অন্যান্য আসামিরা হলেন- ইসলামী ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর আকিজ উদ্দিন ও মিফতাহ উদ্দিন ও ই.ভি.পি মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহ। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা অনেককে আসামি করা হয়েছে।
বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকী আল ফারাবীর আদালতে ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান বাদী হয়ে এ মামলা করেন। আদালত মামলার এজাহার গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
.png)
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আসামি আকিজ উদ্দিন ও মিফতাহ উদ্দিন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ডি.এম.ডি এবং আসামি নেয়ামত উল্লাহ ই.ভি.পি পদে অবৈধ নিয়োগের মাধ্যমে নিযুক্ত ও পদোন্নতিপ্রাপ্ত হয়ে কর্মরত ছিল। আসামিরা উক্ত ব্যাংকে বিভিন্ন পদে দায়িত্বপালন করার সময় নানাবিধ কুকর্ম, অপরাধ, ঋণ কেলেঙ্কারি, অনিয়ম ও বেআইনি কার্যকলাপে লিপ্ত হয়। এছাড়াও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নানাবিধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে ব্যাংকের আর্থিক ও ব্যবসায়িক সুনামের ক্ষতি করে।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ আগস্ট সকাল ৯টা থেকে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ব্যাংকের ৩০০-৪০০ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী ব্যাংকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের বৈষম্য, অনিয়ম এবং বেআইনি কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিচারের দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিল। কর্মসূচি চলাকালে আনুমানিক বেলা ১১টায় আসামি রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে ব্যাংকে অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ও ঋণ কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত ডিএমডি আসামি আকিজ উদ্দিন, আসামি ডিএমডি মিফতাহ উদ্দিন এবং আসামি মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহ (ইভিপি) সহ আনুমানিক অজ্ঞাত আরো দুই শতাদিক দুর্বৃত্তরা পূর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসাবে ব্যাংকের সামনে অবস্থানকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হত্যা, আঘাত এবং ডাকাতির উদ্দেশ্যে দেশীয় এবং বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রে সুসজ্জিত হয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় উপরিউক্ত আসামিরা দুর্বৃত্তদের কয়েকজনকে নির্দেশ দিলে তারা বিক্ষিপ্তভাবে প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থানরতদের উপর গুলিবর্ষণ করে এবং বেধড়ক মারধর শুরু করে। এতে করে বাদী ব্যাংক কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমানসহ কয়োকজন গুলিবিদ্ধ হন। তারা হলেন- ব্যাংকের গোডাউন গার্ড শফিউল্লাহ সরকার, মো. এনামুল হক, অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিনিয়র অফিসার আব্দুর রহমান ও বাকী বিল্লাহ।
এ সময় সন্ত্রাসীরা ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন বন্ধ না করলে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে। এদিকে গোলাগুলির শব্দ শুনে আশপাশে কর্তব্যরত সেনাসদস্যরা ঘটনাস্থলে আসলে আসামিরা পালিয়ে যায়। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধি আইনের ৩৪/১৪১/২৯৯/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৩৯৬/৩৯৭/৩৯৮/ ৪০২ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।