ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আইন-আদালত ]

পরীমনির বিরুদ্ধে নাসিরের মামলা, তদন্ত কর্মকর্তাকে শোকজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০:০৩, ২৩ আগস্ট ২০২৩
পরীমনির বিরুদ্ধে নাসিরের মামলা, তদন্ত কর্মকর্তাকে শোকজ
পরিমনি- ফাইল ফটো

হত্যাচেষ্টা, মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করায় তদন্ত কর্মকর্তাকে শোকজ করেছেন আদালত। আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে স্বশরীরে আদালতে এসে তদন্ত কর্মকর্তাকে এ বিষয় ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাবেয়া বেগমের আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। এদিন সিআইডি প্রতিবেদন দাখিল করেনি। এজন্য মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে শোকজ করেন বিচারক। তদন্ত কর্মকর্তার নাম নথিতে যুক্ত না হওয়ায় সিআইডি সদর দফতর বরাবর এ শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়। একই সঙ্গে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১১ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন।

২০২২ সালের ১৮ জুলাই ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসান সিআইডিকে) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর আগে, ৬ জুলাই একই আদালতে পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন ঢাকা বোট ক্লাবের সভাপতি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ। মামলার অন্য দুই আসামি হলেন- পরীমনির সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম।

Advertisement

বাদী নাসির উদ্দিন মাহমুদ মামলায় উল্লেখ করেন, পরীমনি ও তার সহযোগীরা মাদক সেবনে অভ্যস্ত। তারা সুযোগ বুঝে বিভিন্ন নামিদামি ক্লাবে ঢুকে মদপান করেন এবং পার্সেল নিয়ে মূল্য পরিশোধ করেন না। পরীমনি তার পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তাদের দিয়ে মিথ্যা মামলা করিয়ে হয়রানির ভয় দেখান। ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর আসামিরা ঢাকা বোট ক্লাবে ঢোকেন এবং দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহার করেন। পরে তারা ক্লাবের ভেতর বসে মদপান করেন।

মামলায় আরো বলা হয়, বাদী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তার সহযোগী শাহ শহিদুল আলম রাত ১টা ১৫ মিনিটে ক্লাব ত্যাগ করার সময় পরীমনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে নাসিরকে ডাক দেন। তাদের সঙ্গে কিছু সময় বসারও অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে পরীমনি অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে নাসিরকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি একটি ব্লু লেবেল মদের বোতল বিনামূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য চাপ দেন। কিন্তু নাসির উদ্দিন এতে রাজি না হওয়ায় পরীমনি তাকে গালমন্দ করেন। বাদানুবাদের এক পর্যায়ে পরীমনি বাদীর দিকে একটি গ্লাস এবং হাতে থাকা মোবাইল ফোন ছুড়ে মারেন। এতে নাসির মাথায় এবং বুকে আঘাত পান।

বাদী আরো উল্লেখ করেন, পরীমনি ও তার সহযোগীরা তাকে (নাসির উদ্দিনকে) মারধর ও হত্যার হুমকি দেন এবং ক্লাবে ভাঙচুর করেন। এ ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ২০২১ সালের ১৪ জুন পরীমনি সাভার থানায় নাসির উদ্দিনসহ দুইজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। ঐ বছরের ৬ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নাসিরসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন।

২০২২ সালের ১৮ মে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯ এর বিচারক হেমায়েত উদ্দিন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। অভিযোগ গঠনের সময় নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন নাসিরসহ তিন আসামি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!