভিযোগ গঠন করা হয় এবং ২১ জুন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মোট ছয় কার্যদিবসে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ৩০ জুন আসামির সাফাই সাক্ষ্য নেওয়া হয়। ২ জুলাই যুক্তিতর্ক শেষ হলে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। অবশেষে আজ বৃহস্পতিবার আদালত বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কে কে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!